বিশ্বাস আর প্রমাণ

পরষ্পর বিরোধী এই শব্দ দুটি আস্তিকদের ধর্মীয় চেতনার কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে । যুক্তিবিদ্যার শিক্ষা আস্তিকদের শিক্ষাকে মোটা কম্বলে মুড়িয়ে ঢেকে দিচ্ছে । এটা হলো বিশ্বাস। আপনি বিশ্বাস বলতে কি বুঝেন?

আসেন একটু পড়াশুনা করি। বিশ্বাস কি?

আমার মতে, বিশ্বাস যার অপর নাম ভরসা। যে জায়গায় বা যে মানুষের ওপর ভরসা করতে পারবেন ওখানে আপনি বিশ্বাস এর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারবেন। তবে বিশ্বাস কখনো যুক্তি দিয়ে প্রমান করা যায় না ।বিশ্বাস এর সঠিক উত্তর আমারও জানা নাই। তারপর ও আমার “পয়েন্ট অফ ভিউ” থেকে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করলাম।

তবে দেখা যাক উইকেপেডিয়াতে কি সংজ্ঞা পাওয়া যায়।

বিশ্বাস বলতে সাধারণতঃ পারিপার্শ্বিক বিষয়-বস্তুরাজি ও জগৎ সম্পর্কে কোনো সত্ত্বার স্থায়ী-অস্থায়ী প্রত্যক্ষণকৃত ধারণাগত উপলব্ধি বা জ্ঞান এবং তার নিশ্চয়তার উপর আস্থা বোঝানো হয়। সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, জ্ঞানতত্ত্ব ইত্যাদি বিভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্বাস শব্দটি বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে খানিকটা আলাদা অর্থ বহন করতে পারে। তাই জ্ঞান , সত্য , ইত্যাদির মত বিশ্বাসেরও কোনো একটি সর্বজনসম্মত সংজ্ঞা নেই বলে অনেকের ধারণা ।

কোনো বিষয় সত্য না মিথ্যা তা বিচার ক’রে – সত্য মনে হলে তা “বিশ্বাস করা” অথবা মিথ্যা মনে হলে অবিশ্বাস করা আর মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশী মনে হলে সন্দেহ করা হয় । বিশ্বাস মানে হতে পারে আস্থা (faith) , ভরসা (trust) । বিশ্বাসের দৃঢ়তা (বিশ্বাস যত বেশি সন্দেহ তত কম) যা খুব বেশি হলে তাকে বলা যায ভক্তি বা অন্ধবিশ্বাস । আবার বিশ্বাস মানে হতে পারে আশা (hope) বা আশ্বাস (assurance) বা বিশ্বাস করার ইচ্ছা (willingness to trust)।

বিশ্বাস হতে পারে কোন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অনুভুতির সচেতন অনুধাবন; বা কোনো তথ্য (information) বোধগম্য হওয়া; এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যাচাই করার পর এই বোধের নিশ্চয়তা সম্বন্ধে প্রত্যয় বা প্রতীতি জন্মালে (সত্য বলে স্থায়ী ধারণা) হলে তাকে জ্ঞান (knowledge) বলা যায়। পর্যবেক্ষণের উপর যুক্তির (ও পূর্বলব্ধ জ্ঞানের) সাহায্যে বিচার (deduction) করে কোন বিষয় সত্য বলে সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে নতুন জ্ঞান জন্মায়। এইভাবে মনের মধ্যে উপলব্ধ সত্যগুলিকে জুড়ে যে তত্ত্বের জাল বোনা হতে থাকে তাদের বিষয়বস্তুগুলি সামগ্রিকভাবে হল জ্ঞান আর তাদের গ্রহণযোগ্যতার সচেতন অনুমোদন হল বিশ্বাস। জ্ঞানের বিশেষত্ব হল শুধু পূর্বের অভিজ্ঞতাই নয় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও অজ্ঞাত পরিস্থিতি সম্বন্ধেও এর দ্বারা (induction) ভবিষ্যৎবাণী করা সম্ভব ও সেই ভবিষ্যৎবাণীর সাফল্য বিশ্বাসকে বজায় রাখে। জ্ঞানের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাকে প্রয়োগ করে ভালো ফল লাভের সম্ভাবনার উপর নির্ভর করে জ্ঞান ক্ষেত্রবিশেষে বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা(wisdom) বা দূরদৃষ্টি (insight) ইত্যাদি হিসাবে পরিগণিত হতে পারে।

বিশ্বাস হতে পারে একজনের ব্যক্তিগত কষ্ট কল্পনা। যেমন সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা অনেক কিছু দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ দেখালে সেই বিশ্বাস আরো বদ্ধমূল হয়ে যেতে থাকে। এই ধরণের ভিত্তিহীন বা যুক্তির অতীত বদ্ধমূল অন্ধবিশ্বাসকে বলে ডিলিউসন (delusion)। আবার বিশ্বাস হতে পারে কোন জনতার সম্মিলিত জনমত। যেমন নানা ধরণের ধর্মবিশ্বাস।
বিশ্বাসের সঙ্গে মূল্যবোধ ও ভালোমন্দ বিচারও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কোন কিছুকে ভালো বলে বিশ্বাস না হলে তাকে খারাপ বলেই সন্দেহ হবে। সন্দেহ (বিশ্বাস করার অনিচ্ছা) খুব জোরালো হলে এবং অন্যান্য চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে দিলে তাকে বলে প্যারানইয়া, যার বিশেষণ হল প্যারানয়েড। সিজোফ্রেনিয়ার চারটি প্রধান ধরণের মধ্যে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া একটি।
[ সূত্র

এবার আশা যাক, প্রমান কি?

প্রমান হলো একটি দাবি ,বিশ্বাস বা প্রস্তাব যা সত্য বা বৈধ কিনা তা নির্দেশ করে তথ্য বা তথ্য উপলব্ধ শরীর কিংবা বিষয়বস্তুর উপর ।

আভিধানিক সংজ্ঞা হলো:

C:\Users\ASUS\Desktop\57362562_288349745438000_4386142596926275584_n.jpg [ সূত্র

মোটা দাগে বোঝা যায় । বিশ্বাসের জন্য কোন প্রমান প্রয়োজন হয় না । মোমিনরাও সহমত হবে নিশ্চয়ই । কিন্তু ঝামেলাটা তখনি প্রকট হয় যখন নাস্তিকরা বলে ঈশ্বরের কোন অস্তিত্বের প্রমান নেই । মোমিনদের এমন বিষয়ে মেনে নিতে অনেক কষ্ট হয় এবং শুরু হয় আল্লাহর অস্তিত্ব দৌড়ঝাঁপ। প্রামান করাতে তাকিয়াবাজি শুরু হয়ে যায় কেননা ধর্ম রক্ষার ক্ষেত্রে এমন তাকিয়াবাজি জায়েজ আছে । তাইতো আকাশে মাংস কিংবা খাবারে আল্লাহ লেখা দিয়ে মোমিনরা প্রমান করতে চান আল্লাহর অস্তিত্ব রয়েছে ।প্রায়শ আমরা সোস্যাল মিডিয়াতে এমন ছবি দেখি এবং মোমিনরা কমেন্ট বক্সে আমিন লিখে আল্লাহ কে আরস থেকে নামিয়ে জমিনে নিয়ে আসে।

C:\Users\ASUS\Desktop\57504819_346292829346905_2093576731783856128_n.jpg
C:\Users\ASUS\Desktop\57155377_2046985995603859_8258005015260561408_n.jpg

মোমিনরা বলতে চায়,আল্লাহর নামে এই পৃথিবীতে সর্বত্র এত প্রমাণ রয়েছে,এটি একটি সত্য ।আল্লাহ মহান দয়ালু, কুরআন মজীদে বলেন, আল্লাহ শীঘ্রই মহাবিশ্বে তার নিদর্শনাবলী দেখাবো, যতক্ষণ না তাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি সত্য। এটা কি আল্লাহর যথেষ্ট প্রমান নয় ?

হাস্যকর কু যুক্তি । আমাদের দেশে তো সাঈদিকে চাঁদে দেখা গিয়েছিল । তার মানে কি দাড়ায় । সাঈদি আল্লাহর সমকক্ষ ?

C:\Users\ASUS\Desktop\57247058_2265930313467273_7544490198684401664_n.jpg

তাহলে অনেক কিছুতে যৌনাঙ্গ দেখা যায় । তাহলে আল্লাহকে মোমিনরা হয়তোবা যৌনাঙ্গের সাথে তুলনা করছে । নাস্তিকরা তা অবশ্য করবে না , নাস্তিকরা প্রমানের অভাবে তা বাতিল করে দিবে মাত্র।

C:\Users\ASUS\Desktop\57253386_2342205619174814_3718121959439990784_n.jpg

মোমিনদের জন্য একটা সু সংবাদ দেই।সম্প্রতি আমার এক নাস্তিক বন্ধু মাংস কাটতে গিয়ে মাংসের মধ্যে শয়তানের ছবি দেখতে পেয়ে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। উনি এখন শয়তানের অস্তিত্বের প্রমান পেয়েছেন কিন্তু আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমান এখনো পাননি ।

C:\Users\ASUS\Desktop\57355530_2303339899879660_7030823234048098304_n.jpg

মোমিনরা এখন কি বলবেন ??

এসব এডিট করা যায়।

ভাই , আমরাও বলি এসব এডিট করা যায় ।

জ্যাক পিটার ।
১৯/০৪/২০১৯।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *