সংস্কৃত সাহিত্যিকদের চোখে রামের শূদ্র শম্বুক হত্যা

এক শূদ্র তপস্বী একবার ঈশ্বরকে লাভ করতে চাইলেন। এর জন্য শুরু করলেন কঠোর তপস্যা। সামনে অগ্নিকুণ্ড জ্বাললেন, আর বৃক্ষে পা ঝুলিয়ে মাথা অগ্নিকুণ্ডের উপর রেখে করতে লাগলেন কঠোর তপস্যা। তার ঈশ্বর লাভ হল।  অবতার রামচন্দ্রের দেখা তিনি পেলেন। সেই ভগবান তাকে দেখে কেবল একটি প্রশ্ন করলেন, ‘হে তপস্বী! আপনার জাত কি?’ তপস্বী বললেন, ‘আমার নাম শম্বুক, জাতিতে আমি শূদ্র’। শূদ্র শম্বুকের কথা শুনে ভগবান ক্রোধে কাঁপতে লাগলেন, ক্রোধাগ্নিতে তার দুই চোখ জ্বলে উঠলো। ‘কি! শূদ্র হয়ে তপস্যার মত এত বড় ধৃষ্টতা!’ রাম এক মুহূর্তও বিলম্ব করলেন না, তার হাতের খড়্গ দিয়ে এক কোপে শম্বুকের মাথা কেটে ফেললেন।

বাল্মিকী রামায়ণের উত্তরকাণ্ড আমাদের এই ঘটনা বলছে। রামায়ণে এই ঘটনা স্থান পাওয়ার কারণ হল তৎকালীন সমাজের চোখে শূদ্র মানুষ হিসাবে গণ্য হত না। শূদ্রের তপস্যা, বিদ্যাশিক্ষা এসব সেইসময় ছিল মহাপাপ। হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয় সমাজ ঠিক এমনই ছিল। নিম্নবর্ণের মানুষদের ন্যূনতম মানবিক অধিকারও তখন ছিল না। কিন্তু শম্বুকের সেই প্রাচীন সমাজ আজ অনেকখানি বদলেছে। আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারের ফলে অনেক মানুষই বুঝতে পারছে,  জাত-পাত, সাদা-কালোর ভেদাভেদ এসব একদমই বাজে জিনিস। মানুষ মানুষকে মানুষরূপেই দেখতে শিখছে। কিন্তু প্রথা যা হাজার বছর ধরে চলছে, বিশ্বাস যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাহিত হচ্ছে, তা থেকে মুক্ত হওয়াও সহজ নয়। পিছুটান মানুষের এক স্বাভাবিক ধর্ম। অতীতের প্রতি মানুষের এক দুর্বলতা কাজ করে। তাই নিজেরা জাত-পাত তেমনভাবে না মানলেও,  আরাধ্য ঈশ্বর, ভগবান, অবতাররা জাতপাত মানতেন, এটা মেনে নেওয়া অনেকের কাছেই খুব অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাই প্রয়োজন পড়ে অস্বীকারের। “না, রাম কখনো শূদ্র শম্বুককে হত্যা করেননি। তিনি এমনটা করতে পারে না।“  প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের যেসব অংশ তাদের কাছে বিব্রতকর হয়ে উঠেছে, তারা সেগুলোকে ভুয়া, বানোয়াট, প্রক্ষিপ্ত ইত্যাদি বলা শুরু করেছে। এই প্রক্ষেপবাজিতে মূলত নিয়ম একটাই- ‘যেহেতু আমার এটা অপছন্দ তাই এটা প্রক্ষিপ্ত’।

এই তো গেল নবীনদের কথা, সমাজসংস্কার যাদের আচারের ভিত অনেকটা টলমল করে দিয়েছে। কিন্তু প্রাচীনেরা আসলে কিভাবে দেখতেন প্রাচীন প্রথাগুলোকে? তাদের কাছেও কি এসবকে খারাপ মনে হয়েছিল? রাম যে এক শূদ্রকে হত্যা করেছেন, এটা কি কখনো তারা অস্বীকার করেছিলেন? তাদের কাছে কি এই ব্যাপারটা অনৈতিক বলে মনে হয়েছিল?

আসুন আজ আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি।

কালিদাসের রঘুবংশ

আজকের দিনেও কালিদাসের নাম শোনেননি এমন লোক হয়তো নেই এই ভূভারতে।  কালিদাস,  সংস্কৃত সাহিত্যের শেক্সপিয়ার, তার সাহিত্যপ্রতিভার জন্য অমর হয়ে আছেন সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে। তিনি তার ‘রঘুবংশ’, ‘কুমারসম্ভব’, ‘মেঘদূত’ , ‘ঋতুসংহার’ এর মত কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে সংস্কৃত সাহিত্যের ভূবনে অমরত্ব লাভ করেছেন। আজ আমরা  বলবো মহাকবি কালিদাসের রঘুবংশম নামক কাব্যটির কথা। রঘুবংশম কাব্যে রামায়ণের ঘটনার বিষদ বিবরণ মেলে এবং এতে রামের শূদ্র শম্বুক হত্যার ঘটনাটিও পাওয়া যায়। এখান থেকে বোঝা যায় রামের শূদ্র শম্বুক হত্যার ব্যাপারটিকে কালিদাস কিভাবে দেখতেন। সকলের জন্য রঘুবংশের পঞ্চদশ সর্গের যেস্থানে শম্বুক হত্যার কথা আছে, তার উল্লেখ করা হল-

“তারপর একদিন দূর জনপদবাসী এক ব্রাহ্মণ মৃত কিশোর পুত্রকে কোলে করে নিয়ে রাজদ্বারে এসে সন্তানকে নামিয়ে কাঁদতে লাগলেন । ৪২

‘হা পৃথিবী! দশরথের হাত থেকে রামের হাতে গিয়ে তুমি কি চরম শোচনীয় অবস্থায় এসেছ!’ ৪৩

রক্ষক রাম তার শোকের কারণ শুনে লজ্জিত হলেন। কারণ অকালমৃত্যু ইক্ষ্বাকুদের রাজ্যকে (এর আগে) কখনও স্পর্শ করেনি । ৪৪

রাম শোকার্ত হয়ে ব্রাহ্মণকে ‘ক্ষণকাল ক্ষমা করুন’ এই বলে আশ্বস্ত করে যমরাজকে জয় করতে ইচ্ছুক হয়ে কুবেরের রথকে ( পুষ্পক রথকে) স্মরণ করলেন। ৪৫

রঘুবংশজ ( রাম ) অস্ত্র নিয়ে সেই রথে চড়ে প্রস্থানে উদ্যত হলেন । এমন সময় তার সম্মুখে এক রহস্যময়ী দৈববাণী উচ্চারিত হল – ৪৬

হে রাজন! তোমার প্রজাদের মধ্যে কোথাও কোনো অনাচার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকবে । অন্বেষণ করে তারই প্রতিকার কর। ৪৭

এই বিশ্বস্ত বচন শুনে রাম বর্ণাশ্রমধর্মের সেই অনাচার দূর করার জন্যে রথে চড়ে দিঙমণ্ডল ভ্রমণে নির্গত হলেন। রথ এত দ্রুত ছুটছিল যে পতাকাটি একেবারে নিশ্চল হয়ে পড়েছিল । ৪৮

তারপর রাম এক পুরুষকে দেখলেন। সে একটি তরুশাখা অবলম্বন করে অধোমুখ হয়ে তপস্যা করছিল , ধোঁয়ায় তার চোখ তামাটে রঙ্গের হয়ে গিয়েছিল। ৪৯

রাজা নাম ও কুল জিজ্ঞাসা করায় সেই ধূমপায়ী পুরুষ বলল , সে ইন্দ্রপদ লাভ করতে চায় , তার নাম শম্বুক সে জাতিতে শূদ্র। ৫০

তপস্যায় তার অধিকার না থাকাতেই সে অনর্থ বয়ে এনেছে , তাই তার শিরচ্ছেদ করাই কর্তব্য এই স্থির করে রাম অস্ত্র গ্রহণ করলেন। ৫১

সেই রাম অগ্নিস্ফুলিঙ্গে দগ্ধশ্মশ্রু তার মুখটি তুষারপাতে ক্লিষ্টকেশর পদ্মের মত কন্ঠনাল থেকে বিচ্যুত করলেন। ৫২

স্বয়ং রাজা দণ্ড দিলেন বলে শূদ্র সদগতি লাভ করল , তার তপস্যা দুশ্চর হলেও অনধিকার দোষে দুষ্ট হওয়ায় তা দিয়ে সে এই সদ্গতি লাভ করতে পারত না। ৫৩

তারপর রঘুনাথ পথে অগস্ত্যের সঙ্গে মিলিত হলেন, মনে হল শশাঙ্কের সঙ্গে শরৎকালের মিলন হল। ৫৪

কুম্ভযোনি আগস্ত্যকে পূর্বে পীত ( এবং পরে নির্গলিত) সমুদ্র আত্মমোচনের মূল্যস্বরূপ যে দিব্য অলঙ্কার দিয়েছিলেন তিনি তা রামকে প্রদান করলেন। ৫৫

সীতার কণ্ঠধারণে বঞ্চিত বাহুতে সেই অলঙ্কার ধারণ করে রাম ফিরলেন, তার আগেই ব্রাহ্মণের মৃতপুত্র যমালয় থেকে ফিরে এসেছিল। ৫৬

তখন পুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে ব্রাহ্মণ যমের গ্রাস থেকেও পুত্রত্রাণে সমর্থ রামকে তিনি আগে যে নিন্দা করেছিলেন, নানাভাবে স্তুতি করে তা সংশোধন করতে লাগলেন। ৫৭  ”

[ মহাকবি কালিদাস বিরচিতম্ রঘুবংশম্ সম্পূর্ণম ( অন্বয়- বঙ্গানুবাদ-মল্লীনাথ টীকা সমৃদ্ধম্)/ ১৫ সর্গ ; সম্পাদকঃ শ্রী অশোককুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ;  সদেশ প্রকাশন] [1]

শম্বুক হত্যা
রঘুবংশ ১
শম্বুক হত্যা
রঘুবংশ ২
শম্বুক হত্যা
রঘুবংশ ৩


শম্বুক হত্যা
রঘুবংশ ৪

কবি কালিদাস মোটামুটি ৪০০-৫০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী ছিলেন। কালিদাসের শম্বুক বধের বিবরণ শুনে একদমই মনে হয়না  তিনি রামের তপস্যা করার অপরাধে শূদ্র শম্বুককে হত্যাকে খারাপ চোখে দেখতেন। রামায়ণের মতোই কালিদাসের কাব্যেও শূদ্র শম্বুকের তপস্যার মত ‘অনাচার’ এর ফলে ব্রাহ্মণের পুত্র মৃত্যুবরণ করেছিল। বাল্মীকির রামের মত কালিদাসের রামেরও মনে হয়েছিল – শূদ্রের তপস্যা করার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও তপস্যা করে সে অনর্থ বয়ে এনেছে। তাই কালিদাসের রামের মনে হল শূদ্রের শিরোচ্ছেদ করাই তার কর্তব্য। কালিদাসের মতে শম্বুকের তপস্যা ‘ দুশ্চর হলেও অনধিকার দোষে দুষ্ট হওয়ায় তা দিয়ে সে এই সদ্গতি লাভ করতে পারত না’ ।

ভবভূতির উত্তররামচরিত

খ্রিষ্টীয় ৮ম শতাব্দীর নাট্যকার ভবভূতিকে সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যে মহাকবি কালিদাসের মতই শ্রদ্ধা করা হয়ে থাকে। তার লেখা ‘উত্তররাম চরিত’ নাটককে তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি বলা যায়। কালিদাসের ‘রঘুবংশম’ এর মতোই রামায়ণ অবলম্বন করে ভবভূতি তার এই নাটকটি লেখেন। তার এই নাটকেও রামের শূদ্র শম্বুক হত্যার ঘটনাটি মেলে। উল্লেখ্য, ভবভূতি রামের এই কাজটিকে বিরূপ দৃষ্টিতে দেখেননি। ভবভূতি তার নাটকে রামায়ণের চাইতেও নির্মম প্রহসন করেছেন। ভবভূতির বিবরণে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবালকের প্রাণ বাঁচাতে রাম শূদ্র শম্বুককে খুঁজে হত্যা করেন।এরপর নিহত শূদ্র শম্বুক এক দিব্যদেহ ধারণ করে রামের সামনে উপস্থিত হয় এবং রামের এই কাজে খুশি হয়ে সে প্রশংসা করতে থাকে। ভবভূতির এই নির্মম প্রহসন বাদ দিলে বলা যায়,  ভবভূতি রামায়ণের রচয়িতার চাইতে নিঃসন্দেহে অধিক মানবিক ছিলেন।  কারণ রামায়ণের রচনাকার যেখানে বর্ণনা করেছেন, রাম শূদ্র শম্বুককে হত্যা করায় তার আর স্বর্গলাভ হয়নি, সেখানে ভবভূতির রামের হস্তে নিহত শম্ভুক সদ্গতি লাভ করেছিল।


যাইহোক, ভবভূতির উত্তররামচরিতে রামের শূদ্র শম্বুক হত্যা সম্বন্ধে ঠিক কি আছে তা আপনারা নিজেরা পড়ে দেখুন। প্রায় সম্পূর্ণ অংশই সকলের জন্য তুলে ধরা হল-


আত্রেয়ী- ইত্যবসরে এক ব্রাহ্মণ তার মৃত পুত্রকে রাজদ্বারে রেখে বক্ষে আঘাত করে অমঙ্গল ঘোষণা করলেন। তারপর, রাজার অপরাধ ছাড়া প্রজাদের অকাল মৃত্যু সম্ভব নয়- এই ভেবে করুণাময় রামচন্দ্র নিজেকে অপরাধী বলে স্থির করলেন। সহসাই শোনা গেল এক আকাশবানী- “ শম্বুক নামে এক শূদ্র পৃথিবীতে তপস্যা করছে। হে রাম! তোমাকে তার শিরচ্ছেদ করতে হবে, তাকে হত্যা করে ব্রাহ্মণকে জীবিত কর।।“ ৮ ।।

একথা শুনেই জগৎপতি (রামচন্দ্র) উন্মুক্ত তরবারি হাতে নিয়ে পুষ্পকরথে আরোহণ করে সমস্ত দিগ্বিদিকে শূদ্র তপস্বীর সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।

বাসন্তী- শম্বুক নামে অধোমুখ ধূমপায়ী এক শূদ্র এই জনস্থানেই তপস্যা করছে। নিশ্চয়ই রামচন্দ্র আবার এই অরণ্য অলংকৃত করবেন।

আত্রেয়ী- ভদ্রে, এখন যাই।

বাসন্তী- আর্যে আত্রেয়ী! তাই হোক অনেক বেলা হল।

গাত্রকম্ডূয়ন নিবৃত্ত করতে গিয়ে হাতিদের গণ্ডের আঘাতে কম্পিত গাছগুলির শিথিলবন্ধ ও স্খলিত কুসুমের দ্বারা গাছেরা যেন গোদাবরীর অর্চনা করছে। তাদের ছায়ায় থাকা পাখিরা চঞ্চুর আঘাতে গাছের ত্বক থেকে কীটগুলি বার করে নিয়েছে। তীরস্থিত বৃক্ষশাখায় পাখীর নীড় নির্মিত, সেখানে শোনা যাচ্ছে ক্লান্ত কপোত ও কুক্কুটের কূজন।। ৯।।

(পরিক্রমণের পর উভয়ের প্রস্থান)

*শুদ্ধ বিষ্কম্ভক*

(অসি হস্তে সদয় রামচন্দ্রের প্রবেশ)

রাম- হে দক্ষিণ হস্ত! মৃত ব্রাহ্মণপুত্রের পুনর্জীবনের জন্য শূদ্র তপস্বীর উপর এই কৃপাণ আঘাত কর। তুমি রামের বাহু, তুমি গর্ভভারক্লিষ্টা সীতার নির্বাসনে পটু। তোমার করুণা কোথায়? ।। ১০ ।।


(যথেছ আঘাত করে) রামের উপযুক্ত কাজ করা হয়েছে। সেই ব্রাহ্মণপুত্র কি জীবিত হবে?

(দিব্যপুরুষের প্রবেশ)

দিব্যপুরুষ- মহারাজের জয় হোক।

যমের বিরুদ্ধে আপনি অভয় দান করে আমার উপর দণ্ডবিধান করায় সেই ব্রাহ্মণশিশু জীবিত হয়েছে এবং আমারও এই গৌরব অর্জিত হয়েছে। এই শম্বুক অবনত মস্তকে আপনার চরণে প্রণত হচ্ছে। সজ্জনদের সংস্পরশে মৃত্যুতেও মুক্তিলাভ হয় ।। ১১ ।।

রাম- দুইই আমার প্রিয়। সুতরাং তুমি উগ্র তপস্যার সুফল ভোগ কর। সেখানে সুখ ও আনন্দ, পুণ্য ও সমৃদ্ধি বিরাজমান, বৈরাজ নামক সেই সকল উজ্জ্বল ও কল্যাণকর লোকে তোমার গতি হোক।। ১২ ।।

শম্বুক- প্রভো,  আপনার অনুগ্রহেই (আমার) এই গৌরব। এখানে তপস্যার কি প্রয়োজন? অথবা তপস্যাই মহান উপকার করেছে-

আপনি ভূতনাথ ও সকলের শরণ্য, তাই জগতে (সকলে) আপনাকে অণ্বেষণ করে। আপনি যে আমার মত এক শূদ্রকে অণ্বেষণ করতে করতে শত শত যোজন পথ অতিক্রম করে এখানে উপস্থিত হয়েছেন, সে তো আমার তপস্যার ফল। তা না হলে আপনি অযোধ্যা থেকে আবার দণ্ডকারণ্যে উপস্থিত হবেন কেন? ।।১৩।। “

[ উত্তররামচরিত/ দ্বিতীয় অঙ্ক ; সম্পাদকঃ  ডঃ সীতানাথ আচার্য শাস্ত্রী এবং ডঃ দেবকুমার দাস ; প্রকাশকঃ দেবাশিষ ভট্টাচার্য ; সংস্কৃত পুস্তক ভাণ্ডার ]
শম্বুক হত্যা
উত্তররামচরিত ১
শম্বুক হত্যা
উত্তররামচিরত ২

সুতরাং আমরা দেখতে পেলাম প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যিকেরা বর্তমান অর্বাচীনদের দলের মত রামের শূদ্রহত্যাকে প্রক্ষিপ্ত বলে চেঁচাতেন না বরং তারা এসব অবলম্বন করে তাদের সাহিত্যও রচনা করেছিলেন। তবে অনেকে আজ নিজেদের হিন্দু হিসাবে দাবী করা সত্ত্বেও হিন্দু ধর্মের প্রাচীন কুরীতিগুলোকে আর নিজেদের বলে গ্রহণ করতে চান না, ধূলোর মতোই ঝেড়ে দূর করতে চান; তারা নিঃসন্দেহে তাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের চাইতে অনেক বেশি মানবিক। তাদের পূর্বপুরুষেরা যে অপকর্মগুলোকে নির্দ্বিধায় ভালো বলে সেসবের সমর্থন করতেন, তারা আজ  আর সেসবকে ভালো বলে সমর্থন করতে পারেন না।  মানসিকতার এই যে পরিবর্তন, তা এসেছে আধুনিক শিক্ষার মাধ্যমে এবং শিক্ষিতদের সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে।  

আরও পড়ুনঃ

১) রাম কর্তৃক নিরপরাধ শূদ্র শম্বুকের হত্যা

২) রামের শূদ্র শম্বুক হত্যা নিয়ে আপনি অবাক কেন হচ্ছেন?

তথ্যসূত্রঃ
  1. শম্বুক বধ, রঘুবংশ, মূল  সংস্কৃত-

    অথ জানপদো বিপ্রঃ শিশুমপ্রাপ্তয়ৌবনম্ |
    অবতার্যাঙ্ক-শয়্যাস্থং দ্বারি চক্রন্দ ভূপতেঃ|| ১৫-৪২||
    শোচনীয়াসি বসুধে যা ত্বং দশরথাচ্চ্যুতা |
    রামহস্তমনুপ্রাপ্য কষ্টাৎ কষ্টতরং গতা|| ১৫-৪৩||
    শ্রুত্বা তস্য শুচো হেতুং গোপ্তা জিহ্রায় রাঘবঃ |
    ন হ্যকালভবো মৃত্যুরিক্ষ্বাকু-পদমস্পৃশৎ|| ১৫-৪৪||
    স মুহূর্তং ক্ষমস্বেতি দ্বিজমাশ্বাস্য দুঃখিতম্ |
    যানং সস্মার কৌবেরং বৈবস্বতজিগীষয়া|| ১৫-৪৫||
    আত্ত-শস্ত্রস্তদধ্যাস্য প্রস্থিতঃ স রঘূদ্বহঃ |
    উচ্চচার পুরস্তষ্য গূঢরূপা সরস্বতী|| ১৫-৪৬||
    রাজন্ প্রজাসু তে কশ্চি দপচারঃ প্রবর্ততে |
    তমন্বিষ্য প্রশময়ের্ভবিতাসি ততঃ কৃতী|| ১৫-৪৭||
    ইত্যাপ্তবচনাদ্রামো বিনেষ্যন্বর্ণবিক্রিয়াম্ |
    দিশঃ পপাত পত্রেণ বেগনিষ্কম্পকেতুনা|| ১৫-৪৮||
    অথ ধূমাভিতাম্রাক্ষং বৃক্ষশাখাবলম্বিনম্ |
    দদর্শ কঞ্চিদৈক্ষ্বাকস্তপস্যন্তমধোমুখম্|| ১৫-৪৯||
    পৃষ্টনামান্বয়ো রাজ্ঞা স কিলাচষ্ট ধূমপঃ |
    আত্মানং শম্বুকং নাম শূদ্রং সুরপদার্থিনম্|| ১৫-৫০||
    তপস্যনধিকারত্বাৎপ্রজানাং তমঘাবহম্ |
    শীর্ষচ্ছেদ্যং পরিচ্ছিদ্য নিয়ন্তা শস্ত্রমাদদে|| ১৫-৫১||
    স তদ্বক্ত্রং হিমক্লিষ্টকিঞ্জল্কমিব পঙ্কজম্ |
    জ্যোতিষ্কণাহতশ্মশ্রু কণ্ঠনালাদপাতয়ৎ|| ১৫-৫২||
    কৃতদণ্ডঃ স্বয়ং রাজ্ঞা লেভে শূদ্রঃ সতাং গতিম্ |
    তপসা দুশ্চরেণাপি ন স্বমার্গবিলঙ্ঘিনা|| ১৫-৫৩||
    রঘুনাথোঽপ্যগস্ত্যেন মার্গসংদর্শিতাত্মনা |
    মহৌজসা সংযুযুজে শরৎকাল ইবেন্দুনা|| ১৫-৫৪||
    কুম্ভযোনিরলঙ্কারং তস্মৈ দিব্য-পরিগ্রহম্ |
    দদৌ দত্তং সমুদ্রেণ পীতেনেবাত্মনিষ্ক্রয়ম্|| ১৫-৫৫||
    স দধন্মৈথিলীকণ্ঠনির্ব্যাপারেণ বাহুনা |
    পশ্চান্নিববৃতে রামঃ প্রাক্পরাসুর্দ্বিজাত্মজঃ || ১৫-৫৬||
    তস্য পূর্বোদিতাং নিন্দাং দ্বিজঃ পুত্রসমাগতঃ |
    স্তুৎবা নিবর্তয়ামাস ত্রাতুর্বৈবস্বতাদপি|| ১৫-৫৭||

    english translation-

    42. Then a certain brahmana a resident of a village who carried in his arms a dead infant child , and who took it down on his lap at the gate of the palace, began to lament.

    43. ” O earth, your state is deplorable . Deprived of the benign rule of Dasaratha you have passed into the hands of Rama and have thereby reached a condition which is most miserable .”

    44. Raghava , the protector hearing the cause of his lamentation became ashamed , for untimely death did never touch the kingdom of the descendants of Ikshvaksu.

    45. Consoling the bereaved Brahmana with the words ” have patience for a moment.” he thought of the vehicle of kubera with a desire of conquering the son of Vivasvat (i.e the god of death) .

    46. That eminent descendant of raghu took his seat in the car and being armed set out . There arose (was heard) before him the words of the goddess of speech with her form concealed (i.e. there arose an arial speech before him)

    47. ” O king, a certain evil practice (i.e. some transgression of the rules of caste) is set on foot among your subjects , search it out and put a stop to it, and then you shall gain your object. ”

    48. Being assured in words on which he could rely he travelled long distances in different quaters in his car , the flag of which stood motionless on account of its speed , in order to restrain (put a stop to) the improper conduct on the part of a member of a caste.

    49. then the descendant of Iksvaku found a certain person practising asceticism , with his head downwards and hanging from a branch of a tree , his eyes made red with the smoke of fire.

    50. And being asked by the king his name and lineage , that smoke breathing (drinking) person declared himself to be a Sudra by name Shambuka who was wishing to secure the position of a god.

    51. The king (ruler) knowing that he deserved to be beheaded being the cause of calamity to the people as he had no right to practice asceticism , took up his weapon .

    52. He caused his head with beard signed by sparks of fire which therefore resembled a lotus with its filaments destroyed by the frost , to be separated from his stalk-like-throat.

    53. The shudra by the punishment inflicted upon him by the king himself , obtained the position of the virtuous , a position which he could not secure even by his austerity , being as it was in violation of the rules of caste.

    56. The dead child of the Brahmana had returned (restored) to life before rama returned to his capital bearing the ornament on his arm which had ceased entertwine round the neck of Maithili.

    57. The brahmana who was reunited to his son undid the censure which he had first passed , by bestowing praises upon him who was a protector even from the god of death.

    [ THE RAGHUVAMSA OF KALIDASA | Translated by Gopal Raghunath Nandargikar |Publication: Motilal Banarsidass ]

    []

অজিত কেশকম্বলী II

"মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।"

2 thoughts on “সংস্কৃত সাহিত্যিকদের চোখে রামের শূদ্র শম্বুক হত্যা

  • August 5, 2020 at 11:40 AM
    Permalink

    দাদা।বাল্মিকির মুল রামায়ন থেকে উদ্ধৃতি করুন।সংস্কৃত শ্লোকটি।

    Reply
    • August 5, 2020 at 3:58 PM
      Permalink

      ওই বিষয়ে অন্য লেখা আছে। আপনি কি সংস্কৃত বোঝেন? বুঝলে, রেফারেন্স অনুযায়ী বাল্মীকি রামায়ণে সংস্কৃত শ্লোক পাবেন। আর যদি না বোঝেন, তাহলে সংস্কৃত উদ্ধৃতি দিয়ে কি হবে?

      অধিকাংশ লোকই সংস্কৃত বোঝেনা। আর বড় লেখায় সাধারণত সংস্কৃত শ্লোক দিয়ে তা আরো বড় করা সম্ভব হয়না।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *