fbpx

আবূ লাহাবের পূর্ব নির্ধারিত অপরাধসমূহ

ভূমিকা

ছোটবেলা আমাদের এলাকার মসজিদে আরবি পড়তে যেতাম। বয়স কম ছিল, তাই কিছুই না বুঝে আরবি উচ্চারণ মুখস্ত করাকেই মনে করতাম খুব পড়ালেখা হয়েছে। সেইসময় এলাকার হুজুরের কাছে প্রথম সূরা লাহাব মুখস্ত করি। তখন আসলে জানতামই না, এই সূরায় কী বলা হচ্ছে। অর্থ না বুঝে ছন্দে ছন্দে কবিতার মত মুখস্ত করতাম, আর নামাজের সময়ও পড়তাম। নামাজের সময় তো বটেই, যেকোন মিলাদ কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বসে এই সূরাটিও অন্যান্য সূরার মত করেই পড়তাম। জোরে জোরে ছন্দে ছন্দে সুরে সুরে উচ্চারণ করতাম,

তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিউ ওয়াতাব্ব।
মা আগনা আ’নহুমালুহু ওয়ামা কাসাব।
সাইয়াসলা নারান যাতালাহাব।
ওয়ামরা আতুহু হাম্মা লাতাল হাতাব।
ফি যিদিহা হাবলুম্মিম মাসাদ।

কিন্তু আসলে কী বলা হয়েছে এই সূরায়? এর অর্থ কী? যেহেতু আরবি বুঝতাম না, এর অর্থও বুঝতাম না। একটু বড় হওয়ার পরে কোরআনের বাঙলা অনুবাদের বইটি খুলে বসলাম। সেখানে কী লেখা, দেখে আমার রীতিমত চক্ষু চড়কগাছ! এর অর্থ হচ্ছে,

আবূ লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক
এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,
কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ
ও যা সে উপার্জন করেছে।
সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে,
তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।

প্রথমবার বাঙলা অনুবাদ পড়ার সময়ই মনে হলো, এ তো নিতান্তই আবূ লাহাব নামক একজন লোককে গালাগালি এবং অভিশাপ দেয়া সূরা। কিন্তু কে ছিল এই আবূ লাহাব? মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতার উৎস খোদ আল্লাহ পাক কেন এইরকম একজন তুচ্ছ সামান্য লোককে গালাগালি করছে? আমি তো হতবাক! যেই আল্লাহ হও বলেন আর সব হয়ে যায়, সেই আল্লাহ কীভাবে একজন তুচ্ছ সামান্য লোককে অভিশাপ গালাগালি দিতে পারে? তার অকল্যান কামনা করতে পারে? এবং একজন নশ্বর মানুষকে দেয়া অভিশাপের এই সূরাটি কীভাবে যুগ যুগান্ত ধরে মুসলিমরা পাঠ করে? প্রতিদিন নামাজের সাথে বহুযুগ আগে মৃত আবূ লাহাবের ধ্বংস কামনার ফজিলত কী?

আমাদের এলাকায় এক লুলা পাগলা ছিল। সারাদিন মাটি খেতো। এলাকার ছেলেপেলে তাকে খুবই বিরক্ত করতো। কেউ ঢিল মারতো, কেউ বা চড় মেরে দৌড় দিতো। কেউ ঢিল ছুড়লে বা মারলে যখন সে শক্তিতে কুলিয়ে উঠতো না, মানে সে যখন পাল্টা আর কিছু করতে পারতো না, তখন সবাইকে অভিশাপ দিতো। বলতো তোর কুষ্ঠ হবে, তোর পোলা পানিতে ঢুবে মরবে, তোর বউ আগুনে জ্বলবে। তার সমস্যাটি বুঝি। সে যখন অভিশাপ দিতো, তখন তা বোধগম্য হতো এই কারণে যে, তার আর কিছু করার নেই। পাল্টা চড় ঘুষি মারতে পারলে সেও হয়তো দিতো, কিন্তু সে শারীরিকভাবে এত শক্তিশালী ছিল না। মানুষের মানসিকতা এরকমই যে, সে পাল্টা কিছু যতক্ষণ করতে পারে, ততক্ষণ প্রতিরোধ করে। কিন্তু নিজেকে ক্ষমতাহীন মনে হওয়া মাত্রই তার মুখ থেকে অভিশাপ আর লানত বের হওয়া শুরু হয়। পরিবার নিয়ে গালাগালি আর তোর এইটা হবে সেইটা হবে, এরকম ভয় দেখানোর চেষতা সে স্বতস্ফূর্তভাবেই করতে শুরু করে।

নবী মুহাম্মদও যখন আবূ লাহাবের কাছে অসহায় বোধ করছিল, কিছুই করার ক্ষমতা তার ছিল না, জিহাদ করে আবূ লাহাবের গর্দান উড়াইয়া দেয়ার মত সক্ষমতা যেহেতু তখনো সে অর্জন করে নি, তাই আল্লাহও ঠিক একজন রক্তমাংশের মানুষের মতই আরেকজন রক্তমাংশের মানুষকে অভিশাপ দিয়েছেন, ঘৃণা করেছেন। বউ টউ তুলে শাপ শাপান্ত করেছেন। আল্লাহ পাকের মত সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একজন কীভাবে একজন সামান্য রক্তমাংশের মানুষকে অভিশাপ দেন, অভিশাপ দেয়ার পরেও সেই ব্যক্তি অক্ষত থাকেন, ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত।

যেহেতু ছোট ছিলাম, নিজেকে নিজেই বোঝালাম, আমার এখনো এত জ্ঞান হয় নি। কোরআন বোঝার জন্য অনেক জ্ঞান লাগে। হয়তো এর মধ্যেই এমন এক বিষয় আছে, যা আমি বুঝতে পারছি না। বড় হলে বুঝবো। কিন্তু মনের মধ্যে খচখচ করতো। কেন আল্লাহ পাকের মত একটি মহান সত্ত্বা সামান্য একজন মানুষকে এভাবে গালাগাল দিবে? যখন কোরআন এবং হাদিস, সেই সাথে সিরাত, তাফসীরগুলো খুব মন দিয়ে পড়তে শুরু করি, তখন তাই এই সূরাটি ছিল আমার অন্যতম আকর্ষণের বিষয়।

কে ছিল আবূ লাহাব?

আবূ লাহাব এর আসল নাম আবদ আল উজ্জা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম। অর্থাৎ ইবনে হিশামের পুত্র আবদুল মুত্তালিবের পুত্র আবদ আল উজ্জা। অর্থাৎ তিনি ছিলেন হযরত মুহাম্মদের আপন চাচা। জন্মের সময় তার রক্তবর্ণ গাল ও সুন্দর মুখয়বয়ব দেখে তার বাবা তার নাম দিয়েছিলেন আবূ লাহাব বা অগ্নিস্ফুলিঙ্গের বাবা।

হযরত মুহাম্মদের জন্মের সময় থেকেই চাচা আবূ লাহাবের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। জানা যায়, হযরত মুহাম্মদের জন্মের সময় শিশু মুহাম্মদ তার আঙ্গুল ধরায় খুশী হয়ে আবূ লাহাব তার ক্রিতদাসী সুওয়ায়বাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন, যেন সুওয়ায়বা মুহাম্মদকে তার দুধ পান করাতে পারে। সুওয়ায়বা ছিলেন নবী মুহাম্মদের দুধ মা।

On the day the Prophet (peace be upon him) was born, Thuwayba rushed to her master Abu Lahab in joy and said, “Have you heard?!  Aminah has just given birth to a son, for your brother Abdullah!” As was the custom of Arabs to show generosity at receiving good news, and since this was the newborn son (peace be upon him) of his recently deceased brother, Abu Lahab gestured with his thumb and forefinger, saying to Thuwayba, “Go, for you are free.”  For this, his punishment in the Hereafter is lessened by a small sip of water equal to what could be held in the small curve of flesh at the base of the thumb till the forefinger [‘Abdur-Razzaq, Mussanaf].

সুওয়ায়বা সম্পর্কে সহি হাদিসটিও জেনে নিইঃ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৯/ ভরণ-পোষণ
পরিচ্ছেদঃ ৬৯/১৬. দাসী ও অন্যান্য নারী কর্তৃক দুধ পান করানো।
৫৩৭২. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোন আবূ সুফিয়ানের মেয়েকে আপনি বিয়ে করুন। তিনি বললেনঃ তুমি কি তা পছন্দ কর? আমি বললাম, হাঁ। আমি তো আর আপনার অধীনে একা নই। যারা আমার সঙ্গে কল্যাণের অংশীদার, আমার বোনও তাদের অন্তর্ভুক্ত হোক, তাই আমি অধিক পছন্দ করি। তিনি বললেনঃ কিন্তু সে তো আমার জন্য হালাল হবে না। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, আপনি নাকি উম্মু সালামাহর মেয়ে দুর্রাকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছেন? তিনি বললেনঃ উম্মু সালামাহর মেয়েকে? আমি বললামঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! সে যদি আমার কোলে পালিত, পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত উম্মে সালামাহর গর্ভের সন্তান নাও-হতো, তবু সে আমার জন্য বৈধ ছিল না। সে তো আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা। সুওয়ায়বা আমাকে ও আবূ সালামাহ্কে দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং তোমাদের কন্যা ও বোনদের আমার সামনে পেশ করো না।[1]
শু‘আইব যুহরী হতে বর্ণনা করেছেন যে, ‘উরওয়াহ বলেছেনঃ সুওয়ায়বাকে আবূ লাহাব আযাদ করে দিয়েছিল। [৫১০১] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৮)
[1] রক্ত সম্পর্ক যাকে হারাম করে, দুধ সম্পর্কও তাকে হারাম করে। রক্ত সম্পর্কিত বোন, কন্যা, ভাইঝি, ভাগনী ইত্যাদিকে যেমন বিয়ে করা হারাম, তেমনি দুধ সম্পর্কিত বোন, কন্যা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে ইত্যাদিকেও বিয়ে করা হারাম। রেজায়াত বা দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হবার জন্য দু’টি শর্ত রয়েছে। তা হলঃ ১। সময়সীমাঃ দুধ পানকারীর বয়স দু বছরের কম হতে হবে। ২। একবার হলেও ক্ষুধা নিবারণ করে দুধ পান করা সাব্যস্ত হতে হবে যা হাদীসের ভাষায় দুয়ের অধিক পাঁচবার পর্যন্ত পান করার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ সহ অনেকেই বর্ণনা করেছেন। ফিকহুস সুন্নাহ ২য় খন্ড, ১০৬-১০৭ পৃষ্ঠা।)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু হাবীবা (রাঃ)

আরেকটি হাদিস দেখে নিইঃ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়ে
পরিচ্ছেদঃ ৬৭/২১. আল্লাহ্ বলেন,),‘‘তোমাদের জন্য দুধমাকে বিয়ে) হারাম করা হয়েছে।’’সূরাহ আন্-নিসা ৪/২৩)
৫১০১. উম্মু হাবীবাহ বিনতে আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বোন আবূ সুফিয়ানের কন্যাকে বিয়ে করুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ কর? তিনি উত্তর করলেন, হাঁ। এখন তো আমি আপনার একক স্ত্রী নই এবং আমি চাই যে, আমার বোনও আমার সঙ্গে উত্তম কাজে অংশীদার হোক। তখন নাবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামউত্তর দিলেন, এটা আমার জন্য হালাল নয়। আমি বললাম, আমরা শুনতে পেলাম, আপনি নাকি আবূ সালামাহর মেয়েকে বিয়ে করতে চান। তিনি বললেন, তুমি বলতে চাচ্ছ যে, আমি উম্মু সালামাহর মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যদি সে আমার প্রতিপালিতা কন্যা না হত, তাহলেও তাকে বিয়ে করা হালাল হত না।
কেননা, সে দুধ সম্পর্কের দিক দিয়ে আমার ভাতিজী। কেননা, আমাকে এবং আবূ সালামাহ্কে সুওয়াইবা দুধ পান করিয়েছে। সুতরাং, তোমরা তোমাদের কন্যা ও বোনদেরকে বিয়ের জন্য পেশ করো না। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, সুওয়াইবা ছিল আবূ লাহাবের দাসী এবং সে তাকে আযাদ করে দিয়েছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুধ পান করায়। আবূ লাহাব যখন মারা গেল, তার একজন আত্মীয় তাকে স্বপ্নে দেখল যে, সে ভীষণ কষ্টের মধ্যে নিপতিত আছে। তাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে। আবূ লাহাব বলল, যখন থেকে তোমাদের হতে দূরে আছি, তখন থেকেই ভীষণ কষ্টে আছি। কিন্তু সুওয়াইবাকে আযাদ করার কারণে কিছু পানি পান করতে পারছি। [৫১০৬, ৫১০৭, ৫১২৩, ৫৩৭২; মুসলিম ১৭/৪, হাঃ ১৪৪৯, আহমাদ ২৭৪৮২](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৩০)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু হাবীবা (রাঃ)

কিন্তু নবুয়াত প্রকাশ করার পর থেকেই তিনি নবীজীর বিরূদ্ধে চলে যান। সাফা পাহাড়ের উপর থেকে নবী মুহাম্মদ যখন সমবেত লোকজনকে এক আল্লাহর ইবাদত করার আহবান জানিয়েছিলেন তখন সেখানে আবূ লাহাব তাকে সবার আগে তিরস্কার ও ভৎসনা করেছিলেন। মুহাম্মদের ধ্বংস কামনা করেছিলেন। পাল্টাপাল্টি মুহাম্মদের কাছেও তাৎক্ষনিক ভাবে আল্লাহ পাল্টা আবূ লাহাবের ধ্বংস কামনা করে সূরা নাজিল করে দেন। তার স্ত্রী উম্মে জামিল নবী মুহাম্মদের চলার পথে কাটা বিছিয়ে রাখতেন। পরবর্তীতে অবতীর্ণ সূরা লাহাবে তার ও স্ত্রীর দুর্ব্যবহারের জন্য তাদের দুইজনকেই আল্লাহ পাক রীতিমত গালাগালি করেন। বিষয়টি জানা যায় এই হাদিসটি থেকেঃ

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৫২/ তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ “তোমার নিকটের আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও এবং (মু’মিনদের প্রতি) বিনয়ী হও। (اخفض جناحك ) “তোমার পার্শ্ব নম্র রাখ।”
৪৪০৮। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ অবতীর্ণ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা (পর্বতে) আরোহণ করলেন এবং ডাকতে লাগলেন, হে বনী ফিহর! হে বনী আদী! কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে। অবশেষে তারা একত্রিত হল। যে নিজে আসতে পারল না, সে তার প্রতিনিধি পাঠাল, যাতে দেখতে পায়, ব্যাপার কী? সেখানে আবূ লাহাব ও কুরাইশগণও আসল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শক্রসৈন্য উপত্যকায় এসে পড়েছে, তারা তোমাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করতে উদ্যত, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল, হাঁ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্য পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সম্মুখে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছি।” আবূ লাহাব (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) বলল, সারাদিন তোমার উপর ধ্বংস আসুক! এজন্যই কি তুমি আমাদের একত্র করেছ? তখন নাযিল হয়, “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দু-হস্ত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সস্পদ ও তার উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি।”
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)

আবূ লাহাবের ভাগ্য কী পূর্ব নির্ধারিত?

এই আলোচনায় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আবূ লাহাব কী নিজ কর্মের দ্বারা মুহাম্মদের বিরোধিতায় লিপ্ত ছিলেন, নাকি তিনি যে এই কাজ করবেন তা আগে থেকেই নির্ধারিত? এখানে বিবেচ্য বিষয়টি হচ্ছে, আল্লাহ পাক কোন প্রেক্ষাপটে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই সূরাটি লিখলেন? নাকি আল্লাহ পাক আগে থেকেই সূরাটি লিখে রেখেছিলেন, মুহাম্মদের সাথে আবূ লাহাবের শত্রুতার সময় তিনি সূরাটি নাজিল করে দেন? এই বিষয়ে একটি সহিহ হাদিস পড়ে নিইঃ

গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৫/ তাকদীর
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ নাই।
২১৫৮. ইয়াহইয়া ইবন মূসা (রহঃ) ….. আবদুল ওয়াহিদ ইবন সালিম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মক্কায় এলাম। সেখানে আতা ইবন আবূ রাবাহ (রহঃ) এর সঙ্গে দেখা করলাম। তাঁকে বললামঃ হে আবূ মুহাম্মদ, বাসরাবাসরীরা তো তাকদীরের অস্বীকৃতিমূলক কথা বলে। তিনি বললেনঃ প্রিয় বৎস, তুমি কি কুরআন তিলাওয়াত কর? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সূরা আয-যুখরুখ তিলাওয়াত কর তো। আমি তিলাওয়াত করলামঃ
হা-মীম, কসম সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তা অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় কুরআন রূপে, যাতে তোমরা বুঝতে পার। তা রয়েছে আমার কাছে উম্মূল কিতাবে, এ তো মহান, জ্ঞান গর্ভ (৪৩ঃ ১, ২, ৩, ৪)।
তিনি বললেনঃ উম্মূল কিতাব কি তা জান? আমি বললামঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এ হল একটি মহাগ্রন্থ, আকাশ সৃষ্টিরও পূর্বে এবং যমীন সৃষ্টিরও পূর্বে আল্লাহ তাআলা তা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এতে আছে ফির‘আওন জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত, এতে আছে তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবীও ওয়া তাব্বা ‏(‏تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ‏) আবূ লাহাবের দুটি হাত ধ্বংস হয়েছে আর ধ্বংস হয়েছে সে নিজেও।
আতা (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যতম সাহাবী উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পুত্র ওয়ালীদ (রহঃ)-এর সঙ্গে আমি সাক্ষাত করেছিলাম। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলামঃ মৃত্যুর সময় তোমার পিতা কি ওয়াসীয়ত করেছিলেন?
তিনি বললেনঃ তিনি আমাকে কাছে ডাকলেন। বললেনঃ হে প্রিয় বৎস, আল্লাহকে ভয় করবে। যেনে রাখবে যতক্ষণ না আল্লাহর উপর ঈমান আনবে এবং তাকদীরের সব কিছুর ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনবে ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি কখনো আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারবে না। তা ছাড়া অন্য কোন অবস্থায় যদি তোমার মৃত্যু হয় তবে জাহান্নামে দাখেল হতে হবে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা সর্ব প্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। এরপর একে নির্দেশ দিলেন, লিখ, সে বললঃ কি লিখব? তিনি বললেনঃ যা হয়েছে এবং অনন্ত কাল পর্যন্ত যা হবে সব তাকদীর লিখ। সহীহ, সহিহহ ১৩৩, তাখরিজুত তহাবিয়া ২৩২, মিশকাত ৯৪, আযযিলাল ১০২, ১০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২১৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
(আবূ ঈসা বলেন) এ হাদীসটি এ সূত্রে গারীব।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

তাকদীর বিষয়ক হাদিস তিরমীজী শরিফ
আবূ লাহাবের তাকদীর পুর্ব নির্ধারিত

এই হাদিসটি পাবেন সুনান আত-তিরমিযী ( চতুর্থ খণ্ড ) হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশনী পৃষ্ঠা ২৫০,২৫২ তে। এই হাদিসটি থেকে জানা গেল, আবূ লাহাব যে এমনটিই করবেন, তা সৃষ্টির শুরুতেই আল্লাহ লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছিলেন। অর্থাৎ এই পুরো বিষয়টিই আল্লাহর পুর্ব নির্ধারিত বিষয়। প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত বিষয়ের কারনে আবূ লাহাব কি জান্নাতবাসী হবেন নাকি জাহান্নামী হবেন? যেই বিষয়টি আল্লাহ আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন, তা বদলে ফেলা কী সামান্য একজন মানুষ আবূ লাহাবের পক্ষে সম্ভব ছিল? আবূ লাহাব যদি সেইদিন সিদ্ধান্ত বদলে মুসলিম হয়ে যেতেন, তাহলে আল্লাহ কী তার পূর্ব থেকেই লিখিত সূরাটি নিয়ে বিপদে পড়তেন না? তার লিখে রাখা তাকদীর মিথ্যা হয়ে যেতো না? তাছাড়া মুহাম্মদ নিজেই বলেছেন, আল্লাহ জান্নাতবাসী এবং জাহান্নামবাসী করেই মানুষকে সৃষ্টি করেন, এরপরে যাদেরকে জান্নাতের জন্য বানিয়েছেন তাদের দিয়ে জান্নাতিদের কাজ করান, আর যাদের জাহান্নামি করে বানিয়েছেন তাদের দিয়ে জাহান্নামিদের কাজ করিয়ে নেন। তাহলে, আবূ লাহাবকে যদি শুরু থেকেই জাহান্নামি করে সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, এখানে আবূ লাহাবের অপরাধ কোথায়? সেই সাথে, নবী মুহাম্মদকে আল্লাহ শুরু থেকেই নবী হিসেবে মনোনীত করে করে রেখেছিলেন। অর্থাৎ, নবী মুহাম্মদ যে নবী হবেন, সেটিও ছিল পূর্ব নির্ধারিত। মুহাম্মদ তার কাজের দ্বারা বা ভাল কাজের ফলাফল হিসেবে নবী নির্বাচিত হন নি। তাহলে, আবূ লাহাবকে যদি আল্লাহ জন্মের সময়ই নবী মনোনীত করতেন, সেই অনুসারে তাকে ওহী পাঠাতেন, তাহলে আবূ লাহাবও তো জান্নাতি হতে পারতো। আবূ লাহাবের সাথে এমন অবিচার কেন হলো?

পরীক্ষায় লেভেল প্লেইং ফিল্ড

যেকোন পরীক্ষায় বা নির্বাচনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, পরীক্ষায় বা নির্বাচনে সকল পরীক্ষার্থী বা প্রার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছে কিনা। কোন পরীক্ষার্থীকে যদি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নকল সাপ্লাই দেন, বা সাহায্য করেন, বা উত্তর লিখে দেন, কানে কানে বলে দেন, সময় বেশি দেন, তাহলে সেটি কোন অবস্থাতেই পরীক্ষা বলে গণ্য হতে পারে না। স্বজনপ্রীতি যদি সামান্যতমও সেখানে থাকে, সেটি সঠিক পরীক্ষা বলে গণ্য হতে পারে না। বা নির্বাচন কমিশন যদি নির্বাচনের সময় কোন প্রার্থীর ব্যালট বক্সে সিল মেরে দেন, বা কোনভাবে সাহায্য করেন, সেটি অন্য প্রার্থীদের সাথে অন্যায় বা অন্যায্য কাজ বলেই বিবেচিত হবে। এরকম হলে বুঝতে হয়, আসলে এরকম পরীক্ষার কোন লেজিটেমেসি নেই।

এখানে একটু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে যে, মুহাম্মদ কী নিজ কর্মগুণে নবী হয়েছিলেন, নাকি তার নবী হওয়া তার জন্মের আগে থেকেই বা শিশু বয়স থেকেই নির্ধারিত ছিল? সহিহ হাদিস অনুসারে, তিনি তার কর্মগুণে নবী হন নি, বরঞ্চ তার নবী হওয়া আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কারণ জিব্রাইল শিশু বয়সেই তার হৃদপিণ্ড পরিষ্কার করে পাপ মুক্ত করে দিয়েছিলেন। সেটি আল্লাহ পাক অন্য কোন সাধারণ মানুষের বেলাতে করেন নি। ভেবে দেখুন, আপনার হৃদপিণ্ড যদি জিব্রাইল এসে পরিষ্কার করে দিতো, আপনিও কোন পাপ করতেন না। একটি পরীক্ষাতে সকল পরীক্ষার্থীদেরকে সমান সুযোগ প্রদান করতে হয়, লেভেল প্লেইং ফিল্ড তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ পাকের পরীক্ষায় লেভেল প্লেইং ফিল্ড বলেই কিছু নেই। স্বেচ্ছাচারী আল্লাহ তার নিজ ইচ্ছামতই সব করেন। মুহাম্মদের শিশু বয়সেই, অর্থাৎ কোন ভাল কাজ করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের আগেই তাকে নবী হিসেবে মনোনীয় করে ফেলেছেন। তার মানে মুহাম্মদের নবী হওয়াটি আগে থেকেই নির্ধারিত, কিন্তু আবূ লাহাবের নবী হওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিল না, তা আবূ লাহাব যাই করুক না কেন। অর্থাৎ এখানে সকল পরীক্ষার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছে না। আল্লাহর ইচ্ছাই এখানে মুখ্য।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [310] অধ্যায়ঃ ১/ কিতাবুল ঈমান
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৭৩. রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মি’রাজ এবং নামায ফরয হওয়া
৩১০। শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এলেন, তখন তিনি শিশুদের সাথে খেলছিলেন। তিনি তাঁকে ধরে শোয়ালেন এবং বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর হৎপিন্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তিনি তাঁর বক্ষ থেকে একটি রক্তপিন্ড বের করলেন এবং বললেন এ অংশটি শয়তানের। এরপর হৎপিণ্ডটিকে একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং তার অংশগুলো জড়ো করে আবার তা যথাস্থানে পূনঃস্থাপন করলেন। তখন ঐ শিশুরা দৌড়ে তাঁর দুধমায়ের কাছে গেল এবং বলল, মুহাম্মাদ -কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন! আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বক্ষে সে সেলাই-এর চিহ্ন দেখেছি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

লাহাব
লাহাব
সহিহ মুসলিম খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৯৮, ১৯৯

সেই সাথে আরো প্রশ্ন জাগে, ফাতিমাকে জান্নাতে নারীদের সর্দারনী ঘোষণা, বা ইমাম হাসান হোসেইনকে জান্নাতের যুবকদের সর্দার ঘোষণা করা কী তাদের নিজ যোগ্যতাতে হয়েছিল, নাকি তারা শুধুমাত্র মুহাম্মদের পরিবার বলে স্বজনপ্রীতির অংশ হিসেবে তারা এই পদ লাভ করেছিলেন? আমি বা আপনি যদি মুহাম্মদের নাতী হিসেবে জন্ম নিতাম, তাহলে আমরাও তো জান্নাতের সর্দার হতে পারতাম। আমি মুহাম্মদের নাতী হয়ে জন্ম নিই নি, সেটি তো আমার দোষ নয়। আল্লাহই ইচ্ছা।

আল্লাহ কী পাপ পুণ্য করিয়ে নেন?

শুরুতেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস আমরা পড়ে নিই, হাদিসটি শুধুমাত্র সুনানু আবূ দাউদ শরীফের সহিহ হাদিসই নয়, সেই সাথে মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী দ্বারা তাহক্বীককৃত সহিহ হাদিস। হাদিসটিতে খুব পরিষ্কারভাবেই বলা আছে, আল্লাহ পাক সেই আদি অবস্থাতেই সকলের জান্নাত জাহান্নাম নির্ধারিত করে রেখেছেন। হাদিসটি পাবেন আল্লামা আলবানী একাডেমী থেকে প্রকাশিত সুনান আবূ দাউদ , পঞ্চম খণ্ড, ৪৪৫, ৪৪৬ পৃষ্ঠায়।

পাবলিশারঃ আল্লামা আলবানী একাডেমী
গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ৩৫/ সুন্নাহ
হাদিস নাম্বার: 4703
৪৭০৩। মুসলিম ইবনু ইয়াসার আল-জুহানী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে এ আয়াত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলোঃ ‘‘যখন তোমার রব আদম সন্তানের পিঠ থেকে তাদের সমস্ত সন্তানদেরকে বের করলেন…’’ (সূরা আল-আ‘রাফঃ ১৭২)। বর্ণনাকারী বলেন, আল-কা‘নবী এ আয়াত পড়েছিলেন। উমার (রাঃ) বলেন, আমি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর স্বীয় ডান হাতে তাঁর পিঠ বুলিয়ে তা থেকে তাঁর একদল সন্তান বের করে বললেন, আমি এদেরকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং এরা জান্নাতবাসীর উপযোগী কাজই করবে।
অতঃপর আবার তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে একদল সন্তান বেরিয়ে এনে বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং জাহান্নামীদের উপযোগী কাজই করবে। একথা শুনে এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমলের কি মূল্য রইলো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মহান আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তার দ্বারা জান্নাতবাসীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষে সে জান্নাতীদের কাজ করেই মারা যায়। আর আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর যখন তিনি কোনো বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজ করিয়ে নেন। অবশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করে মারা যায়। অতঃপর এজন্য তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।[1]
সহীহ, পিঠ বুলানো কথাটি বাদে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আল্লাহ তাকদীর নির্ধারন করেন
আল্লাহ ও তাকদীর

তাকদীর বা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যে বিশ্বাস ইসলামে বিশ্বাসের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস, এবং ইসলামের অন্যতম ভিত্তি। এই বিষয়ে এই লেখাটি পড়তে পারেন।

উপসংহার

উপরের হাদিস এবং কোরআনের সূরা লাহাব পড়ার পরে এটি একদমই পরিষ্কার যে, আবূ লাহাব নামক ব্যক্তির ভাগ্য বা তাকদীর আল্লাহ সেই সৃষ্টির শুরুতেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। তিনি যে মুহাম্মদের সাথে শত্রুতামূলক আচরণ করবেন, এরকমই হওয়ার কথা ছিল। সৃষ্টির শুরুতেই আল্লাহ পাকের এই মহা পরিকল্পনা ছিল যে, তিনি মুহাম্মদকে পাঠাবেন, আবূ লাহাবকে দিয়ে মুহাম্মদের বিরোধিতা করাবেন, এবং সুযোগ বুঝে এই সূরাটি নাজিল করে ফেলবেন। এখানে আবূ লাহাবের স্বাধীন কোন ইচ্ছা থাকতে পারে না। কারণ সেটি থাকলে আল্লাহ পাক আগে থেকেই তার নামে গালাগালি এবং অভিশাপমূলক সূরা লিখে রাখতেন না। তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে আসলে পাপ পুণ্যের কী কোন অর্থ থাকে?

One thought on “আবূ লাহাবের পূর্ব নির্ধারিত অপরাধসমূহ

  • May 6, 2020 at 11:29 PM
    Permalink

    কোরানের উত্তরাধিকারের আইনের ভুল সম্পর্কে ও কোরানের আইন লঙ্ঘনকারী ফাজায়েল নীতি সম্পর্কে প্রবন্ধ দেখতে চাই

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *