আপনি কি বিজ্ঞানমনস্ক, ধর্মমনস্ক নাকি উভয়ই?

বিজ্ঞান যখন আগুন আবিষ্কার করতে পারেনি বা মানুষের আগুন সম্পর্কে ধারনা কম ছিল, তখন প্রায় সকল মানুষ আগুনকে সৃষ্টিকর্তা মনে করে প্রার্থনা করতো। বিজ্ঞান যখন সমুদ্র সম্পর্কে জানতো না, তখন প্রায় সকল মানুষ সমুদ্রকে সৃষ্টিকর্তা মনে করে প্রার্থনা করতো। বিজ্ঞান যখন বজ্র সম্পর্কে জানতো না, তখন প্রায় সকল মানুষ বজ্রকে সৃষ্টিকর্তা মনে করে প্রার্থনা করতো। বিজ্ঞান যত এগিয়েছে, সৃষ্টিকর্তায় মানুষের বিশ্বাস তত কমেছে। এজন্য অতীতের তুলনায় বর্তমানে আত্মস্বীকৃত নাস্তিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আস্তিকদের দাবী — সৃষ্টিকর্তা একটিও মিথ্যা বা অনুচিত কথা বলতে পারেননা বা একটিও ভুল কথা বলতে পারেননা। কিন্তু যদি দেখা যায় ও প্রমাণিত হয় যে — সৃষ্টিকর্তা মিথ্যা বা ভুল একটিও কিছু বলেছেন, তাহলে আস্তিকেরা কি করবেন? সৃষ্টিকর্তা কি মানুষ? যে তিনি দুই একটি ভুল করতে পারেন? বিজ্ঞান ও ধর্ম বিপরীতধর্মী কিছু বললে, অনেকে যুক্তি ও প্রমাণ ছাড়াই অন্ধ বিশ্বাসে ধর্মকে মেনে নেয় এবং সেক্ষেত্রে বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে। বিজ্ঞান ও ধর্মের বৈপরিত্যের ক্ষেত্রে যারা ধর্মের চেয়ে বিজ্ঞানকে প্রাধান্য দেয়, তাদেরকে বলা হয় বিজ্ঞানমনস্ক।

আর যারা বিজ্ঞান ও ধর্মের বৈপরিত্যের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের চেয়ে ধর্মকে প্রাধান্য দেয়, তাদেরকে কি বিজ্ঞানমনস্ক নাকি ধর্মমনস্ক বলা উচিত? নাকি বিজ্ঞানমনস্ক ও ধর্মমনস্ক উভয়ই বলা উচিত? ত্যানা পেচিয়ে সময়ক্ষেপণ করলেই কি সমাধান হয়ে যায়? যারা বিজ্ঞান ও ধর্মের বৈপরিত্যের ক্ষেত্রে, ধর্মকে প্রাধান্য দেয়ার পরেও নিজেকে ধর্মমনস্ক দাবী না করে বিজ্ঞানমনস্ক দাবী করে, তাদের সম্পর্কে অন্যান্য লোকজন কি ধারনা করে? বিজ্ঞান ও ধর্মের বৈপরিত্যের উদাহরণ দেয়া যাক।

আল্লাহর কুরান পড়ুনঃ সুরা – আনকাবুত, আয়াত

[৫৭] كُلُّنَفسٍذائِقَةُالمَوتِۖثُمَّإِلَيناتُرجَعونَ
[৫৭] জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
[৫৭] Everyone shall taste the death. Then unto Us you shall be returned.

কিন্তু শুনে অনেকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে এবং অবিশ্বাস করবে যে, বিজ্ঞান বলেছে কিছু কিছু জীব অমর। যেমনঃ Backward-aging jellyfish, Ever-growing lobsters(এক ধরনের চিংড়ি), Sturdy turtles(এক ধরনের কচ্ছপ) ইত্যাদি। বার্ধ্যক্যজনিত কারণে এদের মৃত্যু হয়না। একটু কষ্ট করে Google Search করে দেখুন। প্রয়োজনে Google Translate ব্যবহার করুন।

পড়ুনঃ সুরা – যারিয়া’ত, আয়াত

[৪৯] وَمِنكُلِّشَيءٍخَلَقنازَوجَينِلَعَلَّكُمتَذَكَّرونَ
[৪৯] আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।
[৪৯] And of everything We have created pairs, that you may remember (the Grace of Allâh).

আরেকটি উদাহরণ দেয়া যাক। বিজ্ঞান বলছে – হুইপটেল গিরগিটিরা বংশবিস্তার করে পার্থোজেনেসিস প্রক্রিয়ায়। এই গিরগিটিরা সবাই নারী, এদের মধ্যে পুরুষ প্রজাতি নেই। বিগ ব্যাং এর ধারনা কুরানে নাকি ১৪০০ বছর আগেই দেয়া হয়েছে।

পড়ুনঃ সুরা – আম্বিয়া, আয়াত

[৩০] أَوَلَميَرَالَّذينَكَفَرواأَنَّالسَّمٰوٰتِوَالأَرضَكانَتارَتقًافَفَتَقنٰهُماۖوَجَعَلنامِنَالماءِكُلَّشَيءٍحَىٍّۖأَفَلايُؤمِنونَ
[৩০] কাফেররা কি ভেবে দেখেনা যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সব কিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেনা?
[৩০] Have not those who disbelieve known that the heavens and the earth were joined together as one united piece, then We parted them? And We have made from wate every living thing. Will they not then believe?

কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন — বিগ ব্যাং এর সময়তো পৃথিবীর জন্মই হয়নি! বিগ ব্যাং হয়েছে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে, আর পৃথিবীর বয়স মাত্র ৪.৫ বিলিয়ন বছর। অর্থাৎ, বিগ ব্যাং এর ৯.৩ বিলিয়ন বছর পরে এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে!

■ কুরানে আল্লাহ বলেছেন — ফেরাউনের অপরাধের শাস্তি হিসাবে ফেরাউনকে সমুদ্রের পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছে এবং ফেরাউনের লাশকে শত শত বছর ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেখুন — বিজ্ঞান কি বলে। ফিরাউন (pharaoh) কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নয়। প্রাচীন মিশরীয় রাজাদের উপাধি ছিল ফারাও – আরবরা বলতো ফিরাউন। মিশরে ৩৩২ জন রাজা রাজত্ব করেছিলেন, তাদের সবাইকেই ফারাও/ফেরাউন বলা হতো। কোরআনে কোনো নির্দিষ্ট ফিরাউনের নাম উল্লেখ করা হয়নি বরং উক্ত কাহিনীতে শুধুমাত্র ফেরাউন উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অজ্ঞতা। আপনি শুধুমাত্র রাজা/প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী বলতে কাকে বুঝবেন? কোন সময়েরকালের রাজা/প্রেসিডেন্ট/প্রধানমন্ত্রী? মুসলিমরা যে ফেরাউনের লাশকে সাগরের নিচ থেকে আবিষ্কৃত দাবি করে, যে ফেরাউনের লাশকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়েছিল, সে ফেরাউনটি হচ্ছে দ্বিতীয় রেমেসিস (Ramesses II). ইসলামী দাবি অনুযায়ী, ফিরাউন মুসা নবীকে ধাওয়া করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অথচ ফিরাউন দ্বিতীয় রেমেসিস মৃত্যুবরণ করেছেন আর্থ্রাইটিস রোগে। এটি বৃদ্ধ বয়সের মানুষদের প্রায়ই হতে দেখা যায়। তাই এটা স্পষ্ট যে, দ্বিতীয় রেমেসিস সাগরে ডুবে মরেননি। কুরানের বক্তব্য ভুল।

■ কুরান বা হাদিসের কোথাও কি কেউ লেখা দেখাতে পারবে যে, কুরান বা হাদিস সেকালের মানুষের মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে, বর্তমান যুগের মানুষের জন্য আংশিক মেনে চলার কথা বলা হয়েছে? কুরানের আয়াতের সাথে রাষ্ট্রীয় আইনের বৈপরিত্য থাকলে কুরানকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনকে মেনে চলতে হবে? আপনি নিজে কুরান বা হাদিসের লেখক হতে চান নাকি? নাকি কুরান বা হাদিসের লেখা পরিবর্তন করে লিখতে চান? আপনাদের কাছে কোনটা বড় – রাষ্ট্র বড় না আল্লাহ বড়? বাংলাদেশের সংবিধান বড় না কুরান বড়?

■ কেউ যদি Christians and Jews are worse than dogs. এর অনুবাদ করে “পৃথিবী গোলাকার, কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ দুই মেরুতে কিছুটা চ্যাপ্টা।” শিশুটি বড় হয়ে এমন লিখিত অনুবাদ মানতে অস্বীকার করলে তাকে বলা হচ্ছে – অনুবাদ ঠিকই আছে। কারণ এটা বুঝতে হলে শুধু এই বাক্যটি পড়লেই হবে না, এর আগের ও পরের সকল প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি, সমসাময়িক অবস্থা, সমকালীন মানুষদের মানসিকতা, আচরণ ইত্যাদি জানতে হবে। এরকম ব্যাখ্যাকারীকে শিশুটি বড় হয়ে মহাউন্মাদ ভাবে। এখন ইন্টারনেটের যুগ। অতীতে মানুষের হাতে কুরানের অনুবাদ সহজে পৌঁছাত না। কিন্তু এখন কুরানের অনুবাদসহ পি.ডি.এফ এবং ওয়ার্ড ফাইল পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে মানুষ ইন্টারনেটের সাহায্যে পেয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ভাষায় সেগুলোর অনুবাদ করছে Google Translate ব্যবহার করে। অনুবাদ না জানার কারণে যে কুরানকে একসময় মানুষ পরম যত্নে মাথায় করে রাখত, সেই কুরানের অনুবাদ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে এখন মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে। যেন নিজের পুরুষাঙ্গ নিজের মলদ্বারে প্রবেশের কারণে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

■ কুরান ও সহিহ হাদিস মানলে স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, নারী নেতৃত্বে বাংলাদেশ কখনও উন্নতি করতে পারবে না। প্রমাণ দেখুন : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যে জাতি নিজেদের শাসনক্ষমতা কোন মহিলার উপর অর্পন করে, সে জাতি কখনোই উন্নতি করতে পারেনা।”
[সহীহ আল-বুখারীঃ ৬৬১৮ কিতাবুল ফিতান, আত-তিরমিযীঃ ২২৬২]

তাছাড়া কুরান অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হলে – মহিলাদের পর্দা মেনে চলতে হবে, মুমিন মুসলমান ছবি তুলতে বা আঁকতে পারবে না, বাদ্যসহ গান শুনতে বা গাইতে পারবে না ইত্যাদি। এভাবে বর্তমান যুগে কতজন মুমিন মুসলমান বসবাস করছে?

■ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন,

তোমরা গরুর দুগ্ধ পান করো কারণ এতে ঔষধি গুণ রয়েছে এবং তার ঘি এক ধরনের প্রতিকার কিন্তু তার মাংস হতে সাবধান! কারণ সেটা রোগ সংক্রামক বা ব্যাধি।
[সহীহ আল-জামি, হাদিস নং ৪০৬০]

■ মুমিনদের দাবী চন্দ্র বা চাঁদ দু’ভাগ বা বহুভাগ করা হয়েছে। পড়ুন: সুরা – ক্বামার, আয়াত
[1] اقتَرَبَتِ السّاعَةُ وَانشَقَّ القَمَرُ
[1] কেয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।
[1] The Hour has drawn near, and the moon has been cleft asunder (the people of Makkah requested Prophet Muhammad SAW to show them a miracle, so he showed them the splitting of the moon).

আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে কেউ কল্পনাই করতে পারেনি যে, মানুষের পক্ষে চাঁদে যাওয়া সম্ভব হবে। নিল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদে যান, তখন গুজব রটে যে, তিনি চাঁদে গিয়ে চাঁদকে বিভক্ত অবস্থায় দেখেছেন – এমনকি চাঁদে আজান শুনতে পেয়েছেন। সে কারণে পৃথিবীতে ফিরে এসে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। অপপ্রচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিল আর্মস্ট্রং যখন লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানালেন যে, তিনি চাঁদে বিভক্তি দেখেননি, আজান শোনেননি এবং ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করেননি – তখন মুমিন মুসলমানেরা কুরানকে ঠিক রাখার জন্য আল্লাহর নির্দেশে নিল আর্মস্ট্রং-এর চাঁদে যাওয়াটাকেই মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা বলে প্রচার শুরু করলো।

■ বর্তমানে বিধর্মীরা অন্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ধর্মের পিছনে বেশি লেগেছে। কারণ, ইসলাম ধর্ম অন্যান্য ধর্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ধর্ম। সবাই শ্রেষ্ঠত্বের অনুসারী। অনেক বিধর্মী আরবী ভাষা বোঝেন না, তাই তারা অনুবাদ পড়েন। Google Translate ব্যবহার করে অনেক ভাষায় অনুবাদ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। অনুবাদ পড়ে হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল্লাহ আল-মাসুদের মত অনেক মুমিন মুসলমানও নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে।

পড়ুন: সুরা – ইমরান, আয়াত

[19] إِنَّ الدّينَ عِندَ اللَّهِ الإِسلٰمُ ۗ وَمَا اختَلَفَ الَّذينَ أوتُوا الكِتٰبَ إِلّا مِن بَعدِ ما جاءَهُمُ العِلمُ بَغيًا بَينَهُم ۗ وَمَن يَكفُر بِـٔايٰتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَريعُ الحِسابِ
[19] নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।
[19] Truly, the religion with Allâh is Islâm. Those who were given the Scripture (Jews and Christians) did not differ except, out of mutual jealousy, after knowledge had come to them. And whoever disbelieves in the Ayât (proofs, evidences, verses, signs, revelations, etc.) of Allâh, then surely, Allâh is Swift in calling to account.

আবার পড়ুন: সুরা – ইমরান, আয়াত

[85] وَمَن يَبتَغِ غَيرَ الإِسلٰمِ دينًا فَلَن يُقبَلَ مِنهُ وَهُوَ فِى الءاخِرَةِ مِنَ الخٰسِرينَ
[85] যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।
[85] And whoever seeks a religion other than Islâm, it will never be accepted of him, and in the Hereafter he will be one of the losers.

■ সারা জীবন পূর্ব-পুরুষদের দেখাদেখি ধর্মীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং তার জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা-পয়সা খরচ (কুরবানীতে লাখ টাকার পশু জবাই), সহজে ভুল হিসাবে মেনে নিতে মনে সায় দেয় না। তাই না?

■ আল্লাহ আর শয়তান একই। হুজুর যখন ইমামতি করেন, তখন তার মনে আল্লাহ ভর করেন। আর ঐ একই হুজুর যদি বলিউডের নায়িকা ক্যাটরিনা কাইফকে বিছানায় পান, তখন ঐ হুজুরের মনে শয়তান ভর করে। মুহাম্মদের স্ত্রী ছিলো ১১ জন (কেউ বলেন ১৩ জন) এবং কিছু দাসী ছিলো। মুহাম্মদ যখন ৫৩ বছর বয়সে ৯ বছর বয়সী আয়েশাকে বিবাহের নামে ধর্ষণ করেছিলো, তখন মুহাম্মদের মনে কি আল্লাহ নাকি শয়তান ভর করেছিলো?

■ মুহাম্মদের উপর তার আবিষ্কৃত আল্লাহর অনেক দয়া ছিলো। পড়ুন: সুরা – আহযাব, আয়াত
[50] يٰأَيُّهَا النَّبِىُّ إِنّا أَحلَلنا لَكَ أَزوٰجَكَ الّٰتى ءاتَيتَ أُجورَهُنَّ وَما مَلَكَت يَمينُكَ مِمّا أَفاءَ اللَّهُ عَلَيكَ وَبَناتِ عَمِّكَ وَبَناتِ عَمّٰتِكَ وَبَناتِ خالِكَ وَبَناتِ خٰلٰتِكَ الّٰتى هاجَرنَ مَعَكَ وَامرَأَةً مُؤمِنَةً إِن وَهَبَت نَفسَها لِلنَّبِىِّ إِن أَرادَ النَّبِىُّ أَن يَستَنكِحَها خالِصَةً لَكَ مِن دونِ المُؤمِنينَ ۗ قَد عَلِمنا ما فَرَضنا عَلَيهِم فى أَزوٰجِهِم وَما مَلَكَت أَيمٰنُهُم لِكَيلا يَكونَ عَلَيكَ حَرَجٌ ۗ وَكانَ اللَّهُ غَفورًا رَحيمًا
[50] হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
[50] O Prophet (Muhammad SAW)! Verily, We have made lawful to you your wives, to whom you have paid their Mahr (bridal money given by the husband to his wife at the time of marriage), and those (slaves) whom your right hand possesses – whom Allâh has given to you, and the daughters of your ‘Ammat (paternal uncles) and the daughters of your ‘Amm (paternal aunts) and the daughters of your Khâlat (maternal uncles) and the daughters of your Khâl (maternal aunts) who migrated (from Makkah) with you, and a believing woman if she offers herself to the Prophet, and the Prophet wishes to marry her; a privilege for you only, not for the (rest of) the believers. Indeed We know what We have enjoined upon them about their wives and those (slaves) whom their right hands possess, – in order that there should be no difficulty on you. And Allâh is Ever Oft¬Forgiving, Most Merciful.

■ সর্বশ্রেষ্ঠ আস্তিকের দেশ, মুহাম্মদের জন্মস্থান, সৌদি আরবে গিয়ে বিভিন্ন দেশের মহিলারা সবকিছু হারিয়ে কোলে করে সর্বশ্রেষ্ঠ মুমিন সন্তান নিয়ে দেশে ফিরে আসছেন। বর্তমানে আল্লাহই ঐ সকল শিশুদের পৈত্রিক পরিচয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আপনারা জেনে অবাক হবেন যে – সৌদি আরবের শরীয়া রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কোন ধর্ষিত নারীর ধর্ষণের বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে আইনের সাহায্য নেওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

পড়ুন: সুরা – মুমি’নুন, আয়াত

[1] قَد أَفلَحَ المُؤمِنونَ
[1] মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
[1] Successful indeed are the believers.
[2] الَّذينَ هُم فى صَلاتِهِم خٰشِعونَ
[2] যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;
[2] Those who offer their Salât (prayers) with all solemnity and full submissiveness.
[3] وَالَّذينَ هُم عَنِ اللَّغوِ مُعرِضونَ
[3] যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
[3] And those who turn away from Al-Laghw (dirty, false, evil vain talk, falsehood, and all that Allâh has forbidden).
[4] وَالَّذينَ هُم لِلزَّكوٰةِ فٰعِلونَ
[4] যারা যাকাত দান করে থাকে
[4] And those who pay the Zakât.
[5] وَالَّذينَ هُم لِفُروجِهِم حٰفِظونَ
[5] এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।
[5] And those who guard their chastity (i.e. private parts, from illegal sexual acts).
[6] إِلّا عَلىٰ أَزوٰجِهِم أَو ما مَلَكَت أَيمٰنُهُم فَإِنَّهُم غَيرُ مَلومينَ
[6] তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।
[6] Except from their wives or (slaves) that their right hands possess, – for then, they are free from blame.

■ সোমালিয়া দেশের একটি শিশু বা পৃথিবীর যেকোনো জায়গার একটি শিশু যদি দুর্ভিক্ষের কারণে না খেতে পেয়ে মারা যায়, তাহলে ঐ শিশুটির মৃত্যু কি সৃষ্টিকর্তার পরীক্ষা? নাকি সৃষ্টিকর্তার শাস্তি? নাকি সৃষ্টিকর্তার পুরস্কার? নাকি ঐ শিশুটির পূর্বপুরুষদের কর্মের ফল শিশুটিকে ভোগ করতে হলো?

পড়ুন: সুরা – হুদ, আয়াত

[6] ۞ وَما مِن دابَّةٍ فِى الأَرضِ إِلّا عَلَى اللَّهِ رِزقُها وَيَعلَمُ مُستَقَرَّها وَمُستَودَعَها ۚ كُلٌّ فى كِتٰبٍ مُبينٍ
[6] আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।
[6] And no (moving) living creature is there on earth but its provision is due from Allâh. And He knows its dwelling place and its deposit (in the uterus, grave). all is in a Clear Book (Al-Lauh Al-Mahfûz – the Book of Decrees with Allâh).

পড়ুন: সুরা – রা’দ, আয়াত

[26] اللَّهُ يَبسُطُ الرِّزقَ لِمَن يَشاءُ وَيَقدِرُ ۚ وَفَرِحوا بِالحَيوٰةِ الدُّنيا وَمَا الحَيوٰةُ الدُّنيا فِى الءاخِرَةِ إِلّا مَتٰعٌ
[26] আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রুযী প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। তারা পার্থিব জীবনের প্রতি মুগ্ধ। পার্থিবজীবন পরকালের সামনে অতি সামান্য সম্পদ বৈ নয়।
[26] Allâh increases the provision for whom He wills, and straitens (it for whom He wills), and they rejoice in the life of the world, whereas the life of this world as compared with the Hereafter is but a brief passing enjoyment.

■ আজ থেকে ১৪০০ বছর বা তারও আগে মানুষ কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের ব্যবহার জানতো না। ফলে, ঐ সময়ে লিখিত কুরানে বৈপরিত্য থাকছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করা আল্লাহর পক্ষে সম্ভব হয়নি। কুরানের কিছু বৈপরিত্য তুলে ধরা হলো। প্রথমেই দেখুন – কুরানে কোনো বৈপরিত্য আছে কিনা সে বিষয়ে আল্লাহ কি বলেন।

পড়ুন: সুরা – নিসা, আয়াত

[82] أَفَلا يَتَدَبَّرونَ القُرءانَ ۚ وَلَو كانَ مِن عِندِ غَيرِ اللَّهِ لَوَجَدوا فيهِ اختِلٰفًا كَثيرًا
[82] এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।
[82] Do they not then consider the Qur’ân carefully? Had it been from other than Allâh, they would surely have found therein many contradictions.

এবার পড়ুন: সুরা – নাহল, আয়াত

[25] لِيَحمِلوا أَوزارَهُم كامِلَةً يَومَ القِيٰمَةِ ۙ وَمِن أَوزارِ الَّذينَ يُضِلّونَهُم بِغَيرِ عِلمٍ ۗ أَلا ساءَ ما يَزِرونَ
[25] ফলে কেয়ামতের দিন ওরা পূর্ণমাত্রায় বহন করবে ওদের পাপভার এবং পাপভার তাদেরও যাদেরকে তারা তাদের অজ্ঞতাহেতু বিপথগামী করে। শুনে নাও, খুবই নিকৃষ্ট বোঝা যা তারা বহন করে।
[25] They may bear their own burdens in full on the Day of Resurrection, and also of the burdens of those whom they misled without knowledge. Evil indeed is that which they shall bear!

আবার পড়ুন: সুরা – আন’য়াম, আয়াত

[164] قُل أَغَيرَ اللَّهِ أَبغى رَبًّا وَهُوَ رَبُّ كُلِّ شَيءٍ ۚ وَلا تَكسِبُ كُلُّ نَفسٍ إِلّا عَلَيها ۚ وَلا تَزِرُ وازِرَةٌ وِزرَ أُخرىٰ ۚ ثُمَّ إِلىٰ رَبِّكُم مَرجِعُكُم فَيُنَبِّئُكُم بِما كُنتُم فيهِ تَختَلِفونَ
[164] আপনি বলুনঃ আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে সবাইকে প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে।
[164] Say: “Shall I seek a lord other than Allâh, while He is the Lord of all things? No person earns any (sin) except against himself (only), and no bearer of burdens shall bear the burden of another. Then unto your Lord is your return, so He will tell you that wherein you have been differing.”

আবার বৈপরিত্য দেখুন। পড়ুন: সুরা – ইউনুস, আয়াত

[47] وَلِكُلِّ أُمَّةٍ رَسولٌ ۖ فَإِذا جاءَ رَسولُهُم قُضِىَ بَينَهُم بِالقِسطِ وَهُم لا يُظلَمونَ
[47] আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একেকজন রসূল রয়েছে। যখন তাদের কাছে তাদের রসূল ন্যায়দন্ডসহ উপস্থিত হল, তখন আর তাদের উপর জুলুম হয় না।
[47] And for every Ummah (a community or a nation), there is a Messenger; when their Messenger comes, the matter will be judged between them with justice, and they will not be wronged.

এর বৈপরিত্যটি পড়ুন: সুরা – সা’বা, আয়াত

[44] وَما ءاتَينٰهُم مِن كُتُبٍ يَدرُسونَها ۖ وَما أَرسَلنا إِلَيهِم قَبلَكَ مِن نَذيرٍ
[44] আমি তাদেরকে কোন কিতাব দেইনি, যা তারা অধ্যয়ন করবে এবং আপনার পূর্বে তাদের কাছে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করিনি।
[44] And We had not given them Scriptures which they could study, nor sent to them before you (O Muhammad SAW) any warner (Messenger).

■ মৃত্যুভয়ে অনেকে অন্ধের মত ধর্মকে অনুসরণ করে। অনেক মুমিন যুক্তি দেখান – রাষ্ট্র যদি কাউকে সামান্য সুদ খেতে বাধ্য করে, তাহলে সেটা তার দোষ হবে না। কিন্তু কুরানে বা কোনো হাদিসে কি বলা আছে যে, রাষ্ট্র বাধ্য করলে সামান্য সুদ খাওয়া যাবে? বা সুদ খাওয়ার পরে তা দান করে দিলে বা ভালো কাজে ব্যয় করলে মাফ পেয়ে যাবে? আপনাদের কাছে কোনটা বড় – রাষ্ট্র বড় না আল্লাহ বড়? বাংলাদেশের সংবিধান বড় না কুরান বড়? একটা গুলি লেগে মারা যাওয়া, আর দশটা গুলি লেগে মারা যাওয়ার ফলাফল কি একই নাকি ভিন্ন? সবাই কুরানের অনুবাদ পড়ুন এবং দেখুন কুরান সত্য হলে, বর্তমানে আস্তিক বা নাস্তিক প্রায় সকলেই চিরকাল দোজখে থাকবেন।

প্রমাণ হিসাবে অর্থসহ কুরান পড়ুন। সুরা – বাকারা, আয়াত
[275] الَّذينَ يَأكُلونَ الرِّبوٰا۟ لا يَقومونَ إِلّا كَما يَقومُ الَّذى يَتَخَبَّطُهُ الشَّيطٰنُ مِنَ المَسِّ ۚ ذٰلِكَ بِأَنَّهُم قالوا إِنَّمَا البَيعُ مِثلُ الرِّبوٰا۟ ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ البَيعَ وَحَرَّمَ الرِّبوٰا۟ ۚ فَمَن جاءَهُ مَوعِظَةٌ مِن رَبِّهِ فَانتَهىٰ فَلَهُ ما سَلَفَ وَأَمرُهُ إِلَى اللَّهِ ۖ وَمَن عادَ فَأُولٰئِكَ أَصحٰبُ النّارِ ۖ هُم فيها خٰلِدونَ
[275] যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।
[275] Those who eat Ribâ (usury) will not stand (on the Day of Resurrection) except like the standing of a person beaten by Shaitân (Satan) leading him to insanity. That is because they say: “Trading is only like Ribâ (usury),” whereas Allâh has permitted trading and forbidden Ribâ (usury). So whosoever receives an admonition from his Lord and stops eating Ribâ (usury) shall not be punished for the past; his case is for Allâh (to judge); but whoever returns [to Ribâ (usury)], such are the dwellers of the Fire – they will abide therein.

পড়ুন: সুরা – আরাফ, আয়াত

[36] وَالَّذينَ كَذَّبوا بِـٔايٰتِنا وَاستَكبَروا عَنها أُولٰئِكَ أَصحٰبُ النّارِ ۖ هُم فيها خٰلِدونَ
[36] যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে, তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল থাকবে।
[36] But those who reject Our Ayât (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations,) and treat them with arrogance, they are the dwellers of the (Hell) Fire, they will abide therein forever.

■ কুরানে ঊল্লেখ আছে – কোন মানুষের পক্ষে কোনো সুরা বা আয়াত বানানো সম্ভব না। বিধর্মী রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে মানুষ যতই সংগীত রচনা করুক না কেন, তা কি রবীন্দ্রসংগীত হবে? দেখুনতো, ১৪০০ বছর আগের আয়াত বেশি গ্রহণযোগ্য নাকি বর্তমান যুগের আয়াতগুলো বেশি গ্রহণযোগ্য? কুরানের সুরা – ইখলাস এর মত ৪ টি আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা পড়ুন।

সুরা – মুক্তমনা

সুরা – মুক্তমনা, আয়াত [0১] তোমরা কি দেখো না – নাস্তিক কাফের বিধর্মীরা ধর্মকে তোমাদের মত বেশি সময় না দিয়ে অন্যান্য কাজে বেশি সময় ব্যয় করে? তারা যতই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করুক না কেন, তোমরা তাদের মত ধর্মকে বেশি সময় না দিয়ে, অন্যান্য কাজে বেশি সময় দিবে না। নিশ্চয়ই পরকালের প্রধান বিচারক স্বয়ং আল্লাহ। তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান।

সুরা – মুক্তমনা, আয়াত [0২] আল্লাহ তোমাদের জন্য সুদ খাওয়া হারাম করেছেন। যে সুদ খাবে সে চিরকাল দোজখে থাকবে। তবে, তোমরা যে রাষ্ট্রে বসবাস করবে, সেই রাষ্ট্র যদি তোমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তোমাকে সুদ খেতে বাধ্য করে – তাহলে তার জন্য তুমি দোষী হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে অবগত আছেন। তিনি যা জানেন, তোমরা তা জান না।

সুরা – মুক্তমনা, আয়াত [০৩] হে মুমিন মুসলমানগণ ! তোমারা নিজেদের ছবি তুলবে না। এমনকি ছবি আঁকবেও না। তবে রাষ্ট্র যদি অতি জরুরি প্রয়োজনে এবং তোমার নিরাপত্তার স্বার্থে পাসপোর্ট বা এডমিশন টেস্টে অংশগ্রহণের জন্য ছবি তুলতে তোমাকে বাধ্য করে, তাহলে তুমি ছবি তুলতে পার, এতে তোমার কোনো দোষ নেই। তোমরা কেবল আল্লাহর স্মরণাপন্ন হও। আল্লাহ মহান এবং তিনিই তোমাদের প্রকৃত উদ্ধারকর্তা।

সুরা – মুক্তমনা, আয়াত [০৪] যারা প্রকৃত মুমিন মুসলমান তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। তবে যারা ইসরাইলের চক্রান্ত আই.এস (ইসলামিক স্টেট) এর মত জঙ্গি হবে তাদের যতই খতনা করা থাকুক না কেন বা তাদের পিতা-মাতা যতই প্রকৃত মুমিন মুসলমান হোক না কেন, ইসরাইলের চক্রান্ত আই.এস. –এ যারা অংশগ্রহণ করবে তারা প্রকৃত মুসলিম থাকবে না। পাপকে ঘৃণা কর, পাপীকে নয়। সর্বদা আল্লাহর রাস্তায় চলো। তিনি সর্বশক্তিমান ও বিচার দিনের মালিক।

■ অনেক আলেম-মুমিন আবার কুরানে ম্যাথমেটিক্যাল হারমনি বা গাণিতিক সামঞ্জস্য দেখতে পান। যেমন – সুরা ও আয়াতগুলোর মধ্যে জোড়-বিজোড় সংখ্যা বা ১০ বা ১৯ বা ৭২ ইত্যাদি সংখ্যার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বা সমীকরণ দেখতে পাওয়া যায়। তবে অতি দুঃখের বিষয় হলো – কুরানের আয়াত সংখ্যা নিয়েই আলেম, মুমিনদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। কোনো আলেম, মুমিন বলেন মোট আয়াত ৬৬৬৬ (এখানেও গাণিতিক সামঞ্জস্য !!); আবার কোনো আলেম, মুমিন বলেন, মোট আয়াত ৬২৩৬; আবার কোনো আলেম, মুমিন বলেন, মোট আয়াত ৬৬১৬; আবার কোনো আলেম, মুমিন বলেন, মোট আয়াত ৬২১৭ ইত্যাদি। যেখানে কুরানের আয়াতের মোট সংখ্যা নিয়েই আলেম-মুমিনরা একমত নন, সেখানে ভন্ডরা নিজেদের ইচ্ছামত কুরানের আয়াত বাড়িয়ে বা কমিয়ে গাণিতিক সামঞ্জস্য দেখানোর চেষ্টা করে। রাশাদ খলিফা নামক একজন ভন্ড ব্যক্তি কুরানের গাণিতিক সামঞ্জস্য আবিষ্কারক দাবী করে এবং এই সুযোগে নিজেকে নবী হিসাবে দাবী পর্যন্ত করেছিলেন। দেখুন, কুরানের মোট আয়াতের সংখ্যা সম্পর্কে আলেম-মুমিনদের কার কি মত : Ibn-I Abbas (ra): 6616, Nafi (ra): 6217, Shayba (ra): 6214, Zamahshari (ra) (the genius Eloquence Scholar of the Arabic language and literature); 6666.
Bediuzzaman, Mujaddid (the reformer) of the 13 century, also has the opinion of 6666 verses.

■ ইসলাম ধর্মের আগে পৃথিবীতে খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ইত্যাদি ধর্ম এসেছিলো। কুরান লেখকের নিজস্ব ধারনার লেখা এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু শুনে তাও কুরানে লেখা হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় – বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে প্রমাণ পেয়েছেন – দুই নদীর পানি একত্রে পাশাপাশি প্রবাহিত হলে যদি নদী দুটির পানির ঘনত্ব ও পানির রং আলাদা থাকে, তাহলে সহজে তা একে অপরের সাথে মেশে না। বিজ্ঞানীরা বলেছেন – দুই রংয়ের নদীর পানি ধীরে ধীরে মিশে যায়। আপনি লবন ও চিনি মেশানো আলাদা দুটি গ্লাসে লাল ও নীল রং মিশিয়ে দুটি গ্লাসের পানিকে পাশাপাশি ঢাললে দেখতে ও বুঝতে পারবেন। যেমন – পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থলে দুই নদীর পানির ঘনত্বের তারতম্য হওয়ায় দুই নদীর পানি একত্রে মেশে না । এরকম নদীর উদাহরণ পৃথিবীতে অনেক আছে। প্রশান্ত মহাসাগরের শাখা আলাস্কা উপসাগরের সবচেয়ে বড় দুটি হিমবাহ হল দি মালাসপিনা হিমবাহ এবং বেরলিং হিমবাহ। দুটি হিমবাহ আলাদাভাবে পাশাপাশি বয়ে যাচ্ছে আলাস্কার ভেতর দিয়ে। এদের পানির ঘনত্বও আলাদা হওয়ার কারণে পাশাপাশি বয়ে গেলেও এদের মিশতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে। কিন্তু কুরানে বলা হয়েছে – দুই রংয়ের নদীর পানি একত্রে মেশে না।
প্রমাণ দেখুন: সুরা – আর’রহমান, আয়াত
[19] مَرَجَ البَحرَينِ يَلتَقِيانِ
[19] তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন।
[19] He has let loose the two seas (the salt and the frsh water) meeting together.
[20] بَينَهُما بَرزَخٌ لا يَبغِيانِ
[20] উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না।
[20] Between them is a barrier which none of them can transgress.

■ দেখুন: বাইবেলের জেনেসিস ১:১-২ এ বলা হয়েছে – যখন কিছুই ছিলনা, তখন ঈশ্বরের আত্মা জলরাশির উপর ভেসে বেড়াচ্ছিল। এটা পরবর্তীতে কুরানে কপি করা হয়েছে: সুরা – হুদ, আয়াত ৭ এ বলা হয়েছে: সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহর আরশ ছিলো পানির উপরে ভাসমান। আবার, বাইবেলের জেনেসিস, অধ্যায় ১ এ বলা হয়েছে – ঈশ্বর ছয়দিনে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। একই কথা পরবর্তীতে কুরানে কপি করা হয়েছে: সুরা – ইউনুস, আয়াত ৩ এ বলা হয়েছে – আল্লাহ আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে তৈরি করেছেন।

■ মুহাম্মদ সম্পর্কে একটি অতি পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষনীয় ঘটনা হলো — মুহাম্মদের চলার পথে এক বুড়ির কাটা পুতে রাখার ঘটনা। অথচ কুরান বা কোনো হাদিসের কোথাও এতবড় গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষনীয় ঘটনার ঊল্লেখ নেই। সত্যিকারে এমন কাজ করার দুঃসাহস কেউ দেখালে, মুহাম্মদ সাথেসাথে তার মাথা কেটে ফেলত, যেমনটা বর্তমানে আই.এস জঙ্গিরা করে থাকে। বেশিরভাগ মুমিন মুসলমান মুখে বলেন যে, তারা আই.এস কে সমর্থন করেননা। কারণ যারা আই.এস তারা প্রকৃত মুসলমান না। আই.এস হলো ইজরাইল বাইহুদীদের চক্রান্ত। আই.এস জঙ্গিদের খতনা করা কেন? আই.এস জঙ্গিদের পিতা-মাতা মুসলমান কেন? কোনো হিন্দু ব্যক্তি যদি জঙ্গি হয়, তাহলে কি বলতে হবে — ঐ জঙ্গি হিন্দু প্রকৃত হিন্দু নয়? এটা মুসলমানদের চক্রান্ত?

■ ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। কিন্তু কাফের নোবেল কমিটি প্রতিবছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিলেও, শান্তির ধর্ম হিসাবে ইসলাম ধর্মের প্রচারক কোনো মুমিনকে নোবেল পুরস্কার দেয়নি। হায় আল্লাহ ! আল্লাহ তুমি বেহেস্তে নিয়ে গিয়ে পরহেজগার মুমিন মুসলমানদের বেহেস্তিয় নোবেল পুরস্কার দিও। আমীন। অনেক ইসলামী গবেষক বলেন যে, বর্তমান বিজ্ঞানের সব আবিষ্কার ১৪০০ বছর আগেই কুরানে ঊল্লেখ রয়েছে। কাফের বিজ্ঞানীরা কুরান পড়লে এবং কুরান গবেষণা করলে, অনেক আগেই অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারতো এবং সেইসাথে মৃত্যুর পরে বেহেস্তে যেতে পারতো। আল্লাহ কবে কাফের বিজ্ঞানীদের হেদায়েত দান করবেন?

■ মহানাস্তিক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের “বিদ্রোহী” কবিতাটি পড়ুন।

বিদ্রোহী
বল বীর –
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’আমারি নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর –
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন-আরশ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাতৃর!
———————————-
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

■ নজরুলের মত কিছু নাস্তিক কবি লিখেছেন – “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”
আবার, “কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুর-অসুর।”

■ অনুবাদসহ কুরান পড়ে আস্তিক হোন। না বুঝে কুরান পড়ে আস্তিক হয়ে, নাস্তিকদের গালিগালাজ করতে থাকবেন না। অর্থসহ কুরান পড়ে দেখুন – আস্তিকেরা সঠিক বলছে নাকি নাস্তিকেরা সঠিক বলছে। নিজের মনুষ্যত্ব, বুদ্ধি, বিচার, বিবেচনা, যুক্তি, মেধা কাজে লাগান। আস্তিক ও নাস্তিক সবার কথা শুনুন, সবার লেখা পড়ুন। কথা শুনলেই বা লেখা পড়লেই নিজের বিবেক বিসর্জন দিয়ে কেউ আস্তিক বা নাস্তিক হয়ে যায় না। শোনা কথায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করবেন না। শোনা কথার সাথে লেখার মিল আছে কিনা যাচাই করুন। শোনা কথার সাথে লেখার মিল পেলে সে অনুযায়ী কাজ করুন। আপনাদের কষ্টের উপার্জন যেন ধর্ম ব্যবসায়ীরা বিনা পরিশ্রমে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে না নেয়। ধর্ম ব্যবসায়ীদের ভিতরের খবর রাখুন।

3 thoughts on “আপনি কি বিজ্ঞানমনস্ক, ধর্মমনস্ক নাকি উভয়ই?

  • October 20, 2018 at 12:44 PM
    Permalink

    আমার মনে হয় না আপনি হিমুর বৈশিষ্ট্য শুধু মাত্র তার কভার, কিংবা দুই একটা লাইন পরে বুঝে ফেলেছেন। তার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য তার নৈতিকতা বুঝতে হলে অবশ্যই আপনাকে পুরো বইটা এমনকি পুরো সিরিজটা ভালো ভালে বুঝতে হবে। কোরআন এর ক্ষেত্রে ঠিক তেমনই। না তো আপনি কোন হাফেজ, না তো আপনি কোন বিশেষজ্ঞ। আপনাকে আমি কিছু করতে বলব না। শুধু মাত্র যদি পারেন আপনার জ্ঞান এর জন্য হলেও পুরো কোরআনটি সম্পূর্ণ আরবি একবার পরার চেষ্টা করুন ভাবর্থ সহ। এতে আপনার রেফারেন্স দিতেও সুবিধা হবে এবং শুধু মাত্র একটি বাক্য ধরে কোরআনকে যাচাই করবেন না আশা করি।

    Reply
  • November 10, 2018 at 5:04 PM
    Permalink

    যদি আল্লাহ বলে কিছু থাকতো বা মহম্মদের কিছু ক্ষমাতা থাকতো তাহলে মহম্মদকে তিনি কাফের অমুস্লিমদের হত্যা করতে তিনি মিগ-30,এফ-১৬ বা জগুয়ার যুদ্ধবিমান বা একে ৪৭ বন্দুক বা অটোম্যাটিক আস্যাল্ট রাইফেল কিম্বা অ্যাটম বা হাইড্রোজেন বোমা তুলে দিতেন | কিন্তু এগুলা অমুস্লিমদের আবিষ্কার | লড়তে হয়েছে তরোয়াল আর প্রাচীন অস্ত্রে |
    মুমিনরা যুদ্ধ করতে গিয়ে বা দুর্ঘটনাতে রক্তের অভাবে মারা যাই | তখন দরকার রক্তের | কিন্তু রক্তের ABO সিস্টেম ও রক্ত সঞ্চাল পদ্ধতি অমুস্লিমদের আবিষ্কার
    অর্থাৎ আল্লাহ বা মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) মুমেনদের জিহাদে তাদের কোনকিছু দিয়ে বা মৃত্যু হতে রক্ষা করতে নুন্যতমও সাহায়্য করেনি | দরকার পড়ে অমুস্লিমদের

    মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) এর হাতে তুলে দিতে পারত কম্পিউটার বা এন্ডরয়েড স্মার্ট ফোন জিহাদে কাজে লাগতো |
    কোরান ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল করতে পারতো তাহলে আমরা অন্তত অমুস্লিমদের বা নাস্তিকদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে পারতাম দ্যাখ ব্যাটা পৃথিবীর প্রাথম কোন ধর্ম গ্রন্থ ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল হয়েছে

    সবখেত্রে অমুস্লিমদের সাহায্য ছাড়া চলেনা | তারা এগুলো কোন ধর্ম গ্রন্থ পড়ে তৈরী করেনি বরং মুক্ত জ্ঞান থেকে করেছে |

    তাহলে বুঝাই গেল কুরান হদীস এসব হল বানোয়াট মহাঊন্মাদ ‘The Fraud’ এর কল্পিত গালগল্প ছাড়া কিছুই না |

    মিথ্যা ধাপ্পাবাজির খপ্পরে কুপমুন্ডুক হয়ে চিরকাল মহাঊন্মাদ এর কল্পিত আল্লাহর গোলামী না করে মধ্যযুগিয় বর্বর বদ্ধ পশ্চাৎপদী চিন্তাধারায় পড়ে না থেকে মনকে প্রসারিত করা দরকার যাতে অন্তত সত্য উপলব্ধি করতে পারি |

    Reply
  • November 10, 2018 at 5:12 PM
    Permalink

    আল্লাহ মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) এর হাতে তুলে দিতে পারত কম্পিউটার বা এন্ডরয়েড স্মার্ট ফোন জিহাদে কাজে লাগতো |
    কোরান ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল করতে পারতো তাহলে আমরা অন্তত অমুস্লিমদের বা নাস্তিকদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে পারতাম দ্যাখ ব্যাটা পৃথিবীর প্রাথম কোন ধর্ম গ্রন্থ ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল হয়েছে

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *