আয়িশা কি নয় বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন?

Table Of Contents
hide

ভূমিকা

ইদানিং কালে এক ধরণের বিব্রত চেহারার মুসলিমদের দেখতে পাওয়া যায়, যারা নানান কৌশলে ইসলাম ধর্মে শিশু বিবাহের বিষয়টিকে ধামাচাপা, নয়তো তা সম্পর্কে মনগড়া কথা বলার চেষ্টা করেন। তারা প্রায়শই বলবার চেষ্টা করেন যে, ইসলামে শিশু বিবাহ থাকলেও যৌন কর্মের জন্য নারী শিশুটির প্রাপ্তবয়ষ্ক বা সাবালিকা হওয়া জরুরি। এই বিষয়টিকে তুলে ধরার জন্য তারা বলেন, হযরত আয়িশা ৯ বছর বয়সেই বয়ঃসন্ধিকালে পৌছে গিয়েছিলেন, কারণ সেই সময়ে নাকি অল্প বয়সেই মেয়েরা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে যেতো। যা একেবারেই ভিত্তিহীন কথা। ইসলামে শিশু মেয়েদের বিবাহের নির্দিষ্ট কোন বয়সসীমা নেই, এবং মেয়েটির সাথে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক অবস্থায় বয়ঃসন্ধিকালে না পৌঁছালেও যৌনকর্মে কোন বাধা নেই। সেই বিষয়টি নিয়েই এই লেখাটিতে আলোচনা করবো।

প্রাপ্তবয়ষ্ক কাকে বলে?

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় যে, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো এবং প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া ভিন্ন বিষয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার একটি ধাপ, যা আসলে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া বোঝায় না। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো মানেই ধরে নেয়া হয় সাবালিকা বা প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে যাওয়া। যদিও আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা অনুসারে কথাটি সত্য নয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার লক্ষণের সুচনা। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হচ্ছেন একজন মানুষ যার তুলনামূলকভাবে পরিণত বয়স হয়েছে যা যৌন পরিপক্কতা ও পুনরূপাৎদনের ক্ষমতা অর্জনের সাথে জড়িত। একজন নারী বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছালেই সে সন্তান জন্ম দেয়ার পরিপক্কতা অর্জন করে না। বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাবার পরে তার শরীর সন্তান জন্ম দানের উপযুক্ত হতে সবে শুরু করে। এই প্রক্রিয়া কারো কারো ক্ষেত্রে ৩ আবার কারো কারো ক্ষেত্রে ৫ বছরে পূর্ণতা পায়। কিন্তু ইসলামে মেয়েদের সাথে যৌনকাজের জন্য বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোও জরুরি কিছু নয়। সেই বিষয়েই এই লেখাটি।

মধ্যযুগে মেয়েরা আগে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাতো?

অনেক ইসলামিক স্কলারই দাবী করেন যে, প্রাচীনকালে বা মধ্যযুগে মেয়েরা আগে আগে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছে যেতো! প্রমাণ হিসেবে উনারা বলেন, উনাদের দাদী নানীরা অল্পবয়সে মা হতেন, রবীন্দ্রনাথ বা বঙ্কিমচন্দ্রের অল্পবয়সে বিয়ে হয়েছিল, সেইসব নারীদের অনেকেই মা হয়েছিলেন; এগুলোই নাকি প্রমাণ করে যে, আগের দিনে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি আগে আগে হতো। মানে, তারা ৭/৮ বছর বয়সেই নিয়মিত যৌনকর্ম এবং সন্তান জন্মদানে পরিপক্ক হয়ে যেতো। এর মানে তারা বলতে চান, মেয়েরা আগে আগেই প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে যেতো। যদিও বয়ঃসন্ধি হওয়া মানেই প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া নয়। কারণ বয়ঃসন্ধি হচ্ছে কয়েকবছর ব্যাপী একটি শরীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়া। এই বয়সটিতে ছেলেমেয়েরা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ থাকে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং প্রায়শই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মানে হচ্ছে, উনারা দাবী করেন, এখন যদি কোন অঞ্চলে মেয়েরা ১২ বছরে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়, আগের কালে ৭/৮ বছরেই পোঁছে যেতেন। অথচ, বর্তমান সময়ের বিভিন্ন রিসার্চ পেপারে দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো কথা। আধুনিক গবেষণাতে এটি প্রমাণিত যে, আগের কালে মেয়েদের শরীরে খাদ্যাভাব এবং অপুষ্টিজনিত কারণে পিরিয়ড আরো দেরীতে হতো। বর্তমান সময়ে সুষমখাদ্য, পুষ্টিগুণ যাচাই, নানা ধরণের ভিটামিন এবং অন্যান্য ঔষধের কারণে মেয়েদের শরীরে পুষ্টির মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনি খুব সহজেই এর প্রমাণ পাবেন, যদি গত ৫০ বছরের মাতৃমৃত্যুর হার যাচাই করে দেখেন। মাতৃমৃত্যুর হার বাঙলাদেশে এখন আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এর কারণ হচ্ছে, আগের চেয়ে এখন মেডিকেল ফ্যাসিলিটি, পুষ্টিকর খাবার, ভিটামিন এবং অন্যান্য বিষয় সহজলভ্য হয়েছে। এসব কারণে, বর্তমান সময়েই বরঞ্চ পিরিয়ড হচ্ছে দ্রুত। যেসব দেশের মেয়েরা পর্যাপ্ত পুষ্টি, খাদ্য, ঔষধ পাচ্ছে, সেসব দেশে মেয়েরা আরো আগে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাচ্ছে। নিচের গবেষণাগুলো এই বিষয়টি বেশ ভালভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। বেশ কিছু রিসার্চ পেপার যুক্ত করা হলো, আগ্রহী পাঠকগণ সময় পেলে পড়ে দেখবেন। [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9]

একইসাথে, বেশ কিছু ইসলামিক স্কলারগণের আরেকটি দাবী হচ্ছে, গরমের দেশে আম কাঁঠাল যেমন আগে আগে পেকে যায়, মেয়েরাও নাকি আগে আগে পেকে যেতো। এই কথাটিও মিথ্যা। গরমের সাথে বয়ঃসন্ধির কোন সম্পর্ক আছে, বা গরম তাপমাত্রা বয়ঃসন্ধি আগে হওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব বিস্তার করে, সেটি কোন গবেষনাতেই পাওয়া যায় নি। বরঞ্চ, উষ্ণতার সাথে বয়ঃসন্ধির যে কোন সম্পর্ক নেই, এরকম অসংখ্য তথ্য তারা পেয়েছেন। পাঠকদের কাছে উপরের রিসার্চ পেপারগুলো যাচাই করে দেখার অনুরোধ রইলো।

বাল্যবিবাহ মেয়েদের জন্য মৃত্যুদণ্ড

ইউনিসেফ শিশু বিবাহকে মেয়েদের জন্য এক প্রকারের মৃত্যুদণ্ড বলে ঘোষনা দিয়েছে [10] । কেন এরকম ঘোষণা তারা দিলেন? এর কারণ বিশ্লেষণের জন্য কয়েকটা বিষয় ভালভাবে বুঝে নেয়া দরকার।

আমাদের অনেকের মধ্যে অনেক বদ্ধমূল ভুল ধারণা রয়েছে যে, গরম দেশে মেয়েরা দ্রুত বয়ঃসন্ধিতে অবতীর্ণ হয়! অনেক মোল্লাকেও দেখবেন ওয়াজ মাহফিলে বলতে, গরম দেশে যেমন আম কাঠাল তাড়াতাড়ি পাঁকে, মেয়েরাও গরম দেশে অল্প বয়সে পেঁকে যায়।  কিন্তু, বিষয়টি পুরোই ভুল ধারণা। প্রথমত, মেয়েরা আম কাঁঠাল নয়। দ্বিতীয়ত, গ্রীষ্ম প্রধান দেশে মেয়েরা আগে আগে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়, শীতপ্রধান দেশে ধীরে ধীরে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়, এরকম কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। বয়ঃসন্ধিতে মেয়েদের মধ্যে কেউ কেউ খানিকটা আগেই চলে আসতে পারে, যার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করে। সেগুলো দেশের উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে, এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

প্রথমেই আমাদের যা জানা প্রয়োজন, তা হচ্ছে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি কিভাবে হয়। বয়ঃসন্ধি বা পিউবার্টি কী তা আমরা সকলেই কমবেশী জানি এবং বুঝি। আমরা অনেকে এটাও জানি যে, পিউবার্টির সময়ে নানাবিধ হরমোনাল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একজন মানুষ যায় এবং এই সব হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে তার শরীরে এবং মনে নানা ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্যণীয় হয়ে ওঠে। মনে রাখা দরকার, পিউবার্টি কোন আকস্মিক ঘটনা নয়, এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কয়েকটি ধাপ রয়েছে, যেই ধাপগুলো পূর্ণ করা প্রয়োজন।

একটি মেয়ে ৮-১০ বছর বয়সে তার মস্তিস্কের হিপোথেলামাস অংশটি গোনাড্রোপিন নামের একটি হরমোন নিঃসরন শুরু করে। এই হরমোনটির কারণে তাদের রক্তে লুটেইনাইজিং হরমোন এবং ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়। এই হরমোনগুলো তার ডিম্বাশয়ে পৌঁছালে ডিম্বাশয় এস্ট্রোজেন উৎপাদন করার জন্য সক্রিয় হয়।

এই সময়ে শুরু হয় তাদের শরীরকে গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত করে তোলার প্রক্রিয়া। এর সাথে সাথে আরো কিছু হরমোন নিঃসরণ হতে থাকে, যা মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটায়। অনেক সময় এই প্রক্রিয়াটি বয়সের চাইতে আগেও হয়ে যেতে পারে। তখন তাকে বলে প্রিকোশিয়াস পিউবার্টি। তবে তা হয়ে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। কারণ এরকম হওয়ার প্রধানতম কারণগুলো হচ্ছে নানা ধরণের অসুখ বিসুখ, ইনফেকশন, রেডিয়েশন। সেই সাথে, আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া। অথবা, তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া।[11]

একটি শিশু মেয়ে যদি অতি অল্প বয়সেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, প্রায়শই দেয়া যায় তারা তাদের মামা চাচাদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, বা তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেই সময়ে তাদের মস্তিষ্কে কিছু ভুল মেসেজ যায়। মানুষের মস্তিষ্ক জানে না, এটি যৌন নির্যাতন নাকি স্বেচ্ছায় যৌনতা। মস্তিষ্ক তখন এই বিষয়ে একটিভ হয়ে ওঠে, এবং শরীরকে দ্রুত যৌনতার জন্য উপযুক্ত করে তোলার জন্য জরুরি হরমোনগুলো নিঃসরণ করতে শুরু করে দেয়। যা মেয়েটির ভবিষ্যত জীবন ধ্বংস করে ফেলতে পারে।

একটা মেয়ে যখন বড় হতে থাকে, বড় হওয়ার সাথে সাথে তার শরীরের হাড়গুলো গঠিত হতে থাকে। একটা শিশুর শরীরে ৩০০ এর বেশি হাড় থাকে, কিন্তু একজন মানুষ যখন পূর্ণ বয়ষ্ক হন তখন তার হাড় থাকে ২০৬ টা। এই হাড়গুলো প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া পর্যন্ত গঠিত হয়। মানে, একদিন হঠাৎ করে গঠিত হয়ে যায় না। বা পিরিয়ড হলেই হাড়গুলো সুগঠিত হয়ে যায় না। বয়ঃসন্ধির এই সময়টিতে ধীরে ধীরে গঠিত হতে থাকে। একটি মেয়ের ক্ষেত্রে, পেলভিক ফ্লোর এই সময়ে গঠিত হয়। যা বাচ্চা জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিষয়টি এমন নয় যে, একদিন একটি মেয়ের পিরিয়ড হওয়া শুরু হলো, আর সাথে সাথে মেয়েটি সেক্স এবং বাচ্চা জন্ম দেয়ার জন্য উপযুক্ত হয়ে গেল। পুরো বিষয়টা ধীর গতির একটি প্রক্রিয়া, এবং এর এক একটি ধাপ রয়েছে। একটি ধাপ পরের ধাপের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু একটি মেয়েকে খুব ছোট বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হলে, বা নিয়মিত যৌন নির্যাতন করা হলে, বা বিয়ে দিয়ে স্বামীর যৌন চাহিদা মেটাতে হলে তার মস্তিষ্ক খুব দ্রুত তার শরীরকে যৌনতার জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করে। কিন্তু এই সময়ে যেই সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হচ্ছে, মেয়েটির শারীরিক বৃদ্ধির জন্য যেই হরমোন নিঃসরণ প্রয়োজন, তা প্রায়শই শরীর বন্ধ করে দেয়। মানুষের মস্তিষ্ক এই সময়ে মনে করে, মেয়েটি যথেষ্ট বড় হয়েছে, সন্তান ধারণের উপযুক্ত হয়েছে, এখন আর শারীরিক বৃদ্ধির হরমোনের প্রয়োজন নেই।

ভারতের অনেকগুলো পতিতালয়ে দেখা গেছে, অল্প বয়সী মেয়েদের নানা ঔষধ খাইয়ে, ইঞ্জেকশন দিয়ে তাদের শরীরে দ্রুত পিউবার্টি আনার চেষ্টা করা হয়। সেই সমস্ত মেয়েদের স্তন এবং শরীরের অন্য অংশ অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে, কিন্তু তাদের শরীরের হাড় বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ করে দেয়। এই কারণে এই ধরণের মেয়েরা প্রায়শই খর্বাকার হয়। আমাদের গ্রামাঞ্চলে এই কথাটি আপনি নানী দাদীদের মুখে প্রায়ই শুনে থাকবেন যে, যে সকল মেয়ের আগে আগেই পিউবার্টি চলে আসে, তারা আর বেশী লম্বা হয় না।

আরো বড় সমস্যা অপেক্ষা করে এদের জন্য, বয়স হওয়া শুরু হলে, বা সন্তান জন্মদানের সময়। পেলভিক ফ্লোর ঠিকমত গঠিত হওয়ার আগেই শরীর বৃদ্ধির হরমোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এদের বাচ্চা জন্ম দেয়া একটি বিভীষিকাময় ঘটনা হয়ে ওঠে। অসংখ্য জটিলতা এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে এই ধরণের মেয়েদের সন্তান জন্ম দেয়ার সময়। যা একজন পুরুষ কখনো কল্পনাও করতে পারবে না, এরকম ব্যথা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এমনকি, মেয়েটি প্রাপ্তবয়ষ্ক হয়ে সন্তান জন্ম দিতে গেলেও ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ তার শরীর বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই বয়ঃসন্ধি চলে এসেছে, বয়ঃসন্ধি মেয়েটি অতিক্রম করেছে অতি দ্রুত, এবং শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এই ধরণের মেয়েদের খুব স্বাভাবিকভাবেই মেরুদণ্ডে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা, হাঁটুর জয়েন্ট ক্ষয় হয়ে যাওয়ার মত সমস্যায় পরেন। এদের সন্তানরা হাবাগোবা বা নানারকম প্রতিবন্ধী হতে পারে। কারণ এদের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে নি, তাই সন্তানকে পেটে থাকা অবস্থায় এই ধরণের মেয়েরা স্বাভাবিক পুষ্টির যোগানও দিতে পারেন না। এদের সন্তানগণের রোগব্যধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ইমিউন সিস্টেমও অনেক দুর্বল হতে পারে। [12]

তাই, বাল্যবিবাহ এবং শিশু বয়সেই নিয়মিত যৌন সম্পর্ক একটি শিশু মেয়ের পরবর্তী জীবনকে শুধু ধ্বংসই করে না, একটি পুরো প্রজন্মকেও ধ্বংস করে। একটি ৫-৬ বছরের মেয়ের জীবন হবে সুন্দর, রঙিন। সে হাসবে, খেলবে, পড়ালেখা করবে। সে মাঠে ময়দানে দৌঁড়াবে, সাঁতার কাটবে, লাফাবে ঝাঁপাবে। ধীরে ধীরে তার শরীর গঠিত হতে থাকবে। সেই পুষ্টিকর খাবার খাবে, তার শরীরের হাড়গুলো ধীরে ধীরে শক্ত হতে থাকবে। ৯-১০ বছর বয়সেই তার শরীরে নানা ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। এবং এই পরিবর্তন ঘটবে ধীরে ধীরে। একটা সময়ে সে খুব দ্রুত লম্বা হতে থাকবে। এরপরে একটা সময় মস্তিষ্ক বুঝতে পারবে, শরীরের হাড়িগুলো ঠিকমত গঠিত হয়ে গেছে। এরপরে তার লম্বা হওয়ার হার কমতে থাকবে, এবং তার চেহারায় নারীসূলভ অভিব্যক্তি প্রকাশিত হতে থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়া চলতে থাকবে ১৮-১৯ বছর পর্যন্ত। যতদিন সে লম্বা হতেই থাকবে। সেই সময়ে তার শরীর নতুন হরমোনগুলোর সাথে ধীরে ধীরে এডোপ্ট করবে, এবং তার কিছুটা আগেই সে যৌনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, এই বয়সেই যেন সে সন্তান ধারণ না করে। গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত সময়ও এটি নয়। তা আরো পরে।[13]

সুন্নতী বাল্যবিবাহের পক্ষে আন্দোলন

বহুবছর ধরেই বাঙলাদেশের ইসলামিস্টগণ বাল্যবিবাহের পক্ষে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের স্লোগানে তারা দাবী করছে, যেহেতু এটি নবীর সুন্নত, তাই একে নিষিদ্ধ করা যাবে না। মুমিন ভাইদের নাকি অধিকার রয়েছে, বাল্যবিবাহ করার এবং তাদের মেয়ে বাচ্চাদের বিয়ে দেয়ার। আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ওলামা লীগ এই নিয়ে অনেকদিন ধরেই মাঠ গরম করছে। তাদের দাবী হচ্ছে, সুন্নতী বাল্যবিবাহকে আইনগত বৈধতা দিতে হবে, যেন তারা অবাধে পেডোফিলিয়ার চর্চা চালিয়ে যেতে পারে! [14]

সেইসাথে আরো বিব্রতকর খবর হচ্ছে, সৌদি আরবে বাচ্চা মেয়েদেরও বোরখা পড়তে সৌদি ইসলামিক স্কলারগণ নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, বাচ্চা মেয়েদের দেখলেও [15] [16]

বাল্যবিবাহ সুন্নত
সুন্নতী বাল্যবিবাহ

আয়িশার বয়স কত ছিল?

বিভিন্ন সহীহ হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে মুহাম্মাদের সাথে আয়িশার বিবাহের সময় আয়িশার বয়স ছিল ছয় বছর এবং যখন আয়িশার বয়স নয় বছর। নয় বছর বয়সেই তিনি মুহাম্মাদের সাথে যৌনসঙ্গম করেন [17]

হিশাম এর পিতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনার দিকে বের হওয়ার তিন বছর আগে খাদীজাহ (রাঃ)-এর মৃত্যু হয়। তারপর দু’বছর অথবা এর কাছাকাছি সময় অতিবাহিত করে তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন। যখন তিনি ছিলেন ছয় বছরের বালিকা। তারপর নয় বছর বয়সে বাসর উৎযাপন করেন।
Narrated Hisham’s father: Khadija died three years before the Prophet (ﷺ) departed to Medina. He stayed there for two years or so and then he married `Aisha when she was a girl of six years of age, and he consumed that marriage when she was nine years old.
সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৩৮৯৬

উল্লেখ্য, বাসর উদযাপন বলতে যৌনকর্মের মাধ্যমে বিবাহকে কনজ্যুমেট করা বোঝানো হয়েছে [18]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. পিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে
৩৩৭০-(৬৯/১৪২২) আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলা ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহু (রহিমাছমাল্লাহ) … আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেছেন, আমার বয়স তখন ছয় বছর। তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘরে যান, তখন আমার বয়স নয় বছর। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা হিজরাত করে মাদীনায় পৌছার পর আমি একমাস যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম এবং আমার মাথার চুল পড়ে গিয়ে কানের কাছে (কিছু) থাকে। (আমার মা) উম্মু রূমান আমার নিকট এলেন, আমি তখন একটি দোলনার উপরে ছিলাম এবং আমার কাছে আমার খেলার সাখীরাও ছিল। তিনি আমাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকলেন, আমি তার নিকট গেলাম।
আমি বুঝতে পারিনি যে, তিনি আমাকে নিয়ে কী করবেন। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে দরজায় নিয়ে দাঁড় করালেন। আমি তখন বলছিলাম, আহ, আহ। অবশেষে আমার উদ্বেগ দূরীভূত হল। তিনি আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আনসার মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলে আমার কল্যাণ ও রহমাতের জন্য দুআ করলেন এবং আমার সৌভাগ্য কামনা করলেন। তিনি (মা) আমাকে তাদের নিকট সমর্পণ করলেন। তারা আমার মাথা ধুয়ে দিলেন এবং আমাকে সুসজ্জিত করলেন। আমি কোন কিছুতে ভীত শংকিত হইনি। চাশতের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং তারা আমাকে তার নিকট সমর্পণ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

আয়িশার হাদিস, নাবালিকা কন্যার বিবাহ

বর্তমানে কিছু মুসলিম বলার চেষ্টা করে যে নয় বছর বয়সে আয়িশা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর পর মুহাম্মাদ তাঁর সাথে যৌনসঙ্গম করে এবং ইসলামে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর আগে যৌনসঙ্গম করা নিষিদ্ধ। কিন্তু, কুরআন, হাদীস অথবা প্রাচীন আলেমদের বক্তব্যে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা পাওয়া যায়না। বরং দেখা যায় যে অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনদাসীদের সাথে সঙ্গম করা সাহাবীদের কাছে সাধারণ ঘটনা ছিল [19]

আরবে বছরের হিসেব কীভাবে হতো?

প্রাচীন আরবে মানুষের বছর গণনা ছিল চন্দ্রবছরের হিসেব ধরে। চন্দ্রবছরকে ইংরেজিতে বলা হয় Lunar Years, আর আমরা বর্তমান সময়ে যেভাবে বছর গণনা করি সেটিকে বলা হয় সৌর বছর বা Solar Years। নবী মুহাম্মদের সময় মানুষের বয়স গণনা করা হতো চন্দ্রবছরের হিসেবে। সমস্যা হচ্ছে, চন্দ্র বছরের হিসেবে বছরে হচ্ছে ৩৫৪ দিন, আর বর্তমানে সৌর বছরে সর্বমোট দিন হচ্ছে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। কিন্তু প্রচলিত গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি মতে বছর হিসাব করা হয় ৩৬৫ দিনে।

A lunar year has approximately 354 days. A solar year has 365 days. [20]

  • তাহলে, হাদিস অনুসারে আয়িশার বয়স ৬ বছর মানে হচ্ছে, আয়িশার বয়স আসলে ছিল ৬ X ৩৫৪= ২১২৪ দিন।
  • সেই হিসেবে, বর্তমান সৌরবছরের হিসেবে আয়িশার বয়স সেই সময়ে ছিল ২১২৪ ÷ ৩৬৫ = ৫ বছর ১০ মাস
  • আবার, হাদিস অনুসারে আয়িশার বয়স ৯ বছর মানে হচ্ছে, আয়িশার বয়স আসলে ছিল ৯ X ৩৫৪= ৩১৮৬ দিন।
  • সেই হিসেবে, বর্তমান সৌরবছরের হিসেবে আয়িশার বয়স সেই সময়ে ছিল ৩১৮৬ ÷ ৩৬৫ = ৮ বছর ৮ মাস ২৬ দিন।

আয়িশাই একমাত্র নন

মুহাম্মদ যে শুধু অপ্রাপ্তবয়ষ্ক আয়িশার প্রতিই আকর্ষিত ছিলেন, তা কিন্তু নয়। এমনকি, হামাগুড়ি দেয়া কচি শিশু দেখেও তিনি তাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মানে, হামাগুড়ি দেয়া শিশু দেখলেও উনার মনে বিবাহের ইচ্ছা জাগতো। যার রেফারেন্স পাওয়া যায় ইবনে ইসহাকের গ্রন্থে। [21]

আয়িশা

একই বিষয় পাবেন Guillaume এর সিরাত গ্রন্থ থেকে [22]

আয়িশা

মুসনাদে আহমাদ হচ্ছে হাম্বলি মাযহাব এর প্রধান ইমাম প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার আহমদ ইবনে হাম্বল দ্বারা সংগৃহীত হাদীসের এক বিশাল সংগ্রহ। উনার গ্রন্থে বলা আছে, [23]

حدثنا يعقوب قال حدثنا أبي عن ابن إسحاق قال وحدثني حسين بن عبد الله بن عباس عن عكرمة مولى عبد الله بن عباس عن عبد الله بن عباس عن أم الفضل بنت الحارث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى أم حبيبة بنت عباس وهي فوق الفطيم قالت فقال لئن بلغت بنية العباس هذه وأنا حي لأتزوجنها

এই হাদিসটির অনুবাদ দেয়া হলোঃ

Muhammad saw Um Habiba, the daughter of Abbas while she was fatim (age of nursing) and he said, “If she grows up while I am still alive, I will marry her.
Musnad Ahmad, Number 25636

বাঙলা অনুবাদ,

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস উম্মে ফজল বিনতে হারেস থেকে বর্ণনা করেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাসের ‘দুগ্ধপোষ্য শিশু’ বয়সে দেখে বলেন, যদি আব্বাসের মেয়ে বালেগা (প্রাপ্তবয়স্ক) হয় আর আমি ততদিন বেঁচে থাকি তাহলে অবশ্যই আমি তাকে বিয়ে করব।

এবারে সরাসরি বুখারী হাদিস থেকেই একটি হাদিস দিচ্ছি, পাঠকগণ হাদিসটি মন দিয়ে পড়ুন। হাদিসে বর্ণিত হচ্ছে, নবী একজন রাজকন্যাকে হুকুম করেন, নবীর কাছে নিজেকে সমর্পন করতে। রাজকন্যা বললেন, কোন বাজারি লোকের কাছে সে নিজেকে সমর্পন করতে পারবে না। এরপরে নবী তার গায়ে হাত দিলেন। তখন সেই রাজকন্যা আল্লাহর দোহাই দিয়ে নবীর থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেন। আল্লাহর দোহাই দেয়ার পরে নবী তাকে ছেড়ে দিলেন। হাদিসটি বর্তমান সময়ে হলে, নবী মুহাম্মদ নির্ঘাত মামলায় ফেসে যেতেন, একজন নারীকে যৌনতার জন্য জোরাজুরি করার অভিযোগে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সেই মেয়েটি ছিল খুবই অল্পবয়সী। তার Wet Nurse অর্থাৎ যে ধাত্রী শিশুকে মায়ের বদলে স্তন্য দেয়, সেই ধাত্রীও তার সাথে ছিল। প্রাপ্তবয়ষ্ক রাজকুমারির সাথে নইলে Wet Nurse থাকবে কেন?

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৬৮/ ত্বলাক
পরিচ্ছেদঃ ৬৮/৩. ত্বলাক্ব দেয়ার সময় স্বামী কি তার স্ত্রীর সম্মুখে ত্বলাক্ব দেবে?
৫২৫৫. আবূ উসায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বের হয়ে শাওত নামক বাগানের নিকট দিয়ে চলতে চলতে দু’টি বাগান পর্যন্ত পৌছলাম এবং এ দু’টির মাঝে বসলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এখানে বসে থাক। তিনি ভিতরে) প্রবেশ করলেন। তখন নু’মান ইব্ন শারাহীলের কন্যা উমাইমার খেজুর বাগানস্থিত ঘরে জাওনিয়াকে আনা হয়। আর তাঁর খিদমতের জন্য ধাত্রীও ছিল। নাবী যখন তার কাছে গিয়ে বললেন, তুমি নিজেকে আমার কাছে সমর্পণ কর। তখন সে বললঃ কোন রাজকুমারী কি কোন বাজারিয়া ব্যক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করে? রাবী বলেনঃ এরপর তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন তার শরীরে রাখার জন্য, যাতে সে শান্ত হয়। সে বললঃ আমি আপনার থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি বললেনঃ তুমি উপযুক্ত সত্তারই আশ্রয় নিয়েছ। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ হে আবূ উসায়দ! তাকেদু’খানা কাতান কাপড় পরিয়ে দাও এবং তাকে তার পরিবারের নিকট পৌঁছিয়ে দাও।[৫২৫৭] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৬৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ উসাইদ (রাঃ)

ইংরেজি অনুবাদটি দেখুনঃ

Narrated Abu Usaid:
We went out with the Prophet (ﷺ) to a garden called Ash-Shaut till we reached two walls between which we sat down. The Prophet (ﷺ) said, “Sit here,” and went in (the garden). The Jauniyya (a lady from Bani Jaun) had been brought and lodged in a house in a date-palm garden in the home of Umaima bint An- Nu`man bin Sharahil, and her wet nurse was with her. When the Prophet (ﷺ) entered upon her, he said to her, “Give me yourself (in marriage) as a gift.” She said, “Can a princess give herself in marriage to an ordinary man?” The Prophet (ﷺ) raised his hand to pat her so that she might become tranquil. She said, “I seek refuge with Allah from you.” He said, “You have sought refuge with One Who gives refuge. Then the Prophet (ﷺ) came out to us and said, “O Abu Usaid! Give her two white linen dresses to wear and let her go back to her family.”

বিয়ের প্রস্তাবে বিব্রত আবু বকর

সহি হাদিস থেকেই জানা যায়, নবী মুহাম্মদ আবু বকরের কাছে আয়িশাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এই কথা শূনে প্রাথমিকভাবেই খুবই বিব্রত হয়ে যান আবু বকর, যা তার উক্তি থেকেই বোঝা যায়। সহি হাদিসটি পড়ে দেখুন, [24]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/১১. বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে অল্প বয়স্কা মেয়েদের বিয়ে।
৫০৮১. ‘উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-এর কাছে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর বিয়ের পয়গাম দিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি আপনার ভাই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমার আল্লাহর দ্বীনের এবং কিতাবের ভাই। কিন্তু সে আমার জন্য হালাল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭১০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  
বর্ণনাকারীঃ উরওয়াহ (রহঃ)  

(11)Chapter: The marrying of young lady to an elderly man(11)
Narrated ‘Urwa:
The Prophet (ﷺ) asked Abu Bakr for `Aisha’s hand in marriage. Abu Bakr said “But I am your brother.” The Prophet (ﷺ) said, “You are my brother in Allah’s religion and His Book, but she (Aisha) is lawful for me to marry.”
Reference : Sahih al-Bukhari 5081
In-book reference : Book 67, Hadith 19
USC-MSA web (English) reference : Vol. 7, Book 62, Hadith 18
(deprecated numbering scheme)

নবী কি আয়িশার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন?

অনেক ইসলামিস্টই আজকাল দাবী করেন, নবী মুহাম্মদ ছয় বছর বয়সে আয়িশাকে বিয়ে করে তারপরে তিন বছর অপেক্ষা করেছিলেন, আয়িশার প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার জন্য। কিন্তু কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যার প্রমাণ আমরা পাই ইবনে সা’দের তাবাকাত গ্রন্থ থেকে [25]। সত্য হচ্ছে, সেই সময়ে নবীর কাছে দেনমোহর দেয়ার মত অর্থ ছিল না, তাই আবু বকরের কাছ থেকেই ঋণ নিয়ে তিনি আয়িশাকে তুলে এনেছিলেন।

হিজরতের পর আবু বকর(রাঃ), রাসূল এর নিকট আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার স্ত্রীকে ঘরে আনছেন না কেন? প্রিয়নবী বললেন, “এই মুহূর্তে মোহর পরিশোধ করার মতো অর্থ আমার কাছে নেই। আবু বকর(রাঃ) অনুরোধ করলেন- যদি আমার অর্থ কবুল করতেন। তখন রাসূল, আবু বকর(রা:) এর কাছ থেকে অর্থ ঋণ নিয়ে আয়িশা(রাঃ) এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন।

বর্ণনাটি তাবারীর ইতিহাস গ্রন্থেও পাওয়া যায় [26]

A’ishah, daughter of Abu Bakr.
Her mother was Umm Ruman bt. ‘Umayr b. ‘Amr, of the Banu Duhman b. al-Harith b. Ghanm b. Malik b. Kinanah.
The Prophet married ‘A’ishah in Shawwal in the tenth year after the [beginning of his] prophethood, three years before Emigration. He consummated the marriage in Shawwal, eight months after Emigration. On the day he consummated the marriage with her she was nine years old.
According to Ibn ‘Umayr [al-Waqidi]- Musa b. Muhammad b. ‘Abd al-Rahman- Raytah- ‘Amrah [bt. ‘Abd al-Rahman b. Sa’d]: ‘A’ishah was asked when the Prophet consummated his marriage with her, and she said:
The Prophet left us and his daughters behind when he emigrated to Medina. Having arrived at Medina, he sent Zayd b. Harithah and his client Abu Rafi’ for us. He gave them two camels and 500 dirhams he had taken from Abu Bakr to buy [other] beasts they needed. Abu Bakr sent with them ‘Abdallah b. Urayqit al-Dili, with two or three camels. He wrote to [his son] ‘Abdallah b. Abi Bakr to take his wife Umm Ruman, together with me and my sister Asma’, al-Zubayr’s wife, [and leave for Medina]. They all left [Medina] together, and when they arrived at Qudayd Zayd b. Harithah bought three camels with those 500 dirhams. All of them then entered Mecca, where they met Talhah b. ‘Ubaydallah on his way to leave town, together with Abu Bakr’s family. So we all left: Zayd b. Harithah, Abu Rafi’, Fatimah, Umm Kulthum, and Sawdah bt. Zam‘ah. Ayd mounted Umm Ayman and [his son] Usamah b. Zayd on a riding beast; ‘Abdallah b. Abi Bakr took Umm Ruman and his two sisters, and Talhah b. ‘Ubaydallah came [too]. We all went together, and when we reached Bayd in Tamanni my camel broke loose. I was sitting in the litter together with my mother, and she started exclaiming “Alas, my daughter, alas [you] bride”; then they caught up with our camel, after it had safely descended the Lift. We then arrived at Medina, and I stayed with Abu Bakr’s children, and [Abu Bakr] went to the Prophet. The latter was then busy building the mosque and our homes around it, where he [later] housed his wives. We stayed in Abu Bakr’s house for a few days; then Abu Bakr asked [the Prophet] “O Messenger of God, what prevents you from consummating the marriage with your wife?” The Prophet said “The bridal gift (sadaq).” Abu Bakr gave him the bridal gift, twelve and a half ounces [of gold], and the Prophet sent for us. He consummated our marriage in my house, the one where I live now and where he passed away.

আয়িশা
আয়িশা
আয়িশা
আয়িশা

শিশু আয়িশাকে স্বপ্নে দেখতেন মুহাম্মদ

নবী মুহাম্মদ শিশু আয়িশাকে বিয়ের আগে স্বপ্নে দেখতেন। [27]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫৪/ বিয়ে-শাদী
পরিচ্ছেদঃ ২৪৩৪. কুমারী মেয়ের শাদী সম্পর্কে। ইবন আবী মুলায়কা (র) বলেন, ইবন আব্বাস (রা) আয়িশা (রা)-কে বললেন, আপনাকে ছাড়া নবী (সা) আর কোন কুমারী মেয়ে শাদী করেননি।
৪৭০৭। উবায়দুল্লাহ্ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’বার করে আমাকে স্বপ্নযোগে তোমাকে দেখানো হয়েছে। এক ব্যাক্তি রেশমী কাপড়ে জড়িয়ে তোমাকে নিয়ে যাচ্ছিল, আমাকে দেখে বলল, এই হচ্ছে তোমার স্ত্রী। তখন আমি পর্দা খুলে দেখি, সে তুমিই। তখন আমি বললাম, এ স্বপ্ন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে তিনি বাস্তবে পরিণত করবেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)  
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

অল্পবয়সী কুমারী মেয়েদের বিয়ে করার পরামর্শ

নবী মুহাম্মদ তার সাহাবীদের অল্পবয়সী কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে অনুপ্রাণিত করতেন। এই বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে। [28] [29]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/১০. ত্বলাক্বপ্রাপ্তা অথবা বিধবামেয়েকে বিয়ে করা।
৫০৮০. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিয়ে করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেমন মেয়ে বিয়ে করেছ? আমি বললাম, পূর্ব বিবাহিতা মেয়েকে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন, কুমারী মেয়ে এবং তাদের কৌতুক তুমি চাও না? (রাবী মুহাজির বলেন) আমি এ ঘটনা ‘আমর ইবনু দ্বীনার (রাঃ)-কে জানালে তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তুমি কেন কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না, যার সাথে তুমি খেলা-কৌতুক করতে এবং সে তোমার সাথে খেলা-কৌতুক করত? [৪৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৭০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭০৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত)
৯/ বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১৩. কুমারী মেয়েকে বিয়ে করা
১১০০। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক মহিলাকে বিয়ে করে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গেলাম। তিনি বললেনঃ হে জাবির! তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কুমারী মেয়ে না বিধবা মেয়ে?
আমি বললাম, না, বরং বিধবা। তিনি বললেনঃ কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? তাহলে তার সাথে তুমিও আনন্দ করতে পারতে এবং তোমার সাথে সেও আমোদ-প্রমোদ করতে পারত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মৃত্যুর সময় আবদুল্লাহ (আমার পিতা) সাতটি অথবা নয়টি মেয়ে রেখে গেছেন। এজন্য এমন মহিলাকে এনেছি যেন সে তাদের দেখাশোনা করতে পারে। আমার জন্য তখন তিনি দু’আ করলেন।
— সহীহ, ইরওয়া (১৭৮), বুখারী, মুসলিম
উবাই ইবনু কাব ও কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

সরাসরি ইবনে মাজাহ গ্রন্থ থেকেও হাদিসগুলো দেখি [30]

আয়িশা
আয়িশা

কুমারী মেয়েদের প্রতি আসক্তি ছিল মুহাম্মদের

নবী মুহাম্মদের কুমারী মেয়েদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ছিল। যেই কারণে তিনি অকুমারী স্ত্রীদের স্ত্রীদের সাথে তিনরাত থাকলে কুমারী স্ত্রীর সাথে থাকতেন সাতরাত। [31]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/১০১. যখন কেউ সাইয়্যেবা স্ত্রী থাকা অবস্থায় কুমারী মেয়ে বিয়ে করে।
৬৭/১০০. অধ্যায়ঃ আপন স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করা।
আল্লাহ্ বলেন, ‘‘তোমরা কক্ষনো স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবে না যদিও প্রবল ইচ্ছে কর….আল্লাহ প্রশস্ততার অধিকারী, মহাকুশলী।’’ (সূরাহ আন্-নিসা ৪/১২৯-১৩০)
৫২১৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত এই যে, যদি কেউ কুমারী মেয়ে বিয়ে করে, তবে তার সঙ্গে সাত দিন-রাত্রি যাপন করতে হবে আর যদি কেউ কোন বিধবা মহিলাকে বিয়ে করে, তাহলে তার সঙ্গে তিন দিন যাপন করতে হবে। [৫২১৪; মুসলিম ১৭/১২, হাঃ ১৪৬১, আহমাদ ১২৯৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৩৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)

আয়িশা কী বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন?

সুনানে আবু দাউদ হাদিস গ্রন্থ এবং এর শরহে বা ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলা হয়েছে, নয় বছর বয়সে আয়িশার সাথে নবীর সহবাস হয়। [32]

আয়িশা

আয়িশা দ্বারা বর্ণিত সহীহ মুসলিমের একটি হাদীসে পাওয়া যায়, আয়িশা নয় বছর বয়সে মুহাম্মাদের ঘরে গমন করেন এবং সেই সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর খেলার পুতুলগুলিও ছিল [33] [34] [35]। সহীহ বুখারীতেও অনুরূপ হাদীস পাওয়া যায় [36]

নিচের হাদিসগুলো লক্ষ্য করুন। আয়িশা মুহাম্মদের ঘরে যাওয়ার পরেও আয়িশা পুতুল দিয়ে খেলা করতো। কারণ আয়িশার তখন পর্যন্ত ঋতুস্রাব শুরু হয় নি। সেই কারণে কাপড়ের তৈরি পুতুল তার জন্য হালাল ছিল।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৬৫/ আচার ব্যবহার
পরিচ্ছেদঃ ২৫১৪. মানুষের সাথে হাসিমুখে মেলামেশা করা। ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, মানুষের সাথে এমনভাবে মেলামেশা করবে, যেন তাতে তোমার দ্বীনে আঘাত না লাগে। আর পরিবারের সঙ্গে হাসি তামাশা করা।
৫৭০০। মুহাম্মাদ (রহঃ) … আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলা করত।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)
Narrated `Aisha:
I used to play with the dolls in the presence of the Prophet, and my girl friends also used to play with me. When Allah’s Messenger (ﷺ) used to enter (my dwelling place) they used to hide themselves, but the Prophet would call them to join and play with me. (The playing with the dolls and similar images is forbidden, but it was allowed for `Aisha at that time, as she was a little girl, not yet reached the age of puberty.)

আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিবাহ করেন। তাকে নয় বছর বয়সে তার ঘরে বধুবেশে নেয়া হয় এবং তার সঙ্গে তার খেলার পুতুলগুলোও ছিল। তাঁর আঠারো বছর বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকাল করেন।
সহীহ মুসলিম (হাদিস একাডেমি) ৩৩৭২

‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলত।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৬১৩০

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [4849]
অধ্যায়ঃ ৩৬/ আদব
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৬০. কাপড়ের স্ত্রী পুতুল নিয়ে খেলা করা সম্পর্কে।
৪৮৪৯. মুসাদ্দাদ (রহঃ) ………. আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কাপড়ের তৈরী স্ত্রী পুতুল নিয়ে খেলা করতাম। অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এমন সময় আসতেন, যখন অন্যান্য বালিকারা আমার কাছে উপস্থিত থাকতো। আর তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন তারা চলে যেত এবং যখন তিনি বাইরে যেতেন, তখন তারা আবার আসতো
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আয়িশার কাপড়ের পুতুল
আয়িশার খেলাধুলা

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা গ্রন্থ নাসরুল বারীতে লেখা আছে – “সেই সময় হযরত আয়িশা নাবালিকা ছিলেন। তাই তিনি (মুহাম্মাদ) তাঁকে (আয়িশাকে) খেলার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু সাবালিকা নারীদের জন্য এটা মাকরূহ।” [37]

আরো একটি হাদিস পড়ি,

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৬/ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ ৬২. পুতুল দ্বারা খেলা করা
৪৯৩২। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূক অথবা খায়বারের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। ঘরের তাকের উপর পর্দা ঝুলানো ছিলো। বায়ু প্রবাহের ফলে তার এক পাশ সরে যায় যাতে তার খেলার পুতুলগুলো দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুতুলগুলো দেখে বললেন, হে আয়িশাহ! এগুলো কি? উত্তরে তিনি বললেন, এগুলো অমার মেয়ে। আর তিনি এগুলোর মধ্যে কাপড়ের তৈরী দু’ ডানাবিশিষ্ট একটি ঘোড়াও দেখতে পেলেন।
তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এগুলোর মধ্যে ওটা কি দেখতে পাচ্ছি? তিনি বললেন, ঘোড়া। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তার উপর আবার ওটা কি? তিনি বললেন, দু’টো পাখা। তিনি বললেন, এ আবার কেমন ঘোড়া, যার পাখা আছে! আমি বললাম, আপনি কি শুনেননি যে, সুলাইমান (আঃ)-এর ঘোড়ার কয়েকটি পাখা ছিলো! আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন, যাতে আমি তাঁর সামনের সারির দাঁত দেখতে পেলাম।
[1]
সহীহ।
[1]. বায়হাক্বী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

সুতরাং, দেখা যাচ্ছে যে নয় বছর বয়সে আয়িশা নাবালিকা ছিলেন, যখন মুহাম্মাদ তাঁর সাথে যৌনসঙ্গম করেন। একই কথা ‘দারুসসালাম’ প্রকাশনীর সহীহ বুখারীর অনুবাদেও বলা হয়েছে –

“The playing with the dolls and similar images is forbidden, but it was allowed for `Aisha at that time, as she was a little girl, not yet reached the age of puberty.[38]

এই হাদীসটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনু হাজার আসকালানী বলেন –

“আবু দাউদ [39] এবং আন নাসাই [40] আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ তাবূক অথবা খায়বারের যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। ঘরের তাকের উপর পর্দা ঝুলানো ছিল। বায়ু প্রবাহের ফলে তার এক পাশ সরে যায় যাতে তার খেলার পুতুলগুলো দৃশ্যমান হয়ে পড়ে। তিনি পুতুলগুলো দেখে বললেন, হে আয়িশা! এগুলো কি? উত্তরে তিনি বললেন, এগুলো আমার মেয়ে। আর তিনি এগুলোর মধ্যে কাপড়ের তৈরী দুই ডানাবিশিষ্ট একটি ঘোড়াও দেখতে পেলেন। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এগুলোর মধ্যে ওটা কি দেখতে পাচ্ছি? তিনি বললেন, ঘোড়া। তিনি বললেন, তার উপর আবার ওটা কি? তিনি বললেন, দু’টো পাখা। তিনি বললেন, এ আবার কেমন ঘোড়া, যার পাখা আছে! আমি বললাম, আপনি কি শুনেননি যে, সুলাইমানের ঘোড়ার কয়েকটি পাখা ছিল! আয়িশা বলেন, একথা শুনে রাসূলুল্লাহ হেসে দিলেন, যাতে আমি তাঁর সামনের সারির দাঁত দেখতে পেলাম।” আল খাত্তাবি বলেন, “আয়িশাকে পুতুল নিয়ে খেলতে দেওয়ার একমাত্র কারণ তিনি তখনও বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছাননি।” আমি (ইবনু হাজার) বলি, “ঘটনা এটিই ছিল কিনা সেই বিষয়টি প্রশ্নাতীত নয়, তবে এমনটা ঘটে থাকতে পারে, কারণ খাইবারের যুদ্ধের সময় আয়িশার বয়স ছিল চোদ্দ বছর…” [41]

Islamweb নামক ওয়েবসাইটে এই ব্যাখ্যাটির ইংরেজি অনুবাদও করা হয়েছে [42]

সুতরাং, এই আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে এমন কোনো হাদীস নেই যা প্রমাণ করে নয় বছর বয়সে আয়িশা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন। বরং সহীহ হাদীস দ্বারা দেখা যাচ্ছে যে খাইবারের যুদ্ধের সময়ও আয়িশা পুতুল নিয়ে খেলতেন, অথচ ইসলামে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর পর পুতুল নিয়ে খেলা নিষিদ্ধ। এর দ্বারা ধারণা করা যায় সম্ভবত চোদ্দ বছর বয়সেও তিনি নাবালিকা ছিলেন। সুতরাং, বর্তমান কিছু মুসলিমদের নয় বছর বয়সে আয়িশার বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর দাবিটি ভিত্তিহীন। এমন কোনো হাদীস থাকলে ইবনু হাজার আসকালানী সেটি উল্লেখ করে ইবনু খাত্তাবির মতকে ভুল প্রমাণিত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা না করে চোদ্দ বছরে অয়িশার বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বলে স্বীকার করেছেন।

এছাড়াও, মনে রাখতে হবে, প্রাপ্তবয়ষ্ক কিংবা অপ্রাপ্তবয়ষ্ক, সকল নারীর জন্য স্বামীর যৌনচাহিদা পূরণ স্ত্রীর জন্য অবশ্য কর্তব্য। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দেয়ার বৈধতা ইসলামে রয়েছে। যা উপরের হাদিস থেকে প্রমাণিত।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [3433] অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ২০. স্বামীর বিছানা পরিহার করা স্ত্রীর জন্য নিষিদ্ধ
৩৪৩৩-(১২২/…) আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমুল্লাহ) ….. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামী যখন স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে এবং সে না আসায় তার স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে রাত্রি যাপন করে, সে স্ত্রীর প্রতি ফেরেশতাগণ ভোর হওয়া পর্যন্ত লা’নাত করতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪০৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৪০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ৯/ বিবাহ
হাদিস নাম্বার: 1853
২/১৮৫৩। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয (রাঃ) সিরিয়া থেকে ফিরে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাজদাহ করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে মু‘আয! এ কী? তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে দেখতে পাই যে, তথাকার লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদেরকে সাজদাহ করে। তাই আমি মনে মনে আশা পোষণ করলাম যে, আমি আপনার সামনে তাই করবো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তা করো না। কেননা আমি যদি কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ ছাড়া অপর কাউকে সাজদাহ করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সাজদাহ করতে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! স্ত্রী তার স্বামীর প্রাপ্য অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত তার প্রভুর প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না। স্ত্রী শিবিকার মধ্যে থাকা অবস্থায় স্বামী তার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে চাইলে স্ত্রীর তা প্রত্যাখ্যান করা অনুচিত।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
It was narrated that: Abdullah bin Abu Awfa said “When Muadh bin Jabal came from Sham, he prostrated to the Prophet who said: ‘What is this, O Muadh?’ He said: ‘I went to Sham and saw them prostrating to their bishops and patricians and I wanted to do that for you.’ The messenger of Allah said: ‘Do not do that. If I were to command anyone to prostrate to anyone other than Allah, I would have commanded women to prostrate to their husbands. By the One in Whose Hand is the soul of Muhammad! No woman can fulfill her duty towards Allah until she fulfills her duty towards her husband. If he asks her (for intimacy) even if she is on her camel saddle, she should not refuse.’ ”

গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১৩ঃ বিবাহ
হাদিস নম্বরঃ [3255]
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ – স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রত্যেকের (স্বামী-স্ত্রীর) পারস্পরিক হক ও অধিকার সংক্রান্ত
৩২৫৫-[১৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি যদি কোনো মানবকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য সিজদা করার নির্দেশ দিতাম। (তিরমিযী)[1]
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)।

কোরআনে শিশু বিবাহের বৈধতা

সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে ইদ্দত লাগবে না

কোরআনের বিধান অনুসারে, সহবাসের পূর্বে তালাক দিলে ইদ্দতের বিধান নেই। শুরুতেই এই সম্পর্কিত আয়াতটি দেখে নিই,

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করবে অতঃপর তাদের সাথে সহবাসের পূর্বেই তালাক দিয়ে দেবে তবে তোমাদের জন্য তাদের কোন ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। সুতরাং তাদেরকে কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান কর এবং সুন্দরভাবে তাদেরকে বিদায় দাও।
সুরা ৩৩:৪৯

এবারে সুরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতটি পড়ি, যেখানে বলা আছে, যেসব স্ত্রী এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছে নি, তাদের ইদ্দত হবে তিনমাস।

তোমাদের যে সব স্ত্রী আর ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদেরও; আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আর যে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ্‌ তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।
সুরা ৬৫:৪

তাহলে স্পষ্টতই বোঝা যায়, যারা ঋতুর বয়সে পৌঁছে নি, তাদের যেহেতু ইদ্দতের কথা বলা আছে, তাই অবশ্যই সহবাসের অনুমতিও দেয়া আছে। নইলে ইদ্দতের নির্দেশই থাকতো না। কারণ সহবাস ছাড়া তো ইদ্দতের প্রয়োজনই নেই।

বোখারী শরীফ

ইমাম বুখারীর বুখারী শরীফ গ্রন্থে পরিষ্কারভাবেই সূরা তালাকের চার নম্বর আয়াতের অর্থ বলে দেয়া হয়েছে [43] [44]

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/৩৯. কার জন্য ছোট শিশুদের বিয়ে দেয়া বৈধ
لِقَوْلِهِ تَعَالَى: وَاللاَّئِي لَمْ يَحِضْنَ) فَجَعَلَ عِدَّتَهَا ثَلاَثَةَ أَشْهُرٍ قَبْلَ الْبُلُوغِ
আল্লাহ্ তা‘আলার কালাম ‘‘এবং যারা ঋতুমতী হয়নি’’-(সূরাহ আত-ত্বলাক (তালাক)ঃ ৪) এই আয়াতকে দলীল হিসাবে ধরে নাবালেগার ইদ্দাত তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫১৩৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামযখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতাঁর সঙ্গে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন। [৩৮৯৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৫৭)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

আয়িশা

তাফসীরে ইবনে কাসীর

তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়ষ্কা মেয়ের কথা [45]

আয়িশা

তাফসীরে জালালাইন

তাফসীরে জালালাইনেও বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়ষ্কতার কারণে যে সব মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায় নি, তাদের কথা [46]

আয়িশা

অর্থাৎ, যারা ঋতুর বয়সে পৌঁছে নি, বা অপ্রাপ্তবয়সী মেয়ে, তাদের ইদ্দতকাল তিনমাস।

তাফসীরে মাযহারী

এবারে তাফসীরে মাযহারী [47] থেকে দেখে নিইঃ

আয়িশা
আয়িশা

মা’আরেফুল কোরআন

এবারে আসুন মা’আরেফুল কোরআনে দেখি [48]

আয়িশা
আয়িশা

তাফহীমুল কুরআন

প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর তাফহীমুল কুরআন গ্রন্থে সূরা তালাকের এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে যা লেখা রয়েছে [49]

তাহফীমুল কুরআন সূরা তওবা আয়াত ৪

ফিকাহ শাস্ত্র আল হিদায়া গ্রন্থ

ইমাম আবু হানিফার মাজহাবের প্রখ্যাত ফিকাহ গ্রন্থ আল হিদায়াতে এই বিষয়ে যা বলা আছে সেটিও দেখে নিই, [50]

ইদ্দত, আল হিদায়া

ফিকাহ শাস্ত্র আশরাফুল হিদায়া

হানাফি ফিকাহশাস্ত্রে আশরাফুল হিদায়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক ফরিদী কর্তৃক নির্দেশিত এবং বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমের অনুদিত আশরাফুল হিদায়া গ্রন্থে এই বিষয়ে কী বলা আছে সেটি দেখে নিই, [51]

আশরাফুল হিদায়া
আয়িশা
আশরাফুল হিদায়া, ইদ্দত

বোখারীর ব্যাখ্যা

এর আরো প্রমাণ পাওয়া যায় বোখারী শরীফের ব্যাখ্যায় [52] থেকেঃ

বোখারী শরীফ
বোখারী শরীফ, নাবালেগ মেয়ের বিবাহ

এপোলজিস্টদের পক্ষে দুইটি হাদিস

আয়িশার বয়স নিয়ে আলোচনার সময় ইসলামের পক্ষের মানুষেরা দুইটি হাদিস নিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেন, আয়িশা সেই সময়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছিলেন। এর একটি সহিহ বুখারীর, আরেকটি সুনান আবু দাউদের। আসুন, হাদিস দুইটি পর্যালোচনা করে দেখি, আসলেই হাদিস দুইটির সত্যতা কতটুকু। প্রথমে প্রখ্যাত ওয়েবসাইট সুন্নাহ ডট কম থেকে হাদিসটির ইংরেজি অনুবাদ দেখে নিইঃ

(86)Chapter: (If) a mosque (is built) on a road, it should not be a cause of harm for the people
Narrated `Aisha:
(the wife of the Prophet) I had seen my parents following Islam since I attained the age of puberty. Not a day passed but the Prophet (ﷺ) visited us, both in the mornings and evenings. My father Abu Bakr thought of building a mosque in the courtyard of his house and he did so. He used to pray and recite the Qur’an in it. The pagan women and their children used to stand by him and look at him with surprise. Abu Bakr was a Softhearted person and could not help weeping while reciting the Qur’an. The chiefs of the Quraish pagans became afraid of that (i.e. that their children and women might be affected by the recitation of Qur’an).
Reference : Sahih al-Bukhari 476
In-book reference : Book 8, Hadith 124
USC-MSA web (English) reference : Vol. 1, Book 8, Hadith 465
(deprecated numbering scheme)

পাঠক, লক্ষ্য করুন, এই হাদিসটিতে হাদিসের অনুবাদক মুহসিন খান খুব কৌশলের সাথে أَعْقِلْ শব্দটির অনুবাদ করেছেন Age of Puberty; অথচ, এই শব্দটির সঠিক অর্থ হচ্ছে Age of Reason বা জ্ঞানমতে বা জ্ঞান হওয়ার বয়স থেকে। এই হাদিসটি বাঙলায় অনুবাদের সময় বাঙলা অনুবাদক আবার সঠিক অনুবাদটিই করেছেন। আসুন দেখি হাদিসটির বাঙলা অনুবাদঃ

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৮/ সলাত
পরিচ্ছেদঃ ৮/৮৬. লোকের অসুবিধা না হলে রাস্তায় মাসজিদ বানানো বৈধ।
হাসান বাসরী, আইয়ূব এবং মালিক (রহ.) এরূপ বলেছেন।
৪৭৬. ‘উরওয়াহ বিন যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার জ্ঞানমতে আমি আমার মাতা-পিতাকে সব সময় দ্বীনের অনুসরণ করতে দেখেছি। আর আমাদের এমন কোন দিন যায়নি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দিনের উভয় প্রান্তে সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের নিকট আসেননি। অতঃপর আবূ বাকর (রাযি.)-এর মাসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি তাঁর ঘরের আঙ্গিণায় একটি মাসজিদ তৈরি করলেন। তিনি এতে সালাত আদায় করতেন ও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকদের মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সেখানে দাঁড়াতো এবং এতে তারা বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতো। আবূ বাকর (রাযি.) ছিলেন একজন অধিক ক্রন্দনকারী ব্যক্তি। তিনি কুরআন পড়া শুরু করলে অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না। তাঁর এ অবস্থা নেতৃস্থানীয় মুশরিক কুরাইশদের নেতৃবৃন্দকে শঙ্কিত করে তুলল। (২১৩৮, ২২৬৩, ২২৬৪, ২২৯৭, ৩৯০৫, ৪০৯৩, ৫৮০৭, ৬০৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৬২)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উরওয়াহ বিন যুবাইর (রহঃ)
Narrated `Aisha:
(the wife of the Prophet) I had seen my parents following Islam since I attained the age of puberty. Not a day passed but the Prophet (ﷺ) visited us, both in the mornings and evenings. My father Abu Bakr thought of building a mosque in the courtyard of his house and he did so. He used to pray and recite the Qur’an in it. The pagan women and their children used to stand by him and look at him with surprise. Abu Bakr was a Softhearted person and could not help weeping while reciting the Qur’an. The chiefs of the Quraish pagans became afraid of that (i.e. that their children and women might be affected by the recitation of Qur’an).

লক্ষ্য করুন, ইংরেজি অনুবাদে কী পরিমাণ জ্বালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন হাদিসের অনুবাদক। কেন এই জ্বালিয়াতি, নবী মুহাম্মদের চরিত্র পরিচ্ছন্ন করার জন্য?

আরেকটি হাদিস পাওয়া যায় সুনান আবু দাউদ শরীফ থেকেঃ

General Behavior (Kitab Al-Adab)
(63)Chapter: About swings
Narrated Aisha, Ummul Mu’minin:
The Messenger of Allah (ﷺ) married me when I was seven or six. When we came to Medina, some women came. according to Bishr’s version: Umm Ruman came to me when I was swinging. They took me, made me prepared and decorated me. I was then brought to the Messenger of Allah (ﷺ), and he took up cohabitation with me when I was nine. She halted me at the door, and I burst into laughter.
Abu Dawud said: That is to say: I menstruated, and I was brought in a house, and there were some women of the Ansari in it. They said: With good luck and blessing. The tradition of one of them has been included in the other.
Grade : Sahih (Al-Albani)
Reference : Sunan Abi Dawud 4933
In-book reference : Book 43, Hadith 161
English translation : Book 42, Hadith 4915

এবারে বাঙলায় পড়িঃ

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَنِي وَأَنَا بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ أَتَيْنَ نِسْوَةٌ – وَقَالَ بِشْرٌ فَأَتَتْنِي أُمُّ رُومَانَ – وَأَنَا عَلَى أُرْجُوحَةٍ فَذَهَبْنَ بِي وَهَيَّأْنَنِي وَصَنَعْنَنِي فَأُتِيَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَنَى بِي وَأَنَا ابْنَةُ تِسْعٍ فَوَقَفَتْ بِي عَلَى الْبَابِ فَقُلْتُ هِيهْ هِيهْ – قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَىْ تَنَفَّسَتْ – فَأُدْخِلْتُ بَيْتًا فَإِذَا فِيهِ نِسْوَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقُلْنَ عَلَى الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ ‏.‏ دَخَلَ حَدِيثُ أَحَدِهِمَا فِي الآخَرِ ‏.
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, আমার ছয় বা সাত বছর বয়সে (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) আমাকে বিয়ে করেন। আমরা মদিনায় আগমন করলে একদল মহিলা আসলেন। বর্ণনাকারী বিশরের বর্ণনায় রয়েছেঃ আমার নিকট (আমার মা) উম্মু রূমান (রাঃ) আসলেন, তখন আমি দোলনায় দোল খাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন, আমাকে প্রস্তুত করলেন এবং পোশাক পরিয়ে সাজালেন। অতঃপর আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেশ করা হলো। তিনি আমার সঙ্গে বাসর যাপন করলেন, তখন আমার বয়স নয় বছর। মা আমাকে ঘরের দরজায় দাড় করালেন এবং আমি উচ্চহাসি দিলাম। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ আমার মাসিক ঋতু হয়েছে। আমাকে একটি ঘরে প্রবেশ করানো হলো। তাতে আনসার গোত্রের একদল মহিলা উপস্থিত ছিলেন। তারা আমার জন্য কল্যাণ ও বরকত কামনা করলেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯৩৩
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

পাঠক, লক্ষ্য করুন, আয়িশার যে ঋতুস্রাব হয়েছিল, তা আবু দাউদের মতামত মাত্র। উনি আয়িশা অথবা আয়িশার কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন এমন কারো কাছ থেকেও এই কথা শোনেন নি। শুধুমাত্র আবু দাউদের মতামত তো গ্রহণযোগ্য নয়।

উপসংহার

উপরের আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় সম্পূর্ণ পরিষ্কার যে, সুরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াত অনুসারে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ের ইদ্দত তিনমাস। সুরা আহজাবের ৪৯ আয়াত অনুসারে বিবাহ এবং যৌন সম্পর্ক না হলে ইদ্দতের প্রশ্নই আসে না। তাই অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ের সাথে বিবাহ এবং যৌনতা দুই-ই জায়েজ। আবার, আয়িশা ৯ বছর বয়সে নবীর সাথে যৌন সম্পর্কের সময় ঋতুর বয়সেও পৌঁছান নাই। কারণ ঋতুর বয়সে পৌঁছে গেলে সেই নারী ইসলামের দৃষ্টিতে বালেগা হিসেবে গণ্য এবং পুতুল খেলা তার জন্য মাকরুহ। আয়িশা নিশ্চয়ই এরকম মাকরুহ কাজ করেন নি। এবং নবীর ঘরেও তিনি পুতুল খেলতেন। তাই বুঝতে অসুবিধা হয় না, ঋতুর বয়সে পৌঁছাবার আগেই নবী মুহাম্মদ তার সাথে যৌন সঙ্গম করেছিলেন। প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া তো অনেক দুরের ব্যাপার!

নবী ও আয়িশা

ইসলামে যেহেতু নবীর সকল কাজকেই নৈতিকতা এবং আইনের একমাত্র উৎস হিসেবে ধরা হয়, অপরিবর্তনীয় এবং কেয়ামত পর্যন্ত প্রযোজ্য নীতি বলে ধরা হয়, তাই নবীর এই শিশু বিবাহের মত মারাত্মক এবং ভয়াবহ কর্মটিও ইসলামী শরীয়া আইনের একটি অংশ হয়ে যায়, সেই সাথে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজটি বৈধতা অর্জন করে। যেহেতু নবী নিজেই কাজটি করেছেন, তাই মুসলিমগণ কাজটিকে অনৈতিক বা বর্জনীয় কাজ বলে মনে করতে পারেন না। যা খুবই ভয়াবহ চিন্তা। এই চিন্তার অবসান ঘটুক, পৃথিবীতে আর কোন শিশু বাল্যবিবাহের নির্মম শিকার না হোক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

তথ্যসূত্রঃ
  1. Girls beginning puberty almost a year earlier than in 1970s []
  2. Menstruation in Girls and Adolescents: Using the Menstrual Cycle as a Vital Sign []
  3. International Variability of Ages at Menarche and Menopause: Patterns and Main Determinants []
  4. Recent Decline in Age at Menarche: The Fels Longitudinal Study []
  5. Commentary: The decreasing age of puberty— as much a psychosocial as biological problem? []
  6. AGE AT MENARCHE AMONG IN-SCHOOLADOLESCENTS IN SAWLA TOWN, SOUTH ETHIOPIA []
  7. Secular trends in age at menarche among women born between 1955 and 1985 in Southeastern China []
  8. Declining age at menarche in Indonesia: a systematic review and meta-analysis []
  9. Decline in menarcheal age among Saudi girls []
  10. Child Marriage is a Death Sentence for Many Young Girls []
  11. Precocious puberty []
  12. Health Consequences of Child Marriage in Africa []
  13. ইউনিসেফ থেকে প্রকাশিত একটি পিডিএফ বই []
  14. ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ নামক কুফরি আইন প্রত্যাহার করে…এসব এনজিও নিষিদ্ধ করতে হবে[]
  15. Saudi Arabian cleric declares babies should wear burkas []
  16. ‘Even BABIES must wear the burka’: Saudi cleric says newborn girls should have their faces veiled to help ward off sex attacks []
  17. সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৩৮৯৬ []
  18. সহীহ মুসলিম, পঞ্চম খণ্ড, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, পৃষ্ঠা ৩৭ []
  19. ফাতহুল বারী ৮/৬৭ []
  20. The Difference Between Solar & Lunar Years []
  21. সিরাতে রাসুলাল্লাহ (সাঃ), অনুবাদ, শহীদ আখন্দ, প্রথমা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৩৫৩ []
  22. The Life Of Mohammed, ৩১১ পৃষ্ঠায় []
  23.  حديث أم الفضل بن عباس وهي أخت ميمونة رضي الله عنهم []
  24. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স। হাদিস নম্বর-৫০৮১ []
  25. তাবাকাত, ইবনে সা‘দ, পৃষ্ঠাঃ ৪৩ []
  26. Al-Tabari, Vol. 39, pp. 171-173, Download link []
  27. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। হাদিস নম্বর-৪৭০৭ []
  28. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স। হাদিস নম্বর-৫০৮০ []
  29. সূনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নম্বর- ১১০০ []
  30. সুনানে ইবনু মাজাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৭, ১৬৮ []
  31. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স। হাদিস নম্বর- ৫২১৩ []
  32. আল-আওনুল মাহমুদ ফি-হল্লি সুনানে আবী দাউদ, আল মাহমুদ প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৪০৯ []
  33. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন। হাদিস নম্বর-৫৭০০ []
  34. সহীহ মুসলিম (হাদিস একাডেমি) ৩৩৭২ []
  35. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর-৪৮৪৯ []
  36. সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৬১৩০ []
  37. নাসরুল বারী শরহে সহীহ বুখারী ১১/২৪১ []
  38. সহীহ বুখারী (দারুসসালাম) ৮/৮৮ []
  39. সুনানে আবু দাউদ ৪৯৩২ []
  40. সুনানুল কুবরা ৮৯০১ #page-12393  []
  41. ফাতহুল বারী ১০/৫২৭ []
  42. Meaning of hadeeth about Aa’ishah’s playing with dolls []
  43. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বর- ৫১৩৩ []
  44. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪৭৫৭ []
  45. তাফসীরে ইবনে কাসীর, একাদশ খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ১৬৩ []
  46. তাফসীরে জালালাইন, ষষ্ঠ খণ্ড, ইসলামিয়া কুতুবখানা, পৃষ্ঠা ৫৮৮ []
  47. তাফসীরে মাযহারী, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৫৬২, ৫৬৩ []
  48. মা’আরেফুল কোরআন, খণ্ড ৮ এর ৪৮১, ৪৮৩ নম্বর পৃষ্ঠা []
  49. তাফহীমুল কুরআন, সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী []
  50. আল হিদায়া, দ্বিতীয় খণ্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা ২০১ []
  51. আশরাফুল হিদায়া, তৃতীয় খণ্ড, মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক ফরিদী, ইসলামিয়া কুতুবখানা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ৫৭৬ []
  52. বোখারী শরীফ (বাংলা তরজমা ও ব্যাখ্যা) খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৭ []

8 thoughts on “আয়িশা কি নয় বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন?

  • December 12, 2019 at 1:41 PM
    Permalink

    তেতো সত্যগুলো তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। এরপরেও কিছু অন্ধ কাঠমোল্লা কল্লা কাটার জন্য উঠেপড়ে লাগবে!😑

    Reply
  • January 4, 2020 at 7:51 AM
    Permalink

    হিন্দুদের ইতিহাস পড়লে এমন অনেক বিয়ে আর হত্যার খবর পাওয়া যায়।মুহাম্মদ(সাঃ) ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন ৪০ বছর বয়স্ক নারি।৫২ বছর বয়স পর্যন্ত(খাদিজার মৃত্যু পর্যন্ত ) তার সাথে সংসার করেন।খাদিজা মারা যাওয়ার পর ২ বছর নবীজিবিয়ে করেন নি।এর পর তিনি যে বিয়েগুলো করেন সেগুলো রাজনৈতি, সামাজিক কারনে।এ-ই নিয়ে জলঘোলা করার কারন নেই।
    আগামি ৫০ বছরেরমধ্যে মুসলিম রা দুনিয়ায় সংখাগ্রিষ্ঠ হবে।১০০ বছরের মধ্যে কোন অমুসলিম থাকবে না

    Reply
  • January 11, 2020 at 1:57 AM
    Permalink

    সবচেয়ে বেশি আলোচনা করা হয় যে তিনি ছয় বছরের শিশু আয়েশাকে বিয়ে করেছিলেন যা একেবারেই ডাহা মিথ্যা কথা, আয়েশার বয়স যখন ছয় তখন তার পিতা-মাতা নবীজীকে তাদের কন্যা সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, নবীজি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এরপর যখন বয়স নয় তখন আবারও তারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন নবীজীকে তখনো তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন, একবার দুবার নয় বহুবার তিনি বিবি আয়েশাকে বিয়ে করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর যখন তিনি রাজি হলেন তখন আয়েশার বয়স ছিল 19 যখন সে তার পিতার সম্পত্তি দেখাশোনা করত এবং আয়েশা নিজে সম্মতি এবং আগ্রহ দেখিয়েছে তাছাড়া আয়েশার পিতা নবীজির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, এই পুরো ব্যাপারটা ইহুদি নাস্তিকরা রস বানিয়ে তাকে কামুক বানানোর চেষ্টার কোন কমতি করে নাই কিন্তু মূলত ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়. Reality: “মিথ্যা রটনায় নাস্তিকদের আগে কে যায়?”

    Reply
  • April 12, 2020 at 2:20 PM
    Permalink

    পৃথীবীর সবচেয়ে গাদা জাতি হচ্ছে নাস্তিক জাতি।।।
    জাতিগুলোর নাই পরিপূন জ্ঞান।।।

    Reply
    • October 11, 2020 at 3:26 PM
      Permalink

      তুই যে কতো বড় গাধা সেটা তোর বানানের অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়। শালা “গাধা” বানানটাও ঠিকঠাক পারছনা আসছে তর্ক করতে!! 🤣 Get some primary education man then debate.

      Reply
  • July 16, 2020 at 10:15 PM
    Permalink

    কিন্তু নাস্তিক/ইসলাম বিদ্ধেষীরা আমার কিছু প্রশ্নের জবাব আজও দিতে পারে নাই।

    হযরত মুহম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬ বছরের আয়েশা(রাঃ) কে বিয়ে করে কেন ৯ বছরে (মতো বিরোধ আছে) সহবাস করলেন, কেন????????কেন তিনি তিন বছর অপেক্ষা করলেন?

    যেখানে তিনি ইচ্ছা করলে ১৩বিবিই ৯/১০বছরের হতে পারতো।কেন সেখানে, একজন ব্যতীত সবাই বিধবা,তালাকপ্রাপ্তা ছিল?????
    একজন পঞ্চাষোর্ধ পৌঢ় ব্যাক্তি যদি নারীর দেহের জন্য বিয়ে করতেন তাহলে কখনোই তিন বছর অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করতেন না।

    !!!আপনাদের যুক্তিবাদী বিবেক কি বলে???

    প্রাকৃতিক নিয়মে কতো বছর বয়সে মেয়েরা সেক্স করার উপযুক্ত হয়???

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *