শয়তানের আয়াত বা স্যাটানিক ভার্সেস

ভূমিকা

আমরা সকলেই কমবেশি সালমান রুশদীর বহুল আলোচিত উপন্যাসের কথা জানি। এই নিয়ে শুধু পশ্চিমে নয়, ইরান, সৌদি আরব, সমস্ত মুসলিম দেশগুলো এমনকি বাঙলাদেশে পর্যন্ত তুলকালাম হয়ে গিয়েছিল। মুসলিম বিশ্বব্যাপী সালমান রুশদীর ফাঁসির দাবী, ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনীর মৃত্যুদণ্ড এখনো বহাল আছে। সালমান রুশদী তার ওপর মৃত্যু পরোয়ানা নিয়েই বহাল তবিয়তে রয়েছেন। যদিও তার উপন্যাসটি মোটেও ধর্ম সম্পর্কিত ছিল না, তারপরেও শয়তানের আয়াত বিষয়টি সেখানে থাকায় মুসলিম বিশ্ব তার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। সেই নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। এই শয়তানের আয়াত বিষয়টি কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা, তা পাঠকই বিবেচনা করবেন। আমি শুধুমাত্র তথ্যসূত্র সমূহ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। যদিও অনেক মুসলিম লেখকই দাবী করেন, এগুলো ইহুদী নাসারা নাস্তিকদের প্রোপাগাণ্ডা, ইসলামকে নিয়ে তাদের চক্রান্ত! আমি ঠিক জানি না, নাস্তিকরা টাইম মেশিন আবিষ্কার করে ফেলেছে কিনা! টাইম মেশিন ছাড়া তারা এত বছর আগে গিয়ে এত এত ইসলামী কেতাবে এই কথাগুলো নাস্তিকরা ঢুকিয়ে দিয়ে আসলেন কীভাবে? যাইহোক, মূল আলোচনাতে চলে যাচ্ছি।

মূল ঘটনা

মুহাম্মদ তখন মক্কায় ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু করেছেন। তখন একদিন তিনি ক্বাবা শরীফের প্রাঙ্গণে বসে সদ্য ইসলামে দাখিল হওয়া মুসলিমদের মাঝে বক্তৃতা রাখছিলেন। সেখানে মক্কার অন্যান্য পৌত্তলিক কুরাইশরাও ছিলো। পৌত্তলিক এবং মুসলিমদের মধ্যে তখন প্রচণ্ড শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক। হজরত জ্বিবরাঈল সেই সময়ে ওহী নিয়ে মুহাম্মদের কাছে আগমন করেন। এবং সুরা নাজমের কয়েকটি আয়াত নাজিল করেন। আয়াতগুলো হচ্ছে,

তোমরা কী ভেবে দেখেছো লাত ও উযযা সম্পর্কে?
এবং আরেক (দেবী) মানাত সম্পর্কে?
তাঁরা হলেন খুব-ই উঁচু পর্যায়ের (ক্ষমতাবান) দেবী
তাদের কাছে সাহায্যও চাওয়া যায়

[ শয়তানের দ্বারা প্রভাবিত আয়াত ]

পরে মুহাম্মদ নিজেই আবার এই শেষের দুই আয়াত তার অনুসারীদের বাদ দিয়ে সংশোধনমূলক আয়াত নাজিল করে। এবং সুরাটির অন্যান্য আয়াত নাজিল হয়।

তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।
এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?
পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।
এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।

[ সংশোধিত আয়াত ]

কারণ হিসেবে বললেন, ওগুলো আসলে আল্লাহ প্রেরিত আয়াত ছিল না। শয়তান ধোঁকা দিয়ে তার মুখ দিয়ে এই আয়াতগুলো বলিয়ে নিয়েছে। এর পরিবর্তে তিনি অন্য আয়াত দেন, দেবীদের প্রশংসামূলক আয়াতগুলো বাতিল ঘোষণা করেন। এই পর্যন্ত বক্তব্যগুলো পরবর্তীতে রেফারেন্স সহকারে প্রমাণ করা হবে।

উল্লেখ্য, সেই সময়ে আরবের পৌত্তলিকদের পূজিত সবচে বড় তিন দেবী ছিল লাত, উযযা এবং মানাত। এদের তিনজনকে আল্লাহর তিন কন্যা হিসেবেও গণ্য করা হতো। পৌত্তলিকগণ বারবার মুহাম্মদের কাছে আবদার করছিল, মুহাম্মদ তাদের দেবদেবীকে মেনে নিলে তারাও মুহাম্মদের আল্লাহকে মেনে নিবে। পৌত্তলিকগণ এই বিষয়টি খুবই অপছন্দ করছিল যে, নবী মুহাম্মদ তাদের দেবদেবী সম্পর্কে লাগাতার কটূক্তি, গালাগালি এবং সমালোচনাতে লিপ্ত ছিল। অনেকবার তাকে বোঝাবার পরেও সে ধর্মদ্রোহী কথা, কটূক্তি, দেবদেবীকে গালাগালি থেকে বিরত থাকে নি। এমনকি, মুহাম্মদের চাচা আবু তালিবের কাছে বিচার দিয়েও কোন কাজ হয় নি।

এরকম পরিস্থিতিতে মুহাম্মদের মুখ থেকে পৌত্তলিকদের দেবী সম্পর্কিত ঐ দুই আয়াত শুনে মক্কার মুশরিকরা খুব উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল। তারা ভাবলো, মুহাম্মদ এখন থেকে তাদের দেবদেবীদের নিয়ে আর কটূক্তি করবে না। বরঞ্চ প্রশংসা করবেন। মুহাম্মদ তাদের দেবদেবীদের মেনে নিয়েছেন, তারাও মুহাম্মদের আল্লাহকে মেনে নেবে। দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে গেছে। এখন সকল ধর্মের লোকের সহাবস্থান সম্ভব হবে। কেউ কারো উপাস্য দেবদেবী বা ঈশ্বরকে নিয়ে আর কটূক্তি করবে না। তাই, সেদিন মুহাম্মদ এবং অন্যান্য মুসলিমদের সাথে মক্কার মুশরিকরা একই সাথে সিজদা করেছিলো মক্কা প্রাঙ্গণে।

কিন্তু পরবর্তীতে মুহাম্মদ দাবী করলেন, ঐ আয়াত দুটি শয়তানের ধোঁকা। তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কোন দেবদেবীকে মানবেন না। উনি আয়াত দুটি বাদ দিতে বললেন। তখন আবারো শুরু হলো দুই দলের দ্বন্দ্ব।

এবারে আসুন, রেফারেন্সগুলো যাচাই করে দেখি। একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস এখানে শুরুতেই বর্ণনা করা জরুরি।

গালাগালি, কটূক্তি, সমালোচনা

নবী মুহাম্মদ পৌত্তলিকদের দেবদেবী, পূর্বপুরুষদের ধর্ম, এগুলো সম্পর্কে অবমাননাকর কটূক্তি করতো বলেই জানা যায়। তাকে ধর্মদ্রোহীতা দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সমাজে শত শত বছর ধরে প্রচলিত ধর্মের সমালোচনা, বাপদাদার ধর্মের অবমাননা, কটূক্তি, দেবদেবী নিয়ে অপমানজনক কথা বলার কারণে বারবার তাকে সতর্ক করা হয়।

সূত্রঃ সীরাতে ইবনে হিশাম : হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জীবনীগ্রন্থঃ আকরাম ফারুক পৃষ্ঠা ৬১, ৬২

আয়াত
আয়াত

সূত্রঃ সীরাতুল মুস্তফা সা. লেখকঃ আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী (রহ.) প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১১৩, ১৪৪, ১৪৯, ১৫৪, ১৫৫

আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত

মুসলিম এবং মুশরিকগণের সমবেত সিজদা

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [4862]
অধ্যায়ঃ ৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৫/৫৩/৭. আল্লাহর বাণীঃ অতএব আল্লাহ্কে সাজদাহ্ কর এবং তাঁরই ‘ইবাদাত কর। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/৬২)
৪৮৬২. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ নাজমের মধ্যে সাজদাহ্ করলেন এবং তাঁর সঙ্গে মুসলিম, মুশরিক, জিন ও মানব সবাই সাজদাহ্ করল। আইয়ুব (রহ.)-এর সূত্রে ইব্রাহীম ইবনু তাহ্মান (রহ.) উপরোক্ত বর্ণনার অনুসরণ করেছেন; তবে ইবনু উলাইয়াহ (রহ.) আইয়ূব (রহ.)-এর সূত্রে ইবনু ‘আববাস (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ করেননি। [১০৭১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৯৮)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
অধ্যায়ঃ ৪/ কিতাবুল জুমু’আ (জুমু’আর নামায)
হাদিস নম্বরঃ [575]
পাবলিশারঃ হুসাইন আল-মাদানী
পরিচ্ছদঃ ৫১. সূরা আন-নাজমের সাজদাহ
৫৭৫। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা নাজম-এ সাজদাহ করেছেন। মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও মানুষ সবাই তার সাথে সাজদাহ করেছেন। -সহীহ। বুখারী, কিসসাতুল গারানীক— (১৮, ২৫, ৩১ পৃঃ), বুখারী।
আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনু মাসউদ ও আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। একদল বিদ্বানের মতে সূরা নাজম-এ সাজদাহ রয়েছে। একদল সাহাবা ও তাবিঈনের মতে মুফাসসাল সূরাসমূহে কোন সাজদাহ নেই। মালিক ইবনু আনাস এই মতের সমর্থক। কিন্তু প্রথম দলের মতই বেশি সহীহ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ ও আহমাদ প্রথম মতের সমর্থক। (অর্থাৎ মুফাসসাল সূরায় সাজদাহ আছে)।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আয়াত

উপরের হাদিসটি থেকে জানা যায়, সুরা নাজমের আয়াত আবৃত্তি করার পরে শুধু মুসলিমগণই নয়, মুশরিকরাও নবী মুহাম্মদের সাথে তার অনুসরণ করে সকলে সিজদা করলো। কিন্তু সেই সময়ে তো মুহাম্মদের সাথে মুশরিকদের চরম দ্বন্দ্ব এবং শত্রুতা চলছে। কী এমন হলো, যার ফলে নবী মুহাম্মদ এবং তার অনুসারীরা, সেই সাথে মুশরিকরাও তারই সাথে একত্রে কোরআনের একটি সুরার সাথে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করলো? এমন কী ঘটে গেল? এরকম তো হওয়ার কথা নয়। ভেবে দেখুন, এত বড় আশ্চর্য ঘটনা কীভাবে ঘটে? এর জন্য আমাদের যেতে হবে তাফসীরে জালালাইনের কাছে।

তাফসীরে জালালাইন থেকে

শুরুতেই, তাফসীরে জালালাইন থেকে সুরা হাজ্জ এর ৫২ এবং ৫৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর পড়ে নিই।

আয়াত
আয়াত

এবারে তাফসীরে জালালাইন থেকেই পড়ি সুরা নজমের শানে নুজুল। শানে নুজুলে আবার খুব কৌশলে শয়তানের প্ররোচনায় আয়াত নাজিলের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

আয়াত
আয়াত

তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে

এবারে তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে সুরা হাজ্জ এর ৫২, ৫৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর পড়ে নিই।

আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত

সিরাতে রাসুলুল্লাহ থেকে

এবারে পড়ি ইবনে ইসহাকের সিরাতে রাসুলুল্লাহ থেকে, পৃষ্ঠা নম্বর ১৯৭, ১৯৮, ১৯৯। গ্রন্থটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত, অনুবাদকের নাম শহীদ আখন্দ। ডাউনলোড লিঙ্ক

আয়াত
আয়াত
আয়াত

তাবারীর ইতিহাস

এবারে আসুন দেখি, ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তাবারীর বিবরণে কী পাওয়া যায়! খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১০৭-১১২

আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত
আয়াত

বিষয়টি নিয়ে লুকোছাপা

শয়তানের এই আয়াতটি নিয়ে যে মুসলিম স্কলারগণ বিব্রত ছিলেন, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় একটি হাদিস থেকে। দেখুন, একটি সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস কোরআনের আয়াতের লাত শব্দের অর্থ বানিয়েছিলেন, একজন ব্যক্তি। দাবী করা হয়েছে, সেই ব্যক্তি যিনি হাজীদের জন্য ছাতু গুলাতো, এখানে দেবী লাত নয়- তার কথা বলা হয়েছে। অথচ, সহজেই বোঝা যায়, এখানে লাত এবং উজ্জা বলতে কী বোঝানো হয়েছে।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [4859]
অধ্যায়ঃ ৬৫/ কুরআন মাজীদের তাফসীর
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৫/৫৩/৫. আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উয্যা সম্বন্ধে। (সূরাহ আন্-নাজম ৫৩/১৯)
৪৮৫৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণী اللَّاتَ وَالْعُزَّى এর ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে ‘লাত’ বলে এ ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে হাজীদের জন্য ছাতু গুলত। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪৯৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আয়াত

উপসংহার

শয়তানের প্ররোচনায় আয়াত নাজিল হয়ে থাকলে, সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি যেটি ওঠে, তা হচ্ছে, নবী মুহাম্মদ কী কে আল্লাহর ফেরেশতা আর কে শয়তান, তার পার্থক্য বুঝতেন না? এমনও তো হতে পারে, সেই প্রথম যেদিন জিব্রাইলের আবির্ভাব হয়েছিল, সেই আসলে শয়তান ছিল। পুরো কোরয়ানই আসলে শয়তানের আয়াত। মাঝখানে সত্যিকারের আল্লাহ দুইটি সঠিক সুরা নাজিল করতে পেরেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে শয়তান আবার সেই আয়াতদুটি সংশোধন করে দিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, আমি বোঝাতে চাচ্ছি, আমরা কীভাবে শতভাগ নিশ্চিত হবো যে, যেই আল্লাহকে মুসলমানগণ সাড়ে ১৪০০ বছর ধরে উপাসনা করছে, সে আসলে শয়তান আর যাকে তারা শয়তান ভাবছে, সেই আসলে আল্লাহ কিনা। এরকম নিশ্চিতভাবে বোঝার উপায় কী? যেখানে খোদ নবী মুহাম্মদই ধোঁকা খেয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে ধোঁকাটি আরো বড় কিনা, রিভার্স ধোঁকা কিনা, আমাদের নিশ্চিত হওয়ার উপায় কী?

খেয়াল করে দেখুন, নবী মুহাম্মদ বলেছিলেন, ঘণ্টাধ্বনির ন্যায় তার কাছে ওহী আসতো।

আয়াত

ঠিক একইসাথে, তিনি এটিও বলেছেন,

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [5366]
অধ্যায়ঃ ৩৮/ পোশাক ও সাজসজ্জা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২২. সফরে কুকুর ও ঘণ্টা রাখা মাকরূহ
৫৩৬৬। ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনু হুজর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘন্টা শয়তানের বাঁশি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

আয়াত

তারমানে দেখা যাচ্ছে, নবীর কাছে যখন ওহী আসতো, তখন ঘণ্টাধ্বনির শব্দ হতো। আবার ঘণ্টা হচ্ছে শয়তানের বাঁশি, এটিও নবীরই বক্তব্য। এখন আপনি নিজেই বিবেচনা করুন আসল সত্য কী!

তারপরেও তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি, নবীর কাছে আল্লাহর ওহীই আসতো। কিন্তু মহাবিশ্বের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ পাকের ওহী সামান্য এক সৃষ্টি শয়তান উল্টেপাল্টে দিচ্ছে, ভুলভাল ঢুকিয়ে দিচ্ছে, এই কথা কী মেনে নেয়া যায়? আল্লাহ পাকের সিকিউরিটি সিস্টেম কী এতটাই দুর্বল ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর পাঠকের জন্যেই ছেড়ে দিচ্ছি।

4 thoughts on “শয়তানের আয়াত বা স্যাটানিক ভার্সেস

  • December 23, 2019 at 8:12 AM
    Permalink

    M.E.F. Prottoy
    ৩ নাম্বার পয়েন্টা টা (স্কলার রা দাবি করেন আয়াতটি শয়তান কাফেরদের কানে পৌছে দিয়েছে, মুহাম্মাদ(স) এর মুখ হতে উচ্চারিত হয়নি) এর প্রমাণ টা কি? যেখানে তাফসীরে জালালাইন আর ইবনে কাসিরে পরিষ্কার ভাবেই দেখা যাচ্ছে তা মুহাম্মদ(স) এর মুখ হতে উচ্চারিত হয়েছিলো।

    Reply
  • January 8, 2020 at 1:15 AM
    Permalink

    Khub valo laglo Vai,, Egiye Jan Vai..

    Reply
  • July 16, 2020 at 10:21 PM
    Permalink

    “””স্যাটানিক ভার্সেস””””

    স্যাটানিক ভার্স অর্থাৎ কুরআনে শয়তানের বানী।সালমান রুশদি থেকে শুরু করে বর্তমানের অনেক নাস্তিকের দাবি শয়তান সুকৌশলে নিজের বানী আল্লাহর ওহি বলে ডুকিয়ে দিয়েছেন আল কুরআনে।এটা মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই না এবং নাস্তিকদের দ্বীমুখি আচরন।👇

    যেহেতু নাস্তিকদের দাবি শয়তান তার কথা কুরআনে ডুকিয়ে দিয়েছে তারমানে শয়তান আছে।এবং শয়তানের অস্তিত্বের জোড়দাবিও করে থাকে!!!!

    এখানে আমার প্রশ্নে হলো। শয়তান আসলো কোথা থেকে???শয়তানের স্রষ্টা কে??? শয়তান আছে তবে শয়তানের স্রষ্টা নেই কেন??? যদি, নাস্তিকদের কথা মেনেও নেই তারপরেও কথা থাকে।কুরআনের বাকি আয়াত গুলো কার বানী??? নাস্তিকরা আবার এটাও দাবি করে কুরআন হযরত মুহম্মদ সাল্লেল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রচনা করেছেন, যদি কুরআন মানব রচিত হয়ে থাকে তাহলে শয়তান আবার আয়াত ডুকায় কি করে??? নাস্তিকদের এই সকল আলতু ফালতু কথাই প্রমান করে কুরআন আল্লাহর বানী।✌নাস্তিকদের বিশ্বাস আল্লাহ নাই, শয়তান আছে। ক্যামনে কি! শয়তান আসলো কোথা থেকে? শয়তান কি বৈজ্ঞানীকভাবে প্রমাণীত সত্বা??? সকল নাস্তিক আল্লাহ,আল্লাহর রাসূল এবং ধর্মের নামে কুৎসা রটনার সময় শয়তানকে ব্যবহার করে!!!HOW FUNNY!!!

    নাস্তিক মানেই হাইস্যকর, চরম বিনোদন। 😀😃😄😝🐆😝

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *