ইসলামের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ এবং অন্যান্য

ধর্ষণের সংজ্ঞা

সাধারণ ভাষায় ‘ধর্ষণ’ হচ্ছে এক ধরনের যৌন আক্রমণ। একজন ব্যক্তির ইচ্ছা এবং অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণ শারীরিক বলপ্রয়োগ, অন্যভাবে চাপ প্রদান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে। অনুমতি প্রদানে অক্ষম (যেমন- কোনো অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি) এরকম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যেকোন অবস্থায় যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত। [1] [2] [3]

উপরে ধর্ষণের যেই সংজ্ঞা আমরা পড়লাম, সেখান থেকে এটি স্পষ্ট যে, সম্পূর্ণ ইচ্ছায় এবং সম্মতিতে দুইজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ যৌনকর্ম করতে পারে। প্রত্যেকে তার নিজ ইচ্ছা অনুসারে পছন্দের মানুষ বেছে নেবে, এবং তার সাথে প্রেম, ভালবাসা বা যৌন সম্পর্ক করবে, এটি তার অধিকার। এক্ষেত্রে তাদের ওপর কোন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া, যেকোন অবস্থাতেই, ইচ্ছা বা সম্মতি ছাড়া, কোন ধরনের ভয়ভীতি কিংবা ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, চাপ প্রদান করে, ব্ল্যাকমেইল করে, ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে, অথবা অজ্ঞান, বিকলাঙ্গ, মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যারা সম্মতি দানে অক্ষম বলে গণ্য, তাদের সাথে যদি যৌনকর্ম করা হয়, সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

ধর্ষণের সংজ্ঞার পরিবর্তন

অধিকাংশ বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণ বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে তার দেহে যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে বুঝায়। সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইনবিদদের মধ্যে ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক যুগ ও ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতেও ধর্ষণের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সময়ের সাথে ধর্ষণের সংজ্ঞারও পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৭৯ সালের পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পুরুষকে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার দায়ে অভিযুক্ত করা যেত না। ১৯৫০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু রাজ্যে কোনো শ্বেতাঙ্গ নারী স্বেচ্ছায় কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হলেও সেটিকে ‘ধর্ষণ’ বিবেচনা করা হত।

বাঙলাদেশের আইনে এই বর্তমান সময়েও রয়েছে অনেকগুলো সমস্যা। ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া সম্পাদিত সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ বইয়ের ৬৭৪ পৃষ্ঠায় সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো লোক যখন বলাৎকার বা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হয়, তখন দেখানো যেতে পারে যে, অভিযোগকারিনী সাধারণভাবে ‘দুশ্চরিত্রা রমনী’। ’ (When a man is prosecuted for rape or an attempt to ravish, it may be shown that the prosecutrix was of generally immoral character.)। অর্থাৎ, অভিযুক্ত যদি এটি প্রমাণ করতে পারে যে, অভিযোগকারী পতিতা কিংবা খারাপ চরিত্রের অধিকারী, তাহলে সে নিষ্কৃতি পেতে পারে।

কিন্তু একজন দেহব্যবসায়ীও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারে। একজন যৌনকর্মীও যদি যৌনকর্মে অস্বীকৃতি জানায়, কারোর অধিকার থাকতে পারে না, তাকে যৌনকাজে বাধ্য করা। এটি বর্তমানে সমস্ত সভ্য পৃথিবীতেই স্বীকৃত। অথচ বাঙলাদেশে এখনো চলছে সেই পুরনো আইন।

বর্তমানে সভ্য পৃথিবীতে ধর্ষণের একটি সাধারণ সংজ্ঞা নির্ণয় করা হয়েছে, যেটি জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ইসলামে ধর্ষণ বা যিনার সংজ্ঞার কোন পরিবর্তন ঘটে নি। সেটি ইসলামের আদি যুগে যা ছিল এখনো সেটিই বহাল রয়েছে, এবং কিয়ামত পর্যন্ত সেটিই বহাল থাকলে। ধর্মান্ধ মুসলিমগণ সেই পুরনো দিনের নিয়মই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো বহাল রাখতে চায়। PEW RESEARCH CENTER এর পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, অনেকগুলো মুসলিম অধ্যুষিত দেশের সাধারণ মুসলিমরা শরীয়া আইন সম্পর্কে কিছুই না জেনেও দেশে শরীয়া আইন চায়। [4]

ধর্ষণ

কারণ তারা মনে করে, আল্লাহ ও তার রাসুল যেই আইন দিয়েছে, তার কোন পরিবর্তন পরিমার্জন বা সংস্কার করা হচ্ছে এক ধরনের বিকৃতি সাধন করা। মূলত, এই কারণেই ধর্মান্ধ মৌলবাদী এবং রক্ষনশীল সমাজগুলোতে ধর্ষণের সংজ্ঞা নির্ধারণই সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক প্রকারের ধর্ষণকে ধর্মগুলো আদৌ ধর্ষণ হিসেবেই গণ্য করে না। যার ফলে ধর্মান্ধ অধ্যুষিত দেশগুলোতে রিপোর্টেড রেইপ ক্রাইমের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। সেই সাথে, রক্ষণশীল সমাজে নারীগণ রক্ষণশীল সমাজ বাস্তবতার কারণেও পুলিশে রিপোর্ট করতে আগ্রহী হন না। সতীত্বের ধারণা, সম্মান এবং বংশমর্যাদা ইত্যাদির কথা বিবেচনা করে বেশীরভাগ ধর্ষণই আদালত পর্যন্ত পৌঁছায় না। পরবর্তীতে সেইসব পরিসংখ্যান দেখিয়ে দাবী করা হয়, ধর্মান্ধ রক্ষণশীল সমাজে ধর্ষণ কম হয়, ইউরোপ আমেরিকায় বেশি হয়! অথচ সত্য হচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে মানবাধিকারকে গুরুত্ব দেয়া হয়, সেসব দেশেই মেয়েরা তুলনামুলকভাবে স্বাধীন এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে জীবন যাপন করতে পারে। এইসব দেশে বাসে ট্রেনে অফিসে স্কুলে যৌন হয়রানি হলেও মেয়েরা পুলিশে রিপোর্ট করে দেয়। সেইসব পরিসংখ্যান দেখিয়েই ধর্মান্ধরা সবসময় দাবী করে বেড়ায়, পশ্চিমা বিশ্বে নাকি অনেক বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যা আদৌ সঠিক নয়। এইসব কথা বলে তারা মেয়েদের আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের পোষাকের ব্যাপারে আরো বেশি কঠোরতা আরোপ করার চেষ্টা করে। যা একবারে অসত্য, কারণ রক্ষণশীল ধর্মীয় সমাজে ধর্ষণের রিপোর্টই হয় খুব অল্প।

মৃত্যুদণ্ড কী ধর্ষণ রোধ করতে পারে?

আমাদের সমাজে অনেকগুলো প্রচলিত মিথের মধ্যে একটি হচ্ছে, কঠিন এবং বর্বর শাস্তি প্রয়োগ করে অপরাধ কমানো যায়! কিন্তু এই কথাগুলো আদৌ সত্য নয়। বহু গবেষণাতেই উঠে এসেছে যে, বরঞ্চ বর্বর শাস্তি যেসমস্ত দেশগুলোতে দেয়া হয়, সেসব দেশেই অপরাধের মাত্রা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে [5] [6]। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট অপরাধ তো কমায়ই না, বরঞ্চ বাড়িয়ে দেয় [7]। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যেসব দেশ অপরাধীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড প্রথা উঠিয়ে দিয়েছে, সেইসব দেশে অপরাধী সংখ্যা কমে গেছে। এমনকি, অনেকগুলো দেশের জেলখানাগুলো পর্যন্ত অপরাধীর অভাবে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে [8] [9]

ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। একজন ধর্ষক যখন ধর্ষণ করে, সাধারণত ভাবে যে, সে হয়তো এই কাজের জন্য বিচারের সম্মুখীন হবে না। কিন্তু তার মনে যদি এই আতঙ্ক থাকে যে, তার মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বা খুব ভয়াবহ শাস্তির সম্ভাবনা আছে, সে খুব দ্রুত ধর্ষিতাকে হত্যা করে। এই আশায় যে, তার অপরাধটি আর প্রমাণ হবে না। একজন অপরাধীর মানসিকতা এভাবেই কাজ করে যে, সে অপরাধটি করার পরে দ্রুতগতিতে হাতের কাছে যেই প্রমাণ আছে তা মুছে ফেলতে চেষ্টা করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গবেষণাতে এটিই দেখা গেছে যে, ধর্ষণ রোধ করতে গিয়ে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে গিয়ে উলটো ঘটনা ঘটেছে। আগে ধর্ষণ করে মেয়েদেরকে ছেড়ে দেয়া হতো, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড বা শিরচ্ছেদের শাস্তি আনার পরে বেশিরভাগ ধর্ষিতা আর অভিযোগ করার জন্য জীবিত থাকে না। ধর্ষক তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া এবং আতঙ্কের কারণে খুব দ্রুততার সাথে ধর্ষিতাকে মেরে ফেলে। কারণ এই সময়ে তার স্বাভাবিক বোধবুদ্ধি কাজ করে না, ধর্ষক ভয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয় যা সে হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় নিতো না। শিরচ্ছেদ বা ফাঁসি হবে, এই আতঙ্ক তখন তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এবং সমস্ত আতঙ্কের শোধ সে সেই ধর্ষিতার উপরই তোলে।

ধর্ষিতা মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েও বেঁচে থাকতে পারতো, কিন্তু তাদেরকে মেরে ফেলা হলে তো আর কিছুই করার থাকে না। প্রমাণ করা দুঃসাধ্য হয়ে যায়, এবং মেয়েটির পরিবারও ভেঙ্গে পড়ে। তাই মৃত্যুদণ্ড বা শিরচ্ছেদ ধর্ষণ রোধে সহায়ক নয়, বরঞ্চ অন্তরায় বলেই অপরাধবিজ্ঞানী এবং সমাজ বিজ্ঞানীদের অভিমত।

নারীর সম্পর্কে সামাজিক ধারণা

ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা হচ্ছে, ধর্ষণ যতটা না যৌনতা কেন্দ্রিক, তার চাইতে বেশি হচ্ছে ক্ষমতা বিষয়ক। আমি পুরুষ, আমি ক্ষমতাবান, আমি কর্তৃত্বশীল, আমি প্রধান, নারীরা আমার উপভোগের জন্যেই সৃষ্ট, নারীদের কাজই আমাদের সুখ ও স্বস্তি দেয়া, এইসব ধারণা ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ধর্ষণের সবচাইতে বড় কারণ হলো নারী সম্পর্কে সামাজিক ও ধর্মীয় ধারণা। নারীকে একটি ভোগ্যপন্য, অবলা, অক্ষম, দুর্বল, পরনির্ভরশীল, কুটিল, অপূর্ণাঙ্গ, অধীনস্ত সর্বপরি ঊনমানুষ ভাবা। মুসলিম সমাজে নারীর সম্পর্কে ইসলাম ধর্ম যা বলে, তা নারীর জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর এবং অসম্মানজনক। এই ধারণা নারীর প্রতি হওয়া ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটি প্রধান প্রভাবক হিসেবেই আমি মনে করি।

ছোটবেলা থেকে আপনি আপনার সন্তানদের শেখাবেন, নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পুরুষের একাকীত্ব কাটাবার জন্য, পুরুষের মনোরঞ্জনের জন্য, মানে সে হচ্ছে একটি বিনোদন সামগ্রী, একটি খেলার পুতুল, একটি শস্যক্ষেত্র, যেখানে যেভাবে খুশি চাষাবাদ করা যায়, একটি উৎপাদন যন্ত্র, একটি যৌনবস্তু, নারীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত খালি সেক্স আর সেক্স- যৌন উত্তেজনা, একটি নিষিদ্ধ অন্ধকার পোষাকে আবৃত শরীর, যার সাথে বন্ধুত্ব করা যায় না, যার সাথে ক্রিকেট খেলা যায় না, যার সাথে ঘুরতে যাওয়া যায় না, যার কাঁধে হাত রেখে রাস্তায় হাঁটা যায় না, যার সাথে নৌকায় করে বেড়াতে যাওয়া যায় না, যার স্থান অন্দরমহলে, যার স্থান রান্না ঘরে, যার স্থান বিছানায়, যাকে প্রহার করার অধিকার আছে, যাকে শাসনের মধ্যে থাকতে হবে, যাকে বুক ওড়নায় লুকিয়ে রাখতে হবে, যাকে সবসময় লজ্জায় অবনত থাকতে হবে, যাকে মাথা নিচু করে বাঁচতে হবে, যাকে আয়ত্তাধীন রাখতে হবে, এরকম ধারণা যখন আপনি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলবেন, তখন ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতেই থাকবে।

একটা মেয়ের অধিকার রয়েছে, নিজের ইচ্ছেমত জীবন বেছে নেয়ার, নিজের ইচ্ছেমত পোষাক এবং ইচ্ছেমত ভালবাসার মানুষ পছন্দ করার। সেই যেই পোষাকই পরুক, সেটি তার অধিকার। সে যদি শর্টস পরে, বা শারীরিক সৌন্দর্য্য প্রকাশ পায় এমন পোষাক পরে, একজন ধর্মান্ধ পুরুষ ধরেই নেয়, এই মেয়েটা একটা বেশ্যা। তাই তার মতামত গুরুত্বহীন। সে চাইলেই তাকে পেতে পারে। তার জন্যেই এই মেয়েটির সৃষ্টি। মেয়েটা যদি তার আহবানে সাড়া না দেয়, তখন তার পৌরুষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সে ভাবে, তাকে দেখাবার জন্যেই তো মেয়েটা এমন পোষাক পরেছে, তাই সে মেয়েটাকে পেতে চাইলে তো মেয়েটার ধন্য হয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু সে যখন মেয়েটির কাছ থেকে সাড়া পায় না, তার পুরুষত্বে আঘাত লাগে। সারাজীবন সে এই শিক্ষায় পেয়েছে যে, সে মানুষ হিসেবে যেকোন নারীর চাইতে উন্নত, শক্তিমান, কারণ তার একটি পুরুষাঙ্গ রয়েছে। এই পুরুষাঙ্গের গর্ব তখন সে প্রকাশ করতে চায়! জানান দিতে চায়!

আসুন দেখা যাক, ইসলাম নারীকে আসলে কী ভাবে। এই বিষয়ে বিস্তারিত পড়ার জন্য এই লেখাটি দেখতে পারেন। [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16]

তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর।
সুরা আল বাকারা আয়াত ২২৩

তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে।
সুরা ৭ আয়াত ১৮৯ 

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3512]
অধ্যায়ঃ ১৮/ দুধপান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. মহিলাদের সম্পর্কে ওসিয়ত
৩৫১২। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবন নুমায়র আল-হামদানী (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়া উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3513]
অধ্যায়ঃ ১৮/ দুধপান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. মহিলাদের সম্পর্কে ওসিয়ত
৩৫১৩। হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারী পাজরের হাড়ের ন্যায় (বাঁকা)। যখন তুমি তাকে সোজা করতে যাবে তখন তা ভেঙ্গে ফেলবে আর তার মাঝে বক্রতা রেখে দিয়েই তা দিয়ে তুমি উপকার হাসিল করবে।
যুহায়র ইবনু হারব ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) … (যুহরীর ভ্রাতুষ্পুত্র তার চাচা যুহরীর সুত্রে) (উপরোক্ত সনদের ন্যায়) ইবনু শিহাব (রহঃ) সুত্রে অবিকল অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
হাদিস নম্বরঃ [3998] অধ্যায়ঃ ৩০/ কলহ-বিপর্যয়
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৩০/১৯. নারীদের সৃষ্ট বিপর্যয়
১/৩৯৯৮। উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক বিপর্যয়কর আর কিছু রেখে যাবো না।
সহীহুল বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম ২৮৪০, ২৮৪১, তিরমিযী ২৮৮০, আহমাদ ২১২৩৯, ২১৩২২, সহীহাহ ২৭০১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [28] অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২১/ স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা 
২৮। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারন) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করে?’ তিনি বললেনঃ ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে। ’ তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি। ’
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ধর্ষণের জন্য নারীরাই দায়ী?

কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে পাড়ার চায়ের দোকানে কিছু বুড়া চাচামিয়ার উদ্ভব ঘটে। তারা এই বিষয়ে সবসময় বিজ্ঞ মতামত দিতে খুব উৎসাহী থাকে। সাধারণত এইসব বিজ্ঞ মতামতের মধ্যে যা থাকে তা হচ্ছে, “ঐ ছেড়িরও দোষ আছে। ছেড়ির চলাফেরা ভাল না। রাইত বিড়াতে বাইরে যায়। পোলাগো লগে ঘুরে।” অর্থাৎ, সেই মেয়ের যেহেতু চরিত্র ভাল না, তাই তাকে ধর্ষণ করা যেতেই পারে! এলাকার চায়ের দোকানের নিরপেক্ষ এইসব বুড়া চাচামিয়ারা চায়ের দোকানে বেশ জনপ্রিয় হয়। চায়ের দোকানে, বাসে, প্রায় সবাই এদের কথা শুনে খুব হাততালি দেয়। এখন এরা ফেসবুকে ব্লগে টকশোতে চলে এসেছে। এদেরকে বলা হয় সুশীল। এরা অবলীলায় ধর্ষক ধর্ষিতা উভয়ই দোষী বানিয়ে ছেড়ে দেয়। এরা বলে, “ধর্ষিতাই বা কেন উত্তেজক জামা পড়ে ধর্ষকের যৌনানুভূতিতে আঘাত দিল? ধর্ষণ তো হবেই!”

একজন নারী ধর্ষিতা হয় নানাভাবে। প্রথমত সে ধর্ষিত হয় কোন এক লম্পট পুরুষের দ্বারা। এরপরে নিজের পরিবারে সে ধর্ষিত হয় বাবা মা দ্বারা! বাবা মা তাকেই যখন ধর্ষিতা হওয়ার জন্য দোষারোপ করে। বাবা মার লাঞ্ছনা আর নির্যাতন, উল্টো মেয়েটাকে দোষী বানাবার চেষ্টা মেয়েটাকে আবারও ধর্ষণ করে। “সে কেন বোরখা পরে নি”- “কেন নিজেকে সামলে রাখে নি” এই বলে বাবা মাও ঝাঁপিয়ে পরে, সমান তালে ধর্ষণ করতেই থাকে। এরপরে সেগুলো সামলে সে যদি পুলিশের কাছে যেতে সক্ষম হয়, আইন আদালত থানা পুলিশের কাছে আরো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়। কোন পথে ধর্ষণ হয়েছে, ধর্ষণের সময় ধর্ষক কোথায় কোথায় হাত দিয়েছে, কোথায় কোথায় মুখ দিয়েছে, কতক্ষণ ধরে কতবার ধর্ষণ করেছে, ধর্ষণের সময় মেয়েটি মজা পেয়েছে না ব্যাথা পেয়েছে এই সব কুৎসিত প্রশ্নের সামনে মেয়েটা সেই ধর্ষণের চাইতেও বহুগুনে ধর্ষিত হয়, ধর্ষিত হতেই থাকে। আর সংবাদপত্র যদি খবর পেয়ে যায়, এরকম গরম খবর তারা বিভিন্ন ধরনের মশলা সহযোগে পাঠকের কাছে পরিবেশন করে। সেই খবরে থাকে “রাতভর” “দিনভর” লাগাতার” “উপুর্যপরি” “বিভিন্ন পথে” “নগ্ন করে” ইত্যাদি চটকদার সব শব্দ, যেসব পড়ে জনগন মনে মনে ধর্ষণ করতে থাকে মেয়েটাকে। তার মানে হচ্ছে, পুরো সমাজটি মিলে মিশে মেয়েটিকে ধর্ষণ করতেই থাকে, করতেই থাকে।

নারীর পোষাক নয়, ধর্ষণের জন্য দায়ী হচ্ছে পুরুষের মানসিকতা। খেয়াল করে দেখুন, আপনি আপনার ছেলে বাচ্চাকে যেই পুতুলগুলো কিনে দেন, সেগুলোর মধ্যে থাকে বন্দুক, গাড়ি, প্লেন ইত্যাদি। আর মেয়ে বাচ্চার জন্য আপনার বরাদ্দ থাকে হাড়িপাতিল, বার্বিডল, সাজগোজের জিনিস। তার মানে হচ্ছে, আপনি ছোটবেলা থেকেই আপনার ছেলে বাচ্চাকে এই ধারণা দিয়ে বড় করছেন যে, সে কর্তৃত্ব করবে, দখল করবে, শাসন করবে। আর মেয়ে বাচ্চাটি ঘরসংসার করবে, রান্না করবে, বাচ্চা পালন করবে। অর্থাৎ এই ধারণাগুলো আপনি সেই ছোটবেলা থেকেই তার ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। এরকম সামাজিক ধারণা যখন আপনি ধীরে ধীরে সন্তানদের ভেতরে ঢোকাবেন, ছেলেবাচ্চারা তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা বড় হওয়ার পরে এক ধরনের দখলদারিত্ব, কর্তৃত্বের ধারণা নিয়ে বড় হবে। ধর্ষণ তারাই করে, দায় তখন চাপাবে নারীর পোষাকের ওপরই।

মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে নারীদের উত্যক্ত করার কারণ হিসেবে নারীর পোষাককেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সূরা আহজাব এর আয়াত ৫৯ এ বলা হয়েছে, [17]

হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।

এই ধরনের চিন্তা সমাজে ভিক্টিম ব্লেইমিং পরিবেশ সৃষ্টি করবে। মানুষকে বোঝাবে, নারীদের উত্যক্ত করার জন্য আসলে নারীর পোষাকই দায়ী, পুরুষ নয়! এগুলো মধ্যযুগীয় পুরনো ধ্যানধারণা, এগুলো থেকে বের হয়ে যা আসলে ক্রমশ আমাদের সমাজও মধ্যযুগের দিকে চলতে থাকবে।

ইসলামে হালাল ধর্ষণসমূহ

ইসলাম বেশ কয়েকপ্রকার ধর্ষণকে বৈধতা দিয়েছে। ধর্ষণের আধুনিক সংজ্ঞা উপরে বর্ণিত হয়েছে, পাঠকগণ সংজ্ঞাটি পড়ুন এবং নিচের অংশগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখুন-

বৈবাহিক ধর্ষণ হালাল

স্বামী বা স্ত্রীর অসম্মতিতে বা অনিচ্ছায় তার সাথে সঙ্গীর জোরপূর্বক যৌনসম্পর্ক স্থাপনকে বৈবাহিক ধর্ষণ বলে। বর্তমানে সভ্য পৃথিবীতে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকার পরেও যদি কোন পক্ষ জোরপূর্বক তার সঙ্গীকে যৌনকাজে বাধ্য করে, সেটিকেও ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি, আপনি আপনার বৈবাহিক সঙ্গীর ইচ্ছা এবং সম্মতি ছাড়া তার সাথে যৌনকর্ম করতে পারবেন না। আপনার বৈবাহিক সঙ্গী আপনার যৌনবস্তু নয়, যে চাহিবা মাত্রই তার আপনাকে যৌনসুখ দিতে বাধ্য থাকতে হবে। তার অনিচ্ছা বা মুড না থাকলে আপনি তাকে রাজি করাতে চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু তার অনিচ্ছা বা অসম্মতিতে আপনি এই কাজটি করতে পারবেন না। এটি একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউনাইটেড ন্যাশনস হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস ( United Nations High Commissioner for Human Rights ) একটি ডিক্লারেশন প্রকাশ করে, যেখানে বৈবাহিক ধর্ষণকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। [18] [19]

Article Two:
Violence against women shall be understood to encompass, but not be limited to, the following:
(a) Physical, sexual and psychological violence occurring in the family, including battering, sexual abuse of female children in the household, dowry-related violence, marital rape, female genital mutilation and other traditional practices harmful to women, non-spousal violence and violence related to exploitation;

কিন্তু ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণকে ধর্ষণ হিসেবেই গণ্য করা হয় না। বরঞ্চ, ইসলাম এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি, তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরকালে ক্ষতির সম্ভাবনা উল্লেখ করে তাকে এই কাজে বাধ্য করে।। স্বামী চাহিবা মাত্রই স্ত্রীকে স্বামীর যৌনসুখ চরিতার্থ করতে ইসলাম নির্দেশ দেয়, নতুবা তার উপর পারলৌকিক শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করে। এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর কোনরকম ওজর আপত্তি কিংবা অসম্মতি গ্রহণযোগ্য নয়। অসম্মতি হলেই তার ওপর লা’নত দেয়ার হুমকি দেয়। [20] [21] [22] [23]

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
হাদিস নম্বরঃ ৩৪৩৩
২০. স্বামীর বিছানা পরিহার করা স্ত্রীর জন্য নিষিদ্ধ
৩৪৩৩-(১২২/…) আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমুল্লাহ) ….. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বামী যখন স্ত্রীকে বিছানায় আহবান করে এবং সে না আসায় তার স্বামী তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে রাত্রি যাপন করে, সে স্ত্রীর প্রতি ফেরেশতাগণ ভোর হওয়া পর্যন্ত লা’নাত করতে থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪০৬, ইসলামীক সেন্টার ৩৪০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
হাদিস নম্বরঃ ৩৪৩২
২০. স্বামীর বিছানা পরিহার করা স্ত্রীর জন্য নিষিদ্ধ
৩৪৩২-(১২১/…) ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ….. আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কসম সে সত্তার যার হাতে আমার জীবন। কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে যখন বিছানায় আহ্বান করে, কিন্তু সে তা অস্বীকার করে, নিঃসন্দেহে যে পর্যন্ত সে তার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টি না হয়, ততক্ষণ আসমানবাসী তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪০৫, ইসলামীক সেন্টার ৩৪০৪)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
অধ্যায়ঃ পর্ব-১৩ঃ বিবাহ
হাদিস নাম্বার: 3257
৩২৫৭-[২০] ত্বলক্ব ইবনু ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো স্বামী নিজ প্রয়োজনে স্বীয় স্ত্রীকে ডাকলে, সে যেন তৎক্ষণাৎ তার ডাকে সাড়া দেয়, যদিও সে চুলার পাশে (গৃহকর্মীর কাজে) ব্যস্ত থাকে। (তিরমিযী)[1]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ৯/ বিবাহ
হাদিস নাম্বার: 1853
২/১৮৫৩। ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয (রাঃ) সিরিয়া থেকে ফিরে এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাজদাহ করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে মু‘আয! এ কী? তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে দেখতে পাই যে, তথাকার লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদেরকে সাজদাহ করে। তাই আমি মনে মনে আশা পোষণ করলাম যে, আমি আপনার সামনে তাই করবো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তা করো না। কেননা আমি যদি কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ ছাড়া অপর কাউকে সাজদাহ করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সাজদাহ করতে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! স্ত্রী তার স্বামীর প্রাপ্য অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত তার প্রভুর প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না। স্ত্রী শিবিকার মধ্যে থাকা অবস্থায় স্বামী তার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে চাইলে স্ত্রীর তা প্রত্যাখ্যান করা অনুচিত।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
It was narrated that: Abdullah bin Abu Awfa said “When Muadh bin Jabal came from Sham, he prostrated to the Prophet who said: ‘What is this, O Muadh?’ He said: ‘I went to Sham and saw them prostrating to their bishops and patricians and I wanted to do that for you.’ The messenger of Allah said: ‘Do not do that. If I were to command anyone to prostrate to anyone other than Allah, I would have commanded women to prostrate to their husbands. By the One in Whose Hand is the soul of Muhammad! No woman can fulfill her duty towards Allah until she fulfills her duty towards her husband. If he asks her (for intimacy) even if she is on her camel saddle, she should not refuse.’ ”

আরো বড় সমস্যা হচ্ছে, ইসলাম পুরুষকে দায়িত্ব দেয় পরিবারের ভরণপোষণ এবং আয় উপার্জনের। নারীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়। এই কারণে বেশিরভাগ নারীকেই ইসলামপন্থী পিতামাতা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা কিংবা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে উৎসাহ বোধ করেন না। কারণ কাল তো পরের ঘরেই মেয়ে চলে যাবে! এই কারণে ইসলামিক সমাজগুলোতে একজন বিবাহিত নারী বেশিরভাগ সময়ই অর্থনৈতিকভাবে স্বামীর উপর নির্ভরশীল থাকে। যার ফলে সে বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হলেও, সেটি নিয়ে প্রতিবাদ করতে পারে না, কিংবা মামলা করতে যেতে চায় না। কারণ দিনশেষে তাকে তো একজন পরজীবী হিসেবেই ইসলামিক সমাজ গড়ে তুলেছে! তার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগই দেয় নি।

ইসলামপন্থীরা গলার রগ মোটা করে বলবে, মেয়েদের চাকরি বাকরি করার দরকার কী? পায়ের ওপর পা তুলে খাবে! স্বামী বেচারা কষ্ট করবে! দেখো দেখো, ইসলাম নারীকে কত সুবিধা করে দিয়েছে! অথচ সত্য হচ্ছে, এটি নারীর জন্য দীর্ঘস্থায়ী দাসত্বের জীবনের একটি অশুভ পরিকল্পনা।এই সব কথার ভেতরের চালাকিটা হচ্ছে, মেয়েরা যেন আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে উঠতে না পারে, তার সুদূর প্রসারী চেষ্টা। যতদিন মেয়েরা অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল না হবে, তাদের পায়ের নিচেই থাকতে হবে। [24] [25]

শিশু মেয়েদের ধর্ষণ

সারা পৃথিবীর সভ্য আইন অনুসারে, একজন অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ে এমনকি সম্মতি দিলেও, যেহেতু সে এখনো সম্মতি প্রদানের বয়সেই পৌঁছে নি, তাই তার সম্মতিকে যৌনকাজের জন্য সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হয় না। সম্মতিতে হোক কিংবা অসম্মতিতে, যেকোন অবস্থায় অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ের সাথে যৌনকর্ম পুরো সভ্য পৃথিবীতে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য। উল্টোদিকে, ইসলাম অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়েদের বিয়ে দেয়াই শুধু জায়েজ করে নি, তাদের সাথে যৌনসম্পর্ক স্থাপনও জায়েজ করেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়ুন। [26] [27]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ১৭। বিবাহ
পরিচ্ছেদঃ ১০. পিতা অপ্রাপ্ত বয়স্কা কুমারী কন্যার বিবাহ দিতে পারে
৩৩৭০-(৬৯/১৪২২) আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলা ও আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহু (রহিমাছমাল্লাহ) … আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেছেন, আমার বয়স তখন ছয় বছর। তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘরে যান, তখন আমার বয়স নয় বছর। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা হিজরাত করে মাদীনায় পৌছার পর আমি একমাস যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম এবং আমার মাথার চুল পড়ে গিয়ে কানের কাছে (কিছু) থাকে। (আমার মা) উম্মু রূমান আমার নিকট এলেন, আমি তখন একটি দোলনার উপরে ছিলাম এবং আমার কাছে আমার খেলার সাখীরাও ছিল। তিনি আমাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকলেন, আমি তার নিকট গেলাম।
আমি বুঝতে পারিনি যে, তিনি আমাকে নিয়ে কী করবেন। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে দরজায় নিয়ে দাঁড় করালেন। আমি তখন বলছিলাম, আহ, আহ। অবশেষে আমার উদ্বেগ দূরীভূত হল। তিনি আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আনসার মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলে আমার কল্যাণ ও রহমাতের জন্য দুআ করলেন এবং আমার সৌভাগ্য কামনা করলেন। তিনি (মা) আমাকে তাদের নিকট সমর্পণ করলেন। তারা আমার মাথা ধুয়ে দিলেন এবং আমাকে সুসজ্জিত করলেন। আমি কোন কিছুতে ভীত শংকিত হইনি। চাশতের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং তারা আমাকে তার নিকট সমর্পণ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৪৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৪৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ)

যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণ হালাল

সমস্ত সভ্য পৃথিবীতে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জেনেভা কনভেনশনে যুদ্ধবন্দী নারীদের ধর্ষণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে কিয়ামত পর্যন্ত যুদ্ধবন্দী নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ভোগ করার বিধান রয়েছে। যুদ্ধবন্দী নারী কিংবা ক্রীতদাসী নারীদের সাথে যৌনকর্মকে ইসলাম হালাল করেছে, এবং এই ক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দী নারী বা ক্রীতদাসীর এই যৌনকাজে কোন সম্মতিরও প্রয়োজন নেই। বিস্তারিত জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন। [28] [29] [30]

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
অধ্যায়ঃ ৫১/ মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)
পরিচ্ছেদঃ ২১৯৬. বনূ মুসতালিকের যুদ্ধ। বনূ মুসতালিক খুযা’আর একটি শাখা গোত্র। এ যুদ্ধ কে মুরায়সীর যুদ্ধ ও বলা হয়। ইব্‌ন ইসহাক (র) বলেছেন, এ যুদ্ধ ৬ষ্ঠ হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছে। মুসা ইবন উকবা (র) বলেছেন, ৪র্থ হিজরী সনে। নুমান ইবন রাশিদ (র) যুহরী (র) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইফকের ঘটনা মুরায়সীর যুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল।
৩৮৩২। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু মুহায়রীয (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে প্রবেশ করে আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কে দেখতে পেয়ে তার কাছে গিয়ে বসলাম এবং তাকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বানূ মুসতালিকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে খায়েস হল এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রীহীন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। তাই আমরা আয্‌ল করা পছন্দ করলাম এবং তা করার মনস্থ করলাম। তখন আমরা বলাবলি করতে লাগলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আযল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরুপ না করলে তোমাদের ক্ষতি কি? জেনে রাখ, কিয়ামত পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনে মুহায়রীয (রহঃ)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [7409]
অধ্যায়ঃ ৯৭/ তাওহীদ
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৭/১৮. আল্লাহর বাণীঃ তিনিই আল্লাহ্ সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদাতা। (সূরাহ আল-হাশর ৫৯/২৪)
৭৪০৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বানী মুসতালিক যুদ্ধ বিষয়ে বর্ণনা করেন যে, মুসলিমগণ যুদ্ধে কতকগুলো বন্দিনী লাভ করলেন। এরপর তাঁরা এদেরকে ভোগ করতে চাইলেন। আবার তারা যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সে ইচ্ছাও তারা করছিলেন। তাই তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আযল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এতে তোমাদের কোন লাভ নেই। কারণ আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যত জীবন সৃষ্টি করবেন, তা সবই লিখে রেখেছেন। মুজাহিদ (রহ.) কাযআ (রহ.)-এর মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যত জীবন সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই তা সৃষ্টি করবেনই। [২২২৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

শিশু ছেলেদের ধর্ষণ

আমরা প্রায়ই শুনতে পাই, মাদ্রাসায় আজকে অমুক বাচ্চা ধর্ষিত হয়েছে, কাল তমুক বাচ্চা ধর্ষিত হয়েছে। প্রতিদিনের খবরের কাগজ এই ধরনের খবরে পরিপূর্ণ থাকে। এই যে মাদ্রাসায় বাচ্চা ছেলেদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, তাদের বেশি নম্বর পাওয়ার লোভ দেখিয়ে, কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে, এই বিষয়ে ইসলামের বিধান কী? ইসলাম সমলৈঙ্গিক যৌনাচার বা পায়ুকামের শাস্তি নির্ধারণ করেছে এটি যে, যে তা করে এবং যার সাথে তা করা হয়, উভয়কে হত্যা করা হবে। যদিও ইসলামে শিশুদের রজমের বিধান নেই, কিন্তু এই হাদিসগুলো দেখিয়ে বাচ্চা ছেলেদের মুখ বন্ধ রাখা হয়। যেন বাচ্চারা মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে কাউকে নালিশ না করে। [31]

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ শাস্তির বিধান
হাদিস নাম্বার: 4403
৪৪০৩. আবদুল্লাহ্‌ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ……… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন কাউকে লূতের কাওমের মত কাজে (সমকামে) লিপ্ত দেখবে, তখন এর কর্তা এবং যার সাথে এরূপ করা হবে, উভয়কে হত্যা করবে।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)

ধর্ষণ যিনা নাকি ফিতনা ফ্যাসাদ?

মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে ধর্ষণ বা ধর্ষণের আরবি, এরকম কোন শব্দ নেই। এই সম্পর্কে কোরআনের কোথাও কিছুই বলা হয় নি। হাদিসে একটি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে, যাকে জোরপুর্বক যিনা বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইসলামের অধিকাংশ প্রখ্যাত আলেম ধর্ষণকে যিনার অন্তর্ভূক্ত করে তার জন্য হদ্দের শাস্তি প্রয়োগ করার কথাই বলেছেন। এইক্ষেত্রে শাস্তি হচ্ছে, বিবাহিতের জন্য পাথর ছুঁড়ে রজম করা, আর অবিবাহিত এর জন্য ১০০ টি দোররা মারা কিংবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা। মুহাম্মদের সময়ে জোরপূর্বক যিনার যেই হাদিসটি রয়েছে, সেখানে ধর্ষিতাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল এবং তার ধর্ষণকারীকে (যিনি বিবাহিত ছিলেন) পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছিল। তারা এই হাদিসটি উল্লেখ করে ধর্ষণকে যিনার অন্তর্ভূক্ত বলে গণ্য করেন। [32]

মালেকি মাজহাবের ফকিহগণ ধর্ষণকে সম্ভ্রম লুট করার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কয়েকজন প্রখ্যাত ফিকাহ শাস্ত্রবিদ এবং ইসলামের আলেম যেমন মুহাম্মদ ইবনে জারির আল তাবারি, আবু বকর ইবনে আল-আরাবি এবং মিশরের সর্বোচ্চ শরীয়া কাউন্সিল ধর্ষণকে যিনার উপশ্রেণী হিসাবে নয়, বরং ফিতনা ফ্যাসাদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এই প্রসঙ্গে তারা কুরআনে বর্ণিত সূরা মায়িদার ৩৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত ফ্যাসাদকে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, ধর্ষণের ক্ষেত্রে এই আয়াতের ধারাটি প্রোযোজ্য হবে। ইসলাম যেহেতু নারীকে একটি ভোগ্যপন্য হিসেবে গণ্য করে [33], তাই ধর্ষণকে মালামাল লুট বা ডাকাতি বা ভীতি সৃষ্টিকারী একটি ঘটনা হিসেবেই তারা উল্লেখ করেছেন। [34]

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

কিন্তু এই ক্ষেত্রে যেই সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হচ্ছে, এই আয়াতের পরের আয়াতে বলা হচ্ছে, অভিযুক্তরা যদি গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে, তবে তাদের আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। [35]

কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু।

যিনা কাকে বলে?

যিনাʾ (زِنَاء) বা জিনা (زِنًى বা زِنًا) শব্দের অর্থ হল অবিবাহিত দুইজন মানুষের মধ্যে যৌনক্রিয়া। ইসলামিক শরীয়তে যিনা হচ্ছে স্ত্রী অথবা মালিকানাভুক্ত ক্রীতদাসী ছাড়া দুইজন মানুষের মধ্যে মাঝে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, যা ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইসলামে যিনা একটি কবিরা গুনাহ যা তাওবাহ ব্যাতিরেকে মাফ হয় না। তবে তওবা করলে মাফ পাওয়া যায়। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, যিনাকারীর মনে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখলে সে অবশ্যই জান্নাতেই প্রবেশ করবে। [36]

মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১ঃ ঈমান (বিশ্বাস)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৬-[২৫] আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একবার) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে পৌঁছলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘুমিয়েছিলেন। আমি ফেরত চলে এলাম। অতঃপর পুনরায় তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমাকে দেখে) বললেন, যে ব্যক্তি (অন্তরের সাথে) ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে আর এ বিশ্বাসের উপর তার মৃত্যু হবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, সে চুরি ও ব্যভিচার (এর মতো বড় গুনাহ) করে থাকে তবুও? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে চুরি ও ব্যভিচার করলেও। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, চুরি ও ব্যভিচার করার পরও? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, চুরি ও ব্যভিচারের ন্যায় গুনাহ করলেও। আবূ যার-এর নাক ধূলায় মলিন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন, যখনই আবূ যার (রাঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন (গৌরবের সাথে) এ শেষ বাক্যটি ‘আবূ যার-এর নাক ধূলায় মলিন হলেও’ অবশ্যই বর্ণনা করতেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : বুখারী ৫৮২৭, মুসলিম ৯৪, আহমাদ ২১৪৬৬, সহীহ আল জামি‘ ৫৭৩৩।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ইসলামে যিনা কাকে কাকে বলে?

মুহাম্মদের জীবদ্দশায় আয়িশার চরিত্র নিয়ে একবার প্রশ্ন উঠেছিল। কিছু সাহাবী দাবী করেছিল, আয়িশা চরিত্রহীন এবং সে মুহাম্মদের এক সাহাবীর সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত। এমনকি, হযরত আলী পর্যন্ত আয়িশার বিপক্ষে চলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে মুহাম্মদ আল্লাহ পাকের আয়াত নামিয়ে আয়িশাকে পুতপবিত্র প্রমাণ করেন। এই সময়েই কারো উপর যিনার অভিযোগ আরোপ করতে হলে চারজন মুসলিম সত্যবাদী পুরুষ সাক্ষী আনার বিধান দেয়া হয়, যারা সচোক্ষে ঘটনাটি দেখেছে। হাদিসে বলা হয়েছে, তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রী গুপ্তাঙ্গে এরূপভাবে ঢুকানো অবস্থায় দেখেছে, যেরূপ সুরমা শলাকা সুরমাদানিতে ঢুকানো হয়। [37]

সূরা নিসার ১৫-১৬ আয়াতে যিনার বিষয়ে বলা হয়েছে, [38]

“আর নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ করে রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন। তোমাদের মধ্যে যে দুজন সেই কুকর্মে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর, অতঃপর তারা যদি উভয়ে তওবা (অনুশোচনা,অনুতাপ) করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।”

সূরা নূরের ১২-১৬ নম্বর আয়াতে বলা আছে, [39]

তোমরা যখন একথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করনি এবং বলনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ?
তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি; অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী।
যদি ইহকালে ও পরকালে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমরা যা চর্চা করছিলে, তজ্জন্যে তোমাদেরকে গুরুতর আযাব স্পর্শ করত।
যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল।
তোমরা যখন এ কথা শুনলে তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলা আমাদের উচিত নয়। আল্লাহ তো পবিত্র, মহান। এটা তো এক গুরুতর অপবাদ।

সূরা নুর আয়াত ২ এ আরো বলা হয়েছে, [40]

“ব্যভিচারের দায়ে অভিযুক্ত পুরুষ ও নারী যারা,- তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত প্রদান কর: তাদের বিষয়ে করুণা যেন তোমাদেরকে দুর্বল না করে, এমন একটি বিষয়ে যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছে, যদি তোমরা আল্লাহ এবং মহাপ্রলয় দিবসের উপর বিশ্বাস রাখো: এবং বিশ্বাসীদের একদলকে তাদের শাস্তির সাক্ষী করে রাখো।”

সূরা নুর আয়াত ৪-৫ এ আরো বলা হয়েছে, [41]

“এবং যারা নিরপরাধ নারীদের উপর অভিযোগ আরোপ করে এরপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারে না, তাদের বেত্রাঘাত কর, আঁশিটি করে, এবং এরপর কখনই তাদের কাছ থেকে কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ করো না; এবং এটি একারণে যে তারা সীমালঙ্ঘনকারী। তারা ব্যতীত যারা অনুতপ্ত হয় এবং সংশোধিত হয়, কারণ নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।”

ধর্ষণ কী যিনার অন্তর্ভূক্ত?

আরবি ভাষায়, ইগতিসাব (বলপূর্বক কোন কিছু আদায় করা) বা জিনা-আল-জিবর শব্দটি ধর্ষণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী এটি হিরাবাহ বা রাহাজানি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম ধর্ষণ বা বলপূর্বক যৌন হয়রানিকে অনুমোদন করে না। এ সম্পর্কে আবু দাউদে মুহাম্মাদের সময়কালের একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছেঃ [42]

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৩/ শাস্তির বিধান
পরিচ্ছেদঃ ৭. হাকীমের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করা সম্পর্কে।
৪৩২৮. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) …. আলকামা তাঁর পিতা ওয়াযেল (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নরী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় জনৈক মহিলা সালাত আদায়ের জন্য গমনকালে পথিমধ্যে তার সাথে একজন পুরুষের দেখা হলে, সে ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। সে মহিলা চিৎকার দিলে, তার পাশ দিয়া গমনকালে জনৈক ব্যক্তি এর কারন জানতে চায়। তখন সে মহিলা বলেঃ অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ অপকর্ম করেছে। পরে তার পাশ দিয়ে মুহাজিরদের একটি দল গমনকালে সে মহিলা তাদের বলেঃ অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ কাজ করেছে। তারপর তারা গিয়ে এক ব্যক্তিকে ধরে আনে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল যে, সে-ই এরূপ করেছে। এরপর তারা সে ব্যক্তিকে উক্ত মহিলার কাছে উপস্থিত করলে, সেও বলেঃ হ্যাঁ। এই ব্যক্তিই এ অপকর্ম করেছে।
তখন তাঁরা সে ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সে ব্যক্তির উপর শরীআতের নির্দেশ জারী করার মনস্থ করেন, তখন মহিলার সাথে অপকর্মকারী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় এবং বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি-ই অপকর্ম করেছি। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে মহিলাকে বলেনঃ তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমার অপরাধ মাফ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি সে লোকটির সাথে উত্তম ব্যবহার করেন। তখন সাহাবীগন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ব্যভিচারী লোকটিকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ প্রদানের জন্য অনুরোধ করলে, তিনি বলেনঃ লোকটি এমন তাওবা করেছে যে, সমস্ত মদীনাবাসী এরূপ তাওবা করলে, তা কবূল হতো।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীস সিমাক (রহঃ) হতে আসতার ইবন নসর (রহঃ)-ও বর্ণনা করেছেন।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আলকামাহ (রহঃ)

ইসলামের আলেমগণ সকলেই এ বিষয় একমত যে, ধর্ষককে হুদুদ আইনের অধীনে শাস্তি দিতে হবে, যদি তাঁর বিরুদ্ধে পরিষ্কার তথ্য প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় অথবা যদি সে অপরাধ স্বীকার করে এবং ধর্ষিত মহিলাকে কোন শাস্তি দেয়া হবে না [43]। ধর্ষণের মামলায়, চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন, যদি না অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর অপরাধ স্বীকার করে। সেই অবস্থায় প্রত্যক্ষদর্শীর প্রয়োজন হবে না। উপরের হাদিসে অপরাধী ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করেছে বিধায় তার ওপর হদ্দ জাড়ি করা হয়েছিল। ধর্ষণের অভিযোগকারী যদি অভিযোগটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা মিথ্যা অভিযোগ বলে গ্রহণ করা হবে, যার শাস্তি হল বেত্রাঘাত। [44]

যিনার চারজন পুরুষ সাক্ষী

ব্যভিচার প্রমাণের জন্য ইসলামে দু’টোর যে কোনোটি জরুরি।

  • ক. ধর্ষকের স্বীকারোক্তি
  • খ. ৪ জন মুসলিম সত্যবাদী ন্যায়পরায়ন পুরুষ সাক্ষী

ইসলামী শরীয়তে যিনার শাস্তি হচ্ছে, অপরাধী অবিবাহিত হলে বেত্রাঘাত এবং বিবাহিত হলে পাথর ছুড়ে হত্যা। তবে এই শাস্তি তখনই প্রয়োগ করা যাবে, যখন চারজন পুরুষ সাক্ষী সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সরাসরি এই যিনা প্রত্যক্ষ করেছে। [37]

সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
৩৩/ অপরাধ ও তার শাস্তি
পরিচ্ছেদঃ ২৬. দু’ ইয়াহুদীকে রজম করার ঘটনা
৪৪৫২। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদল ইয়াহুদী তাদের মধ্যকার যেনার অপরাধী পুরুষ-নারীকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলো। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যকার সব চাইতে বিজ্ঞ দু’ জন লোক নিয়ে এসো। অতএব তারা ‘সূরিয়ার’ দু’ পুত্রকে তাঁর নিকট হাযির করলো।
তিনি তাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা এদের ব্যাপারে তাওরাতে কিরূপ বিধান দেখতে পাও? তারা বললো, আমরা তাওরাতে দেখতে পাই, চারজন সাক্ষী যদি সাক্ষ্য দেয় যে, তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রী গুপ্তাঙ্গে এরূপভাবে ঢুকানো অবস্থায় দেখেছে, যেরূপ সুরমা শলাকা সুরমাদানিতে ঢুকানো হয়। তাহলে তাদের উভয়কে রজম করা হবে।
তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তাহলে কোন্ জিনিসটা তোমাদেরকে তাদেরকে রজম করতে বাঁধা দিচ্ছে? তারা উভয়ে বললো, আমাদের শাসনক্ষমতা লোপ পেয়েছে। সুতরাং হত্যা করাকে আমরা অনুমোদন করি না।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষীদের নিয়ে আসতে ডাকলেন। তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে এলো। তারা সাক্ষ্য দিলো যে, সুরমা শলাকা যেরূপ সুরমাদানির ভিতরে ঢুকে যায় ঠিক সেরূপই তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রী লোকটির গুপ্তাঙ্গের মধ্যে ঢুকানোর অবস্থায় দেখেছে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের রজম করার নির্দেশ দেন।[1]
সহীহ।
[1]. ইবনু মাজাহ, দারাকুতনী।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

কারা সাক্ষ্য দিতে পারবে, তার কঠিন কিছু শর্তাবলী রয়েছে। সেগুলো পড়ে দেখা প্রয়োজন। [45]

ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ

ডিএনএ টেস্ট গ্রহণযোগ্য নয়

ইসলামি শরীয়তে অডিও, ভিডিও, ডিএনএ বা যেকোন মেডিকেল টেস্ট, এগুলো কিছুই হদ্দের শাস্তি দেয়ার বেলায় গ্রহণযোগ্য নয়। শুধুমাত্র ইসলামী শরীয়ত যেসমস্ত বিষয়কে প্রমাণ হিসেবে গণ্য করবে, সেগুলোই প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া বাদবাকি সমস্ত কিছুই ইসলামী শরীয়া আদালতে বাতিল হয়ে যাবে। [46]

প্রশ্নঃ
আমি জানি যে, অতীতে কাউকে যিনার দায়ে অভিযুক্ত করতে হলে তাদের ৪ জন সাক্ষী নিয়ে আসতে হতো। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান সময়ে ৪ জন সাক্ষী আনার পরিবর্তে কি আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে-যেমন ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে পারি?
উত্তরঃ
সকল প্রশংসা আল্লাহর।
ইসলামী শরিয়াহ অনুসারে, জিনা কেবল সুস্পষ্ট প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত হতে পারে, যথা চারজন বিশ্বাসযোগ্য এবং সত্যবাদী সাক্ষী, যারা সরাসরি তা দেখেছিল, বা অভিযুক্ত যদি দোষ স্বীকার করে বা মহিলা যদি গর্ভবতী হয়। উপরে উল্লিখিত প্রমাণের পরিবর্তে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বা ক্যামেরা এবং ভিডিও প্রমাণের সাহায্যে এটি প্রমাণিত হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা ভাল জানেন।
সূত্রঃ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ

Question
I know that in the past if someone has committed adultery, they had to bring 4 witnesses .
My question is can we prove that today by using latest scientific methods as the DNA test, instead of bringing 4 witnesses.
Answer
Praise be to Allah.
According to Islamic sharee’ah, zinaa can only be proven by clear evidence, namely the testimony of four trustworthy and sound witnesses who saw it actually happen, or by confession of guilt, or by the woman becoming pregnant. It cannot be proven by DNA testing or by use of cameras and videos in place of the things mentioned above. And Allaah knows best.
Source: Sheikh Muhammed Salih Al-Munajjid

মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখা

ইসলামের খুবই জনপ্রিয় একটি সহিহ হাদিস হচ্ছে, যে ব্যক্তি অপর মুসলমানের দোষ ত্রুটি ঢেকে রাখে বা গোপন করে, আল্লাহও আখিরাতে তার দোষত্রুটি ঢেকে রাখে। হাদিসটি অনেকগুলো হাদিসগ্রন্থেই আছে, একটি উল্লেখ করা হলো – [47]

রিয়াযুস স্বা-লিহীন
১/ বিবিধপরিচ্ছেদঃ ২৮: মুসলিমদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা জরুরী এবং বিনা প্রয়োজনে তা প্রচার করা নিষিদ্ধ
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,অর্থাৎ “যারা মু’মিনদের মাঝে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।” (সূরা নূর ১৯ আয়াত)
১/২৪৫। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২৫৯০, আহমাদ ২৭৪৮৪, ৮৯৯৫
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

এই হাদিসটি থেকে আমরা বুঝতে পারি, ইসলাম মুসলিমদের নিজেদের মধ্যে দোষত্রুটি গোপন রাখতে উৎসাহিত করে, যেন বাইরের মানুষ তা জেনে না ফেলে। এমনিতেই চারজন সত্যবাদী ন্যায়পরায়ন পুরুষ সাক্ষী যোগার করা একজন ধর্ষিতা নারীর জন্য অসম্ভব ব্যাপার, তার উপর যদি মুসলিমদের দোষত্রুটি গোপন রাখার ব্যাপারে এভাবে উৎসাহিত করা হয়, ফলাফল কী হয় তা সহজেই অনুমেয়। আসলে, কোন মুসলিম যদি সরাসরি ধর্ষণের ঘটনা দেখেও থাকে, সে ঐ ধর্ষকের দোষত্রুটি যদি গোপন করে এই আশায় যে, আল্লাহও আখিরাতে তার দোষত্রুটি গোপন রাখবে, তাহলে তো ধর্ষণ প্রমাণ করা অসম্ভবের উপর অসম্ভব!

যিনা প্রমাণে ব্যর্থ হলে উল্টো শাস্তি

কেউ যদি কারো উপর যিনার অভিযোগ আরোপ করে, এবং সাক্ষী যোগার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কোরআনের সূরা আন-নূর এর আয়াত ১৩ অনুসারে, [48]

তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী নিয়ে আসল না? সুতরাং যখন তারা সাক্ষী নিয়ে আসেনি, তখন তারাই আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী। [ অনুবাদঃ আল-বায়ান ]

তারা চারজন সাক্ষী হাযির করল না কেন? যেহেতু তারা সাক্ষী হাযির করেনি সেহেতু আল্লাহর নিকট তারাই মিথ্যেবাদী। [ অনুবাদঃ তাইসিরুল ]

তারা কেন এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী হাযির করেনি? যেহেতু তারা সাক্ষী হাযির করেনি, সেই কারণে তারা আল্লাহর বিধানে মিথ্যাবাদী। [ অনুবাদঃ মুজিবুর রহমান ]

Why did they [who slandered] not produce for it four witnesses? And when they do not produce the witnesses, then it is they, in the sight of Allah, who are the liars. [ Sahih International ]

এই আয়াতের জালালাইনের তাফসীর পড়ে দেখি, [49]

ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ
ধর্ষণ

এবারে মাযহারীর তাফসীর পড়ে দেখি, [50]

ধর্ষণ
ধর্ষণ

এছাড়াও যারা অন্য কোন প্রমাণও না দিতে পারে, ( মনে রাখতে হবে, ডিএনএ টেস্ট, অডিও ভিডিও কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির প্রমাণ ইসলামী শরীয়তে হদ্দের শাস্তির ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয় ) তাহলে অভিযোগকারীর উপরই শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। সহি হাদিসে এটিই বর্ণিত আছে। [51]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৪/ শাহাদাত
পরিচ্ছেদঃ ১৬৬৩. কেউ কোন দাবী করলে কিংবা (কারো প্রতি) কোন মিথ্যা আরোপ করলে তাকেই প্রামাণ করতে হবে এবং প্রমাণ সন্ধানের জন্য বের হতে হবে
২৪৯৩। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, হিলাল ইবনু উমাইয়া নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার স্ত্রী বিরুদ্ধে শারীক ইবনু সাহমা এর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হয় তুমি প্রমাণ (সাক্ষী) পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে (বেত্রাঘাতের) দন্ড আপতিত হবে। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমাদের কেউ কি আপন স্ত্রী উপর অপর কোন পুুরুষকে দেখে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ছুটে যাবে? কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কথা (বার বার) বলতে থাকলেন, হয় প্রমাণ পেশ করবে, নয় তোমার পিঠে বেত্রাঘাতের দন্ড আপতিত হবে। তারপর তিনি লি’আন (لعان) সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

কোরআন সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তানে একটি আইন ছিল, বর্তমানে সেই আইনটি সংস্কার করা হয়েছে। সেই আইনটিতে বলা ছিল, [52]


“The Offence of Qazf (Enforcement of Hudood) Ordinance of 1979”. It described the offence of false accusation of Zina (fornication and adultery) either written, verbal or “by visible representations”, with intent to cause harm, and without producing four witnesses in support of the accusation before the Court, or who “according to the finding of the Court”, a witness has given false evidence of the commission of zina or rape, or when a complainant has made a false accusation of rape;
– Proof of “qazf liable to hadd” includes the accused confessing to it in court, the accused committing qazf in court, or if two Muslim adult male witnesses (other than the victim of the qazf) testify that the defendant committed qazf. (If the accused is a non-Muslim, the witnesses may be non-Muslims.)
– Punishment of “qazf liable to hadd” will be a whipping numbering 80 stripes.
– “Qazf liable to Tazir” applies whenever
– proof in any of the forms mentioned above is not available,
– or when the perpetrator has committed ‘qazf’ against any of his descendants,
– or when the victim of qazf has died during the “pendency of the proceedings”;
– punishment of “qazf liable to tazir” shall be imprisonment for up to two years, a whipping of up to 40 stripes, and may also include a fine.

চারজন না পেলে সাক্ষীদেরই শাস্তি

যিনা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় চারজন পুরুষ সত্যবাদী ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী না পাওয়া গেলে, সাক্ষীদের একজন অন্ধ বা গোলাম হলে, তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পাওয়া গেলে যিনা প্রমাণিত হবে না, বরঞ্চ সেই তিনজন সাক্ষীর ওপরই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। শরীয়তের ভাষায় একে বলা হয় হদ্দে কাযফ। অর্থাৎ সাক্ষীদেরই অপবাদকারী হিসেবে শাস্তি প্রদান। চিন্তা করে দেখুন, চারজন সাক্ষী পাওয়া যাবে কিনা, যদি একজনই মাত্র সাক্ষী থাকে এবং চারজন সাক্ষী না পেলে সাক্ষীর ওপরই শাস্তি প্রয়োগের ভয় থাকে, কেউ কী আর এরকম বিচারিক প্রক্রিয়াতে সাক্ষ্য দিতে উৎসাহিত হবে? [53]

ধর্ষণ

তা’যীর শাস্তির বিধান

ইসলামী শরীয়ত হদ্দ এবং কিসাসের বাইরে সেসব অপরাধের শাস্তির কোনো পরিমাণ নির্ধারণ হয় নি, বরং বিচারকের বিবেচনার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে, তাকে তা’যীর বলে। বিচারক স্থান, কাল ও পরিবেশ বিবেচনা করে কোন অপরাধীকে শাস্তি দিতেও পারেন, নাও দিতে পারেন। এমনকি, কিছু জরিমানা নিয়ে ছেড়েও দিতে পারেন। তবে এই শাস্তি হচ্ছে লঘু শাস্তি। কোন ধর্ষিতা যদি চারজন পুরুষ সাক্ষী অথবা ধর্ষকের মৌখিক স্বীকারোক্তি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়, কিন্তু এমন যদি হয় যে, অন্য কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা যাচ্ছে, তাহলে সেটির জন্য যিনা প্রমাণিত না হওয়ায় মারধর বা বলপ্রয়োগ প্রমাণিত হলে তা’যীর বা লঘু দণ্ড এর আওতায় শাস্তি দেয়া হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি সেটি ব্যভিচারের জন্য শাস্তি নয়, কারণ ব্যভিচার বা যিনা প্রমাণিতই হয় নি। সেইসাথে, তা’যীরের ক্ষেত্রে বিচারক অন্য মুসলিমদের সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে। কোন গণ্যমান্য ব্যক্তি এই শাস্তি মওকুফের সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু হদ্দের বেলায় সুপারিশ করা এবং তা আমলে নেয়া কোনটাই বিধিসম্মত নয়।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, তা’যীরের আওতায় পড়লে কী শাস্তি হবে? তাযীরের শাস্তি বিষয়ক সহিহ হাদিস অনুসারে তা’যীরের আওতায় শাস্তি হচ্ছে সর্বোচ্চ দশ বেত্রাঘাত। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে এই মতই দিয়েছেন যে, দশ দোররার উর্ধ্বে শাস্তি জায়েজ নেই (এই বিষয়ে যদিও ভিন্ন মত রয়েছে)। নিচের হাদিসটি পড়ুন- [54]

সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
৩০। অপরাধের (নির্ধারিত) শাস্তি
পরিচ্ছেদঃ ৯. তাযীর এর বেত্ৰাঘাতের পরিমাণ
৪৩৫২-(৪০/১৭০৮) আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ….. আবূ বুরদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, কাউকে যেন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অপরাধের নির্দিষ্ট হদ্দ (দণ্ড) ব্যতীত দশ বেত্ৰাঘাতের বেশী বেত্ৰাঘাত না করা হয়।
(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩১১, ইসলামিক সেন্টার ৪৩১২)
[যে অপরাধ হদযোগ্য (নির্দিষ্ট দন্ডযোগ্য) নয়- এ জাতীয় অপরাধের কারণে যে শাস্তি প্রদান করা হয় তাকে তাযীর বলা হয়।]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বুরদা (রহঃ)

মানে হচ্ছে, এই হাদিস অনুসারে যদি বিচার হয়, তা’যীরের আওতায় শাস্তি হলেও, বিচারকের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে দশটি বেত্রাঘাত! আরো কিছু হাদিস পড়ি- [55] [56] [57] [58] [59]

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭৫/ কাফের ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৬২. শাস্তি ও শাসনের পরিমান কতটুকু
৬৩৮৪। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ আল্লাহর নির্ধারিত হদ সমুহের কোন হদ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে দশ কশাঘাতের ঊর্ধ্বে দন্ড প্রয়োগ করা যাবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবু বুরদা ইবন নিয়ার (রাঃ)

সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৭৫/ কাফের ও ধর্মত্যাগী বিদ্রোহীদের বিবরণ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৬২. শাস্তি ও শাসনের পরিমান কতটুকু
৬৩৮৬। ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) … আবূ বুরদা আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর হদসমূহের কোন হদ ব্যতীত অন্যত্র দশ কশাঘাতের বেশি প্রয়োগ করা যাবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবু বুরদা ইবন নিয়ার (রাঃ)

সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩০/ অপরাধের শাস্তি
পরিচ্ছেদঃ ৮. তাযীর এর বেত্রাঘাতের পরিমাণ
৪৩১১। আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) … আবূ বুরদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, কাউকে যেন আল্লাহ তা’আলার নির্ধারিত হদ্দ জাতীয় অপরাধ ব্যতীত অন্য কোন অপরাধে দশ বেত্রাঘাতের অধিক বেত্রাঘাত না করা হয়।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবু বুরদা ইবন নিয়ার (রাঃ)

সূনান আবু দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৩৩/ শাস্তির বিধান
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. শাস্তি সম্পর্কে।
৪৪৩২. কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) …. আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি ব্যতীত, অন্য কোন শাস্তি, দশ কোড়ার বেশী প্রদান করা যাবে না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবু বুরদা ইবন নিয়ার (রাঃ)

ধর্ষণ

উপসংহার

স্বাভাবিকভাবেই যেকোন সুস্থ মাথার মানুষ মাত্রই বুঝবেন, ধর্ষিতা কখনো চারজন পুরুষ সাক্ষী সাথে নিয়ে ধর্ষিত হতে যায় না। আর যদি সেই সময়ে চারজন পুরুষ সাক্ষী ঘটনাটি দেখেও থাকে( তাদের দেখতে হবে একদম কাছ থেকে, কারণ হাদিসে বলা রয়েছে, “সুরমা শলাকা যেরূপ সুরমাদানির ভিতরে ঢুকে যায় ঠিক সেরূপই তারা পুরুষটির গুপ্তাঙ্গ স্ত্রী লোকটির গুপ্তাঙ্গের মধ্যে ঢুকানোর অবস্থায় দেখেছে”) , তার মানে এটি পরিষ্কার যে, ঐ চারজনও ছিল ধর্ষকের সহযোগী। নইলে তারা কিছুই না করে এত কাছ থেকে দেখছিল কেন? আর ধর্ষকের সহযোগীরা কেন ধর্ষিতার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে, সেটিও বোধগম্য নয়। সাক্ষ্য দিলেও, সেই সাক্ষীদের যেরকম সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ন হতে হবে, মুসলিম পুরুষ হতে হবে, সাক্ষ্য দেয়ার ক্ষেত্রে যেই সব শর্তাবলী আছে, সেগুলো পূরণ করা যেকোন মানুষের জন্যেই প্রায় অসম্ভব। তাই বাস্তবক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষণ প্রমাণই সম্ভব হয় না। এবং ধর্ষণ প্রমাণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকলে বেশিরভাগ ধর্ষিতা নারীই মামলা করে না, কিংবা মিডিয়ার শরণাপন্নও হয় না।

এমনিতেই রক্ষণশীল সমাজে নারীদের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থাকতে হয়, তার ওপর যৌন নির্যাতনের শিকার হলে যদি এরকম আইন থাকে, সেটি কোন মেয়েকেই উৎসাহী করে না, বরঞ্চ ধর্ষিত হয়েও মুখ বুজে সহ্য করতে উৎসাহিত করে। পরিবার থেকেও চাপ আসতে থাকে।

তাহলে করণীয় কী? যেই বিষয়টি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে, আপনার সন্তানদের এখন থেকেই শেখান, নারী এবং পুরুষ কেউই কারো চাইতে দুর্বল নয়, অক্ষম নয়, অবলা নয়। প্রতিটি মানুষই তার ইচ্ছে অনুসারে জীবন যাপনের অধিকার প্রাপ্ত। আপনার মেয়েকে ঢেকেঢুকে রাখার চাইতে আপনার ছেলেকেই শেখান, সে যেন এমন কোন কাজ না করে, যাতে তার মা লজ্জিত হয়।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, স্কুল কলেজে যৌনশিক্ষা চালু করা। বাচ্চারা যেন নিজেদের সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে, এবং অভিভাবকদের জানাতে একটুও লজ্জাবোধ না করে। নিজেদেরকেই যেন তারা অপরাধী না ভাবে, নিজেকেই যেন দোষ না দেয়। সেইসাথে আরো জরুরি বিষয় হচ্ছে, নারীর সম্পর্কে সামাজিক ধারণাগুলোর ক্রমশ পরিবর্তন এবং আইনগুলো সংস্কার। নারীকে যেন ছেলেমেয়েরা ছোট বেলা থেকেই সহজ স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে মনে করতে পারে, বন্ধু বা আত্মীয় মনে করতে পারে, সেই চেষ্টা করা। মানুষের মনস্তত্ত্ব গবেষণা করে দেখা গেছে, মানুষ তাদের প্রতিই বেশি হিংস্রতা দেখায়, যাদের তারা চেনে বা কাছ থেকে জানে না। দুরত্ব থাকাই এর একটি অন্যতম কারণ। আর মৃত্যুদণ্ড নয়, ধর্ষকরা কেন ধর্ষণ করে, তাদের মনস্তত্ত্ব কীভাবে কাজ করে, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা।

উপরের পুরো আলোচনা থেকে এটিই পরিষ্কার হয় যে, মৃত্যুদণ্ড কখনো ধর্ষণ রোধে সহায়ক নয়। একই সাথে, শরীয়া আইনে ধর্ষণের যে বিচার প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি ভয়াবহ ত্রুটিপূর্ণ একটি মধ্যযুগীয় বর্বর পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্ষকের বিচার করা সম্ভব নয়। আশাকরি পাঠকগণ পুরো লেখাটি মন দিয়ে পড়বেন এবং যাচাই করে দেখবেন, এরকম বিচার প্রক্রিয়া আপনারা বাঙলাদেশেই চান কিনা।

তথ্যসূত্রঃ
  1. “Sexual violence chapter 6” (PDF)। World Health Organization। ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ []
  2. “Rape”। dictionary.reference.com। এপ্রিল ১৫, ২০১১ []
  3. “Rape”। legal-dictionary.thefreedictionary.com। এপ্রিল ১৫, ২০১১ []
  4. Sharia as the Official Law of the Land []
  5. A CLEAR SCIENTIFIC CONSENSUS THAT THE DEATH PENALTY DOES NOT DETER []
  6. DOES THE DEATH PENALTY DETER CRIME? GETTING THE FACTS STRAIGHT []
  7. Deterrence and the Death Penalty (2012) []
  8. অপরাধী নেই, নেদারল্যান্ডসে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জেল! []
  9. অপরাধী কম, তাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারাগার []
  10. সর্বোচ্চ সম্মান এবং সুমহান মর্যাদা! []
  11. সুরা আল বাকারা, আয়াত ২২৩ []
  12. সূরা আল আরাফ, আয়াত ১৮৯ []
  13. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩৫১২ []
  14. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩৫১৩ []
  15. সুনানে ইবনে মাজাহ, তাওহীদ পাবলিকেশন্স,‌ হাদিস নম্বর- ৩৯৯৮ []
  16. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ২৮ []
  17. সূরা আহজাব, আয়াত ৫৯ []
  18. Declaration on the Elimination of Violence Against Women []
  19. Marital Rape Consent, Marriage, and Social Change in Global Context []
  20. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৩৪৩৩ []
  21. সহীহ মুসলিম, হাদিস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৩৪৩২ []
  22. মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস নাম্বার- ৩২৫৭ []
  23. সুনানে ইবনে মাজাহ, তাওহীদ পাবলিকেশন, হাদিস নাম্বার- ১৮৫৩ []
  24. ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণের বৈধতা কি অস্বীকার করা যায়? []
  25. ইসলামে বৈবাহিক ধর্ষণের বৈধতা []
  26. আয়িশা কি নয় বছর বয়সে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন? []
  27. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৩৩৭০ []
  28. ইসলাম, গনিমতের মাল এবং আমাদের মানবতা! []
  29. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৩৮৩২ []
  30. সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নম্বর- ৭৪০৯ []
  31. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নাম্বার- ৪৪০৩ []
  32. Noor, Azman Mohd (1 January 2010). “Rape: A Problem of Crime Classification in Islamic Law”. Arab Law Quarterly24 (4): 417–438. doi:10.1163/157302510X526724 []
  33. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বরঃ ৩৫১২ []
  34. সূরা মায়িদা, আয়াত ৩৩ []
  35. সূরা মায়িদা, আয়াত ৩৪ []
  36. মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস নম্বর- ২৬ []
  37. সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস নম্বর- ৪৪৫২ [][]
  38. সূরা নিসা, ১৫-১৬ []
  39. সূরা নূর, ১২-১৬ []
  40. সূরা নুর, আয়াত ২ []
  41. সূরা নুর, আয়াত ৪-৫ []
  42. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪৩২৮ []
  43. Uzma Mazhar (২০০২)। “Rape in Islam”। Muslimaccess.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-১১-০৭ []
  44. Peters, R, “Zinā or Zināʾ” in the Encyclopaedia of Islam (second edition) edited by P. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel, W.P. Heinrichs (Brill Online). []
  45. ইসলামের শাস্তি আইন, লেখকঃ ড. আহমদ আলী। প্রকাশনীঃ বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ []
  46. How can zinaa be proven? []
  47. রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বর- ২৪৫ []
  48. সূরা আন-নূর, আয়াত ১৩ []
  49. তাফসীরে জালালাইন, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৯০, ৪৯৩, ৪৯৭, ৪৯৯ []
  50. তাফসীরে মাযহারী, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬০, ৩৬১ []
  51. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ২৪৯৩ []
  52. THE OFFENCE OF QAZF (ENFORCEMENT OF HADD) ORDINANCE (VIII OF 1979) []
  53. আশরাফুল হিদায়া, ইসলামিয়া কুতুবখানা, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৭ []
  54. সহীহ মুসলিম, হাদীস একাডেমী, হাদিস নম্বর- ৪৩৫২ []
  55. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৩৮৪ []
  56. সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৬৩৮৬ []
  57. সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪৩১১ []
  58. সূনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর- ৪৪৩২ []
  59. সুনান আবূ দাউদ, তাহক্বীক- আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী, আল্লামা আলবানী একাডেমী, পঞ্চম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫১ []

7 thoughts on “ইসলামের প্রেক্ষাপটে ধর্ষণ এবং অন্যান্য

  • October 10, 2020 at 2:32 AM
    Permalink

    এই মূহুর্তে লেখাটির প্রয়োজনীয়তা খুবই ছিল।

    ধন্যবাদ আসিফ ভাই।

    Reply
  • October 10, 2020 at 4:17 PM
    Permalink

    কাকু, আপনাদের ওয়েবসাইটে প্রশ্ন করার ব্যবস্থা নেই? থাকলে ভালো হতো!

    Reply
      • October 10, 2020 at 10:00 PM
        Permalink

        আসিফ ভাই,আপনি সবসময়ই ভাল লেখেন। ভাল হয় যদি একটা এপ চালু করেন আর আর্কাইভে যাতে আরো সহজে সব লেখা খুজে পাওয়া যায় সেই দিকে একটু নজর দিবেন।

        Reply
  • October 11, 2020 at 2:19 AM
    Permalink

    প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাই কঠোর পরিশ্রম দ্বারা রেফারেন্স সহ ইসলাম ধর্মের শান্তির নামে মানবজাতির জন্য তৈরি করা দুর্বিষহ আইন গুলো তুলে ধরার জন্য। আপনার প্রতিটি লেখারই আমি প্রশংসা করি কারণ সুন্দর যুক্তি দিয়ে আপনি ইসলাম ধর্মের শান্তি নামের অশান্তি ও বর্বরতা গুলো সমালোচনা করেন। তবে দুঃখের বিষয় আমার মতে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই ইসলাম ধর্মের বর্বরতা গুলো শুনতে বা বুঝতে চায় না। আধুনিক যুগে তারা শিক্ষার বড়াই করলেও তাদের মধ্যে ধর্মের কুশিক্ষা এখনও বজায় আছে। এরা নিজেদের যুক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি দিয়ে ধর্মের বানোয়াট বিষয়গুলো বিবেচনা করে না। এরা সাধারন মানুষের ব্যক্তিগত ও অন্যান্য বিষয়ে নিয়ে সমালোচনা করার সময় অনেক যুক্তি, তর্ক খরচ করে কিন্তু ধর্ম ও ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত মানুষদের ইতিহাস জানলেও তাদের সমালোচনা করার বেলায় চুপ। উল্টো ধর্মের নোংরা ও বর্বর নিয়ম গুলো সাফাই গাওয়ার জন্য যুক্তি তর্ক খোজা শুরু করে। এদের মাথায় কি আছে এরা নিজেরাই জানে না। যাহোক ধর্মের মিথ্যা, কুসংস্কার, নোংরামি,বর্বরতা থেকে বের হবার এ মহান প্রচেষ্টার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং আপনার এ প্রচেষ্টা সবসময় বজায় থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশের ১০০% মানুষ যখন আপনার প্রচেষ্টা উপলব্ধি করতে পারবে তখন দেশের উন্নতি হবে। নইলে ধর্মের বেড়াজালে দেশের মানুষ হাবুডুবু খাবে। তাদের মুক্তি অসম্ভব।

    Reply
  • October 12, 2020 at 8:29 PM
    Permalink

    যারা পাপী, শুধু তাদেরকে ছাঁটাই করলে হয়না, এরা হচ্ছে গাছের পাতার মতো। একটা গাছ লাগালে পাতা তো গজাবেই।
    যারা শাস্তি দিয়ে সন্তুষ্ট থাকে তাদের জন্য বলছি, শাস্তি দেয়া হচ্ছে গাছের পাতা ছাঁটাই করার মতো। আপনি পাতা কেটে ফেললেন, কিন্তু পাতা আবার গজাবে।
    তেমনি একজন পাপীকে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিলেই সব ফুরিয়ে যায় না।
    পাতা আবার গজাবে।
    মানে আবার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবেই। আর আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হচ্ছে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটা হয়ে যাওয়ার পরে।
    অর্থাৎ, “ঐ পাপগুলো” ঘটতেই থাকবে, আর আইন শাস্তি দিতেই থাকবে তাইতো?
    যদি শাস্তিই সবচেয়ে ভালো সমাধান হয়, তাহলে যে অন্য পাপীরা তাদের পরবর্তী পাপকাজ করার জন্য বসে আছে, এদেরকে কিভাবে দমন করবেন? তারা তো অপরাধী নয়, কারণ তারা কাজটা করে ফেলেনি (কিন্তু অবশ্যই করে ফেলবে)। শাস্তির ভয় থেকে যদি আমি এসব কাজ থেকে বিরত থাকি, তাহলে আমার অন্তরে ঘু ছাড়া আর কিছুই নেই। ভয় কেটে যাওয়ার পরপরই ধর্ষণ( অথবা অন্যান্য পাপ ) হবে……

    শাস্তির ভয় থেকে নয়, এমনিতেই ( কিংবা মানবিক দায়িত্ববোধে ) আমরা এসব কাজ থেকে বিরত থাকব, মাথাতেও এসব করার ভাবনা আসার কথা নয়।

    Prevention is better than cure.
    দমন করতে হলে শাস্তির চেয়েও অনেক বড় ব্যাপার আছে, তা হলো “গাছটির গোড়া কেটে ফেলা”
    গোড়া থেকে নাশ না করলে (Prevention না করলে) যতই শাস্তি দেয়া হোক না কেন, পাপ ঠেকানো যাবেনা। এমনকি শাস্তিকে cure বলাটাও বোকামি। কই , আমি পাপ করলে শাস্তি পেলুম, আচ্ছা। আমি আর করলাম না, আর ঠিক এরপর, অন্য আরেকজন পাপটা করতে গেলে? করে ফেললে? সেটা cure হল? বারবার ওই একই রোগ ফিরে আসা।
    Punishment is NOT A CURE, It’s a REVENGE

    কেউ গোড়া খুঁজেনা,

    এই গোড়াটা হল মানুষের মন, এখান থেকেই Prevention করা উচিত

    একটা ছোট বাচ্চা কখনো ধর্ষক হয়ে জন্মায়না, সে পরিবেশ অনুযায়ী বড় হয়। কিন্তু এমন খুব কম পরিবেশ আছে, যেখানে থাকলে মনকে নিয়ন্ত্রণ করা শেখা যায়। পরিবেশ যেরকমই হোক, মানবতার স্বার্থে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। যেকোনো বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই বলতে পারবে যে, ধর্ষণ (অথবা অমুক কাজগুলো ) খারাপ, তাহলে তারা সেটা করে কেন? কারণ, তাদের মনে স্বার্থ থাকে, এবং সেই স্বার্থপর মনকে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। একটা গাছ লাগালে পাতা তো গজাবেই। এটাই হচ্ছে সেই গাছ, স্বার্থ, যেটা গোড়া থেকে আসে, মন থেকে।

    ( কিছু পাতি নারীবাদী আছে যারা বলে থাকে যে পুরুষ মানেই ধর্ষক, এটা আমি মানিনা )

    কেও কেও বলে থাকে, রাষ্ট্রের (কিংবা অমুক দলের) আশ্রয়ে এসব ঘটে
    আরে ভাই, রাষ্ট্র (কিংবা অমুক দলের) আশ্রয়ে এসব ঘটে, কিন্তু কাজটা করছে ওই পাপীটাই। সে একটুও বিবেক থাকলে পাপটা করবে? তার মানবিকতা যদি রাষ্ট্র (কিংবা অমুক দলের) নিয়ন্ত্রনে থাকে, তাহলে তো পাপটা হবেই।যার নিয়ন্ত্রনে মনটা থাকার কথা, সে মূলত নিয়ন্ত্রণ হারায়না, সে আসলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। শিখতে হবে, আর শিখাতে হবে।

    আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন, ধর্ষণ হয়ে যাওয়ার আগেই আটকাবো, ঠিক আছে, হওয়ার পরে কি করব?

    ব্যাপারটাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, ১। Victim,.২। Criminal

    প্রথম কথা হচ্ছে, কনফার্ম( মানে মেয়েটার কূট চালাকি না থাকলে, বা সত্যিই ধর্ষণ হলে) ধর্ষণ হওয়ার পর যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (Victim), তার ক্ষতিপূরণটা বেশি দরকার। সেটা নিয়ে কথা বললাম না, আমি জানিনা কিভাবে ক্ষতিপূরণ দিব, আসলে শাস্তি চাইতে চাইতে Victim এর কথাই আমরা ভুলে যাই। Victim কে কিভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া যায় সেটা নিয়ে লেখালেখিও কখনো করতে দেখিনি। সেটা কিন্তু খুবই দরলার। কারণ আমরা সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা পাই না… কিছু একটা তো করতেই হবে তার জন্য…

    এরপর Criminalকে কি করব? শাস্তি দেব? @মৃত্যুদণ্ড কী ধর্ষণ রোধ করতে পারে? প্রবন্ধের এই অংশটা পড়ে নিতে পারেন। আমার মতামত দিচ্ছি, আমি হলে শাস্তি দেয়ার আগে কিভাবে লোকটার কলুষিত মনটাকে সংশোধন করা যায় সেটা দেখব, এটা অদ্ভুত ব্যাপার, কেওই এটার কথা বলেনা। মেরে ফেলার যেকোনো শাস্তি দিলে সেই পাপী নিষ্পাপ হয়ে যাচ্ছে না, সে তার কলুষিত মনটাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি চাই না কেউ পাপী অবস্থায় দুনিয়া ছেড়ে দিক। সে তো আর পাপী অবস্থায় আসেনি। অন্তত তার একটা বিষয় ভেবে অনুতপ্ত হওয়া উচিত যে, সে খারাপ কাজ করেছে। তাকে মন নিয়ন্ত্রণ করা শিখাতে হবে। মানবিক গুণাবলী তার মধ্যে আনতে হবে। এরপর ,

    এরকম মানুষকে দরকার মতো খরচার খাতায় ফেলে রাখলেই হয়। সমাজের অনেক ভালো মানুষ দেহের অঙ্গ, রক্ত দান করে প্রতিবন্ধী জীবনযাপন করছে, তাদের বিকল্পে পাপীদেরকে ব্যাবহার করা যায়। বিপজ্জনক কাজে তাদেরকে ব্যাবহার করা যেতেই পারে, কিছু নিলে কিছু দিতে হয়। তখন তার মৃত্যু হলেও আমার সমস্যা নেই, আরেকটা ভালো “কাজের মানুষ” বেঁচে থাকবে। হয়তো মানবজাতির কল্যাণে তার অবদান থাকবে।

    আর সে পাপী হলেও আমরা পাপী হব কেন। সে ধর্ষণ দিয়েছে, আমরা মৃত্যু দেব, প্রতিশোধ নেব, এতে মহানুভবতা নয়, অমানবিকতা প্রকাশ পায়। আমি হিংস্র হতে চাই না।

    মহৎ এবং গুণী ব্যাক্তিরা কেন চরম পাপীকেও ক্ষমা করে দেন? কারন তারা জানেন যে, শাস্তি ছাড়াও পাপ আটকানোর সুন্দর উপায় আছে। এই দিক বিবেচনা করলে বুঝা যায় যে, ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম নয়। সে শুধু শাস্তির ব্যাবস্থা করতে পারে। অপটিমাম সমাধান তার কাছে নাই।

    ধর্ষণ হোক বা অন্য অপরাধ হোক, অপরাধ সবই কিন্তু মন থেকে আসে। তাই মন থেকেই সব পাপ নির্মূল করতে হবে, মন নিয়ন্ত্রণ করে। শাস্তি দিয়ে নয়।

    কিছু মনে করবেন না, আপনি ত ধর্ম বিশ্বাসী নন, আমিও “মোটামুটি” নাস্তিক, কিন্তু বৌদ্ধ মতবাদ চিত্ত বা মন নিয়ন্ত্রণ করার পথ দেখিয়ে গেছে বলে আমি বৌদ্ধ মতবাদকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। সেটা আসলেই আছে কীনা, থাকলে সেটা বৈজ্ঞানিক কীনা, তা যাচাই করে দেখতে পারেন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *