fbpx

কেন আমি বৌদ্ধধর্মের বিরোধিতা করি? (পর্ব- ১)

আমি নিজেকে নাস্তিক নামে পরিচয় দিয়ে থাকি। নাস্তিক হওয়ার পেছনে আমার মূলত কয়েকটি বড় অবদান রয়েছে।

২০০৮ এর পূর্ব পর্যন্ত আমি নির্দিষ্ট একটা জাতের সমাজে পরিচয় বহন করেছিলাম, কিন্তু আমি বর্তমানে একজন নাস্তিক। ২০০৮ সালের ১২ই জুন “The buddhism philosophy” বইটি আমি হাতে পেলাম যখন, তখন থেকে বইটি আমি বারংবার পড়তে থাকি,  আর আমি ধীরে ধীরে নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকে পড়ি।
১৩ বৎসর বয়সে আমি  বন্ধুদের থেকে একটু ভিন্নমনা ছিলাম। সবসময় ঈশ্বর বিষয়ে প্রশ্ন করতাম বন্ধদের কাছে, আর ছোটখাট ঝগড়াও লেগে থাকত নানান তর্কে। এটা ছিল আমার একটা জিজ্ঞাসু মন মাত্র। এতে কোন ধর্মকে(প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম) হীনমন্যতা দেওয়া আমার লক্ষ্য ছিল না।

আমি একজন জন্মগত বৌদ্ধ পরিবারেরই সন্তান। যখন আমার বয়স ১০ থেকে ১২ বছরে তখন আমি মনে করতাম বুদ্ধ হচ্ছেন ঈশ্বর, আর তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন পিতৃ-মাতৃর সমবায়ে। সেই শৈশবে একটা বড় অহংকার ছিল, বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম হয়েছিলাম বলে, ভাবতাম বৌদ্ধধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মগুলি সব বকধর্ম!
কিন্তু ত্রিপিটক পড়তে গিয়ে দেখলাম, পদে পদে ত্রিপিটক নিজেই স্ববিরোধ।

ত্রিপিটকের স্ববিরোধ বিষয়ে যখন পণ্ডিত বৌদ্ধিকদের কাছে জানতে চইতাম, তখন আমাকে বলা হত- যারা ত্রিপিটকে সন্ধেহ প্রকাশ করে তারা নরকবাসী। পরকালের নানান ধরনের ভয়ভিতি দিত আমাকে, কোন যৌক্তিক বিচার দিতেন না। তাই বিষয়গুলি নিয়ে আমি অনেক সময় হতাস হতাম আমার নাস্তিক বন্ধদের কাছে।
একদিন হটাৎ-

সেদিন ছিল ২০১০ সাল। সাহিত্যিক মাতুব্বর আরজ আলীর লেখা “অনুমান” প্রবন্ধটি পড়ে আমি পুরোপুরি সমাজে নিজেকে নাস্তিক হিসেবে দাবি করি, এতে আমার বাবা-মা আমার প্রতি খুবই ক্ষুদ্ধ হয়েছিল। সমাজের লোকেরা আমাকে কটাক্ষ করে বলতো- আমি নাকি মার(শয়তান) , দেবদত্ত! এ ভাবে কয়েকটা মাস যায়।

২০১২ এর দিকে এসে আমি মাতুব্বর আরাজ আলীর “রচনা সমগ্র” সহ কয়েকটি বই পড়েছি এবং বিখ্যাত অনলাইন ব্লগার আরিফু ররহমান সহ কিছু মুক্তমনাদের   অনলান ভিডিও দেখে; বিশেষ করে সানিউর রহমান, আসিফ মহিউদ্দিন সহ আরো কয়েকজনের ভিডিও দেখে আমি নিজেকে আরো নাস্তিক হিসেবে জোরাল ভাবে গঠন করি। লেখক অভিজিৎ রায়ের লেখা বইগুলি পড়ে সব মিলিয়ে আমার বৌদ্ধধর্মের প্রতি বিরূপ ভাব চলে আসে।

ফলত আমি বৌদ্ধধর্মের প্রতি হতাস হয়ে বৌদ্ধধর্ম হতে বেরিয়ে আসতে ইচ্ছুক হলাম, কিন্তুক পুরোপুরি আমি বেরিয়ে আসতে পারলেও বুদ্ধের দার্শনিক দিকগুলোর একটা বিরাট অংশ আমি সাধুবাদের সহিত শ্রদ্ধা করি, বৌদ্ধধর্মের সমাজ ব্যবস্থার এই দিকটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশ ভালো লাগে।

পরে আমি মাকে আমার বৌদ্ধধর্ম ত্যাগের ব্যাপারটি জানালাম। মা আমাকে ধমক্ দিয়ে থামিয়ে দিলেন, আর বললেন; কেন তুই বৌদ্ধধর্ম ত্যাগ করতে চাস? সাথে সাথে আমি জবাব দিলাম- বৌদ্ধ সমাজে ত্রিপটকের হজবরল দিক গুলি কোন বিচার ছাড়াই কেন আগলে ধরা হয়েছে?

মা প্রত্যজবাবে নিরব দেখালেন।
সেই বারের মত মা আমার উপর অভিমান করে, দু’কটা দিন কথা না বললেও, পরবর্তীতে তা স্বাভাবিকভাবেই হয়ে উঠে। কথাটা বাবার কানেও দিলাম। বাবা শুনা মাত্রই আমার কপুলে কষিয়ে দিল এক চড়। চড় খেয়ে আমি কিয়ৎকন নিরব থাকার পর, জবাব দিলাম আমার এখন বুঝার বয়স হয়েছে; আমি অন্ধ ভাবে আপনার পূর্ব পুরুষদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম মেনে নিতে পারবো না! হটাৎ বাবা একগাল হেসে জবাব দিলেন আমিও সেটাই ভাবচ্ছিলাম বৌদ্ধধর্মে মানবিক দিকগুলি বেশি থাকলেও, এতে স্ববিরোধও কম নয়। সামাজিক কারণ বসত আমি নিরব রয়েছি বললেন বাবা।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বাবা গন্তব্য পথে চলে গেলেন। অবশ্য অনেক আগেই অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থাদিতে যেমন স্ববিরোধ দেখা মেলে সেইরূপ বাবা নিজেও ত্রিপিটকের স্ববিরোধ সম্বন্ধে বুঝতে পেরেছিলেন, যা সমাজের ভয়ে আড়াল করে রেখেছিলেন।

বৌদ্ধদের সবচেয়ে স্বরণীয়-উজ্জ্বল উৎসবটি হলো “বৈশাখী পূর্ণীমা” এই উৎসবটিতে বৌদ্ধমন্দিরে লোকসংখ্যা তেমনটি দেখা যায় না, কিন্তুক “কঠিনচীবর দান” নামের উৎসবটিই হয়ে উঠে মহাউৎসব বৌদ্ধদের কাছে! তা কেন? বৈশাখী পূর্ণীমার চেয়ে কঠিনচীবর দান উৎসবটি বেশ মূল্যবান হয়ে গেল কেন?

হওয়ারও কথা! কেননা, বৈশাখী পূর্ণীমাতে বৌদ্ধভিক্ষু নামের পুরোহিত বাবুদের কাপরের ব্যাগটি পড়ে থাকে খালি, যদিও বা জুটে পাতেয় নামের কানা-কড়ি শ দোশ টাকা, কিন্তু চীবর দানে সেই পুরোহিত বাবুদের কাপড়ের ব্যাগটি আর কাজে আসে না, কারণ তাঁরা ভোজ্য-ব্যবহার্য এতো বেশী পায় যে, এর জন্য প্রয়োজন দু’চারখনা লাই! মানে বুঝলেন তো? বড় জুড়ি।
আর চিঠির খামে করে পেয়ে যায় কচ্কচে হাজারি নোট দু-পাঁচখানা। এতেই পুরোহিত বাবুরা মহা আনন্দে মসগোলে হয়, কিন্তু ছোট্ট ভিক্ষুরা(যাদের বর্ষাবাস কম) কঠিন চীবরের মাস চলে আসলে খুশিতে হট্ট হলেও, তাঁদের মনের ভেতরের আনন্দটা কিছুটা কম! কারণ তাঁরা পাতেয় নামের টাকা-কড়ি পায় বড়দের তোলনায় কম!!
এখন পাঠকদের কাছে একটি প্রশ্ন ছুড়ে না মারলে আমার মনে হয় ছানি পড়া চোখ ছানিতেই রয়ে যাবে। প্রশ্ন হলো- একই গন্তব্য হতে আসা বড় ভিক্ষু পাতেয় পাবেন বেশি, আর ছোট ভিক্ষুরা পাবেন কম! কেন?

আর আমাদেরই মত রক্তে-মাংসে গড়া মহামতি মানব, বুদ্ধকেই আমি কেনই বা ঈশ্বর ভেবে ভূল করতাম, তা সে সময় বুঝে উঠতে পারিনি।
সেটা বরং আমার দোষ নয়, মূলত দোষটি বৌদ্ধ পুরোহিত বাবুদের, কারণ তাঁদের দেশনায় বৌদ্ধদর্শন উঠে আসে না, যা উঠে আসে তা শুধু গাট্টি ভরার কায়দা কথা, মানে বুঝলেন না- দান ধর্মের কথা, পরলোকের ভয়ভীতি ও ৫০০ অপ্সরা সহ স্বর্গলাভের লোভ দেখানো ভঙ্গি।।

আরও একটি কথা না বললে হচ্ছে না! বলতেই হচ্ছে- যখন দানাংশ কম পড়ে যায়, তখন ভিক্ষুরা একটি ফতোয়া দিয়ে এমন এমন দেশনা জুড়ে দেয়, এতে সাধারণ মানুষ দান না করে যেতেই পারে না। দান না করলে নাকি পরজন্মে ধনী হওয়া যায় না, আর সেই ফতোয়াকে বিশ্বাস করেই ভক্তরা নিজেদের অর্জিত সম্পদাদি পুরোহিত বাবুদের ব্যাংক-ব্যালান্স বৃদ্ধি করে দেয়। বর্তমানের দিকে লক্ষ্য রাখলে দেখবেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা শীল-বিনয়ের ফতোয়া দিলেও, নিজেদের ব্যাংক-ব্যালান্সগুলি কোন বিনয়ে পড়ে?
সেটি অদৌ ভিক্ষুদের জানা আছে কি না তা জানি না!(বিনয পিটক, নিচ্ছেগ্গিয় আপত্ত হতে সংগৃহীত)

পৃথিবীতে চারটি ধর্মের উত্তান প্রবল- ইসলাম, সনাতন, খৃষ্টান ও বৌদ্ধ ছাড়াও রয়েছে নানা ধর্মমত। প্রায় প্রতিটি ধর্মমতেই রয়েছে পূনজন্মের বিধান-বিশ্বাস। কিন্তু বৌদ্ধদর্শনের সার তথ্যে পূনজন্মে রেশ মাত্রই স্ববিরোধ কেন?

রামায়ণ; একালের নাকি সেকালের?
-রামায়ণের রচনা কাহিনীর ভূমিকা চরিত্র রাম। রাম হিন্দদের একজকন অবতার। এ থেকেই প্রমাণিত যে, রামায়ণ কাহিনীটি সেকালের। আনুমানিক কোন কালের? বলাটাই মুশকিল, সেই আদি কালের ভাধি(বুড়া) কথা। সনাতন ব্রাহ্মণ্য কূটনীতি এতই চোর-চতুর যে, এটা ধরা চুঁয়ার বাইরে। ব্রাহ্মণ্য দাদাদের ইতিহাস বিকৃতি ও ইতিহাস চুরির দায় প্রমাণ এই রামায়ণ। যা আজ তথ্যফাঁস। প্রাচীন বৌদ্ধসাস্ত্র সূত্রপিটকের অন্তরগত ‘জাতক’। জাতকের একটি কাহিনী ‘দশরথ'(জাতক নং 469)। এই কাহিনীটি বিকৃতি করেই রচয়িত হয় রামায়ণ, নাকি ব্রাহ্মণ্য কূটপণ্ডিতরা রামায়ন কাহিনী ও উপনিষদের কল্পিত পুনজন্ম মূলক গল্পগুলি জাতক নামে বৌদ্ধ পিটকে সংযোক্ত করেন, যাতে বৌদ্ধদর্শনকে কবজা করে হিন্দুত্বে পরিণত করতে পারে! কি মনে হয় পাঠক আপনাদের?
এ বিষয়েও যথা স্বন্ধেহ রয়েই যায়।
বুদ্ধ বিদ্বেষী এই হিন্দুত্ববাদীরা বুদ্ধকে পরোক্ষ ভাবে গালি দিলেও, পরবর্তিতে বুদ্ধকে অবতার বানিয়ে পূজা করতে থাকে, তাও ছিল একটি অতিকল্পিত পুনজন্ম মূলক সম্পূর্ণ চক্রান্ত মাত্র।

পরজন্ম এমন একটি ধারণা যা কুসংষ্কারই মাত্র, এটি একেবারেই বৌদ্ধদর্শনের অন্তরগত নয়। বৌদ্ধ ইতিহাসে উক্ত তথ্যটির কিছু ছোঁয়া রয়েছে, যা স্ববিরোধী!ঈশ্বরবাদের সহিত আত্মাবাদ, আত্মাবাদের সহিত পূনজন্মের সম্বন্ধ, তেমনি অনিশ্বরবাদের সহিত অনাত্মা, অনাত্মাবাদের সহিত পূনজন্মের কোন সম্বন্ধ থাকতেই পারেনা। তবে বৌদ্ধদর্শনে পূনজন্মের যে আবৃতি করা হয়েছে, তা অন্যমতাদর্শনের সহিত  ভিন্ন ও পরম বলে দাবি রাখেন বৌদ্ধরা। আবার কেহ বলেন পরকাল নেই, পাপ-পূণ্যও নাই। কিন্তু বুদ্ধ বলেন- শ্বাশ্বত ও অশ্বাশ্বত এই দুইটি অন্ত ভেবে কেহ লীন, আর কেহ অতি ধাবিত হচ্ছে। মধ্যপথই পণ্ডত-সেব্য। এই মধ্যম প্রতিপদাই”প্রতীত্য-সমুৎপাদ বা কায্যকারণ-প্রবাহ”। পরকাল নেই বলাটা যেমন অসংগত, আছে বলাটাও তেমন অসংগত; বৌদ্ধদর্শন এমন অসংগত ধারণা দেন না, ইহা কায্যকারণ প্রবাহ মাত্র। এই কার্য্যকারণ তথ্যটিকেই বৌদ্ধদর্শনে চরিত্রের  পূনজন্ম বলা হয়; অর্থাৎ জীব-জড় সবই পরিবর্তনশীল,অন্য উদয় হয়, অন্য ব্যয় হয়। সুতরাং পরকাল বা পুনজন্ম আছে বা নেই সে বিষয়ক কোন প্রশ্নই উঠেনা। তাই পরজন্মের লোভ কিংবা ভয়ভীতি দেবার কোন কারন বা প্রয়োজন থাকতেই পারে না।

কিন্তু আমাদের বৌদ্ধিকদের ভেতরে বড় একটা অংশ রয়ে গেছে ভক্তিবাদে, তারা যৌক্তিক কোন প্রমাণ সাপোর্ট করতে চায় না, আবার যৌক্তিক কোন প্রমাণ দিতেও পারে না। এ কেমন যৌক্তিক বিচার? নাকি অন্ধত্বকে বরণ করে অন্ধই হয়ে আছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু পুরোহিত সহ ভক্ত বাবুরা?
জন্মান্তরবাদের সুস্পষ্ট কোন যৌক্তিক প্রমাণ ত্রিপিটকের(অধ্যয়নাংশ) কোথাও উল্লেখ পাওয়া যায় না। সম্ভবত অবতারবাদীরাই জন্মান্তরবাদের সূচনা করেছেন বৌদ্ধদর্শনে, যা একেবারেই চলে না, এ থেকে এখনও বৌদ্ধরা পরজন্মবাদ হতে বেরিয়ে আসতে পারেনি, এর কোন যৌক্তিকতা তারা খোজতেও রাজি নন। বরং গায়ের জোড়েই অন্ধত্বকেই নিয়ে লাপালপি করছেন, ভক্তিবাদেই তারা বুদ্ধকে খোজে পেলেন, কিন্তু অন্যদিকে বৌদ্ধদর্শনে ভক্তিবাদ মোটেও স্বীকার করে না একদল বৌদ্ধজাতি, স্বীকার করে যৌক্তিকতা ও প্রমাণতা।

মোট কথা ত্রিপিটক একটি বিশাল গুচ্ছ সংকলন, যা যুগে যুগে নানা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়ে এসেছে, যার কারণে ত্রিপিটকেই স্ববিরোধ দেখা যায় পদে পদে…!
স্পষ্ট কথা, মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন- গুরু বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই, জাতি বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে তাও নয়, শাস্ত্রে আছে বলেই মেনে নিতে হবে এমন নয়, আগে বোধগম্য কিনা দেখো, পরীক্ষণ চালাও, গ্রহণীয় হলে গ্রহণ করো যেটা বাস্তবিক কল্যাণকর ও শ্রদ্ধার।

তবে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ভক্ত বাবুরা ঈশ্বর-আত্মা নিয়ে অন্যমতাবলম্বীদের সাথে চুলছেড়া যৌক্তিক বিবাদ করলেও, পূনজন্ম নামক কুসংস্কারটিকে আগলে ধরে আছেন অন্ধত্ব ভাবে কেন? এর পেছনে কি কোন স্বার্থ আছে?
এমন বৌদ্ধিকদের যৌক্তক বিচার দেখে কেবল হাসিই  পায়…..।
সেই কারণেই সম্ভবত নারীদের পুরুষ প্রার্থনা নামক অতিহীন ব্যবস্থা প্রচলিত করতে পুরুষরা সক্ষম হয়েছে। সুতরাং, এসব কুসংস্কার হতে বেরিয়ে আসার আরো দৃঢভাবে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। আমাদের বৌদ্ধধর্ম বা ত্রিপিটকের গন্ডি হতে বেরিয়ে এসে মুক্তমনের হওয়া উচিৎ।

বৈষম্য আর নয়, নারী-পুরুষ প্রকৃতির।

5 thoughts on “কেন আমি বৌদ্ধধর্মের বিরোধিতা করি? (পর্ব- ১)

  • September 22, 2019 at 2:25 PM
    Permalink

    ওনার লেখা বা বিশ্লেষণ পরে আমার ধর্য্যচুতি ঘটেছে ওনার লেখনীর মধ্যে বৌদ্ধের কোন কথা ভুল প্রমান করার পক্ষে যৌক্তিক যুক্তি দিতে পারেননি যেটুকু  করেছেন ওনার মনের মাধুরী মিশিয়ে করছেন মাএ। আমি নিজে বৌদ্ধ হলেও আমি একজন সমালোচক তবে বৌদ্ধের সমালোচক নই আমি তাদের বিপক্ষে যারা বৌদ্ধের সত্য কুসংস্কার হীন যৌক্তিক ধর্মকে বৌদ্ধ অনুসারীরা ভুলভাবে উপস্তাপন করে কুসংস্কার আচ্চন্ন হয়ে। আমি প্রবল আগ্রহ নিয়ে ওনার লেখা পরতেছিলাম কিন্তু  ওনি আমাকে নিরাস করলেন।

    Reply
  • February 25, 2020 at 8:58 PM
    Permalink

    Visit: http://www.vridhamma.org
    ——————————————

    The teaching of Buddha isn’t understood by study .Buddha always emphasizes to do practice & depend on your own directl wisdom through practicing. Buddha says Philosophy also bondage only depend your direct experience…

    Reply
  • June 14, 2020 at 7:07 PM
    Permalink

    স্পষ্ট কথা, মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন- গুরু বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই, জাতি বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে তাও নয়, শাস্ত্রে আছে বলেই মেনে নিতে হবে এমন নয়, আগে বোধগম্য কিনা দেখো, পরীক্ষণ চালাও, গ্রহণীয় হলে গ্রহণ করো যেটা বাস্তবিক কল্যাণকর ও শ্রদ্ধার।
    ,
    আপনি নিশ্চয়ই এ কথাটা লিখেছেন, হুবহু না হলেও ঠিক ধরে নিলাম।
    ,
    এই বাক্য অনুসারে ত্রিপিটক আর যাই হোক, হালনাগাদ করা সম্ভব নয় কী?? অবশ্যই সম্ভব
    ,
    ত্রিপিটককে মানতে হবে কে বলে?? বুদ্ধ এটাও বলেছেন যে কোনো গ্রন্থকে স্বতঃপ্রমাণিত স্বীকার না করা, আপনি এটা দেখেছেন কি?? আরো আছে ঈশ্বরের অস্তিত্বের অস্বীকার করার যুক্তি।
    ,
    ত্রিপিটককে বর্তমানে যৌক্তিকভাবে হালনাগাদ হচ্ছে না,তাতে বৌদ্ধদের দোষ হয়, বুদ্ধের নয়।
    ,
    বুদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য নিজে বিনয় আদেশ করেছেন??? তিনি তো জনমতকে প্রাধান্য দিয়ে বিনয় ঘোষণা করেছেন,তাও সন্ন্যাসীদের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য নয়।
    ,
    পূর্বজন্মের প্রমাণ নেই এবং অপ্রমাণও নেই,এটা বিশ্বাস মাত্র,এবং অবৈজ্ঞানিক। যদি এটা ব্যবহার করে শাসক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা হয় তাহলেই এটা ক্ষতিকর,
    ,
    কিন্তু যারা ধ্যান সাধনার মাধ্যমে বাস্তবতা অনুভব করতে চায় (বৈজ্ঞানিক হোক বা না হোক) তাদের জন্য পূর্বজন্মের বিশ্বাস কীভাবে ক্ষতি করে?? তারা না চাইলে তারা এটা বাদ দিতেই পারে, আপনি কে বলার?? আবার মনে করিয়ে দিই, আপনি নিজেই লিখেছেন
    ,
    স্পষ্ট কথা, মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন- গুরু বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই, জাতি বলেছে বলেই বিশ্বাস করতে হবে তাও নয়, শাস্ত্রে আছে বলেই মেনে নিতে হবে এমন নয়, আগে বোধগম্য কিনা দেখো, পরীক্ষণ চালাও, গ্রহণীয় হলে গ্রহণ করো যেটা বাস্তবিক কল্যাণকর ও শ্রদ্ধার।
    ,
    আপনি যা লিখেছেন সবি তো বৌদ্ধদের, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দোষ দেখিয়েছেন, কুসংস্কার, সেগুলো তো সবাই জানে। দোষের ঠিক আছে, শুধু সেটাই সমালোচনা করুন।
    ,
    বুদ্ধের মতবাদের দোষ কী ছিল? সেটার কোনো সমালোচনা করতে পেরেছেন??
    ,
    সাম্রাজ্যবাদী ছিল??ভোগবাদ ছিল?? জিহাদী ছিল?? রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার করার আদেশ ছিল??
    ,
    আপনি নিশ্চয়ই মুসলিম অথবা অন্য পরিবারের, কারণ বুদ্ধের মত উচ্চ মার্গের দার্শনিককে আপনি কটাক্ষ করেছেন। যুক্তিবাদী, নিরীশ্বরবাদী এই মানুষটিকে আপনি চিনতে পারেননি।
    ,
    আপনার জন্য সর্বশেষ বার্তা হল,
    ” এটা ধর্ম নয়”
    আপনি ধর্ম ত্যাগ করেন নি, কারণ এটা কখনো ধর্মই ছিল না। বানানো হয়েছে।
    ,
    জনাব আসিফ মহিউদ্দীন, অথবা সন্মানিত লেখকগন, দয়া করে আপনি এই লেখকের লেখাটা হালনাগাদ করতে অনুরোধ জানান। আশা করি আপনারা আমার অনুরোধ রাখবেন, না হলে স্ববিরোধীতা হবে

    Reply
  • August 15, 2020 at 1:57 AM
    Permalink

    “বিশ্বাসে মিলায় বস্তুু, তর্কে বহুদুর”।

    অনেক আশা নিয়ে পুরো গদ্যটি পড়েছি। গদ্যের শুরুটা যেমন ছিল তাতে মনে হয়েছিল এবার নাস্তিকতাকে বৌদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে যৌক্তিকতার সাথে দ্বার করাতে সক্ষম হবো (যদিও ইসলাম, খৃষ্টান, সনাতন ও পরমেশ্বর পুজারীদের ধারনানুসারে বৌদ্ধরা নাস্তিক)। কিন্তুু বিধিবাম। লৌকিক এবং পারলৌকিক বিষয়ে আমারো সংশয় ছিল। কিন্তুু সংশয় কাটলোনা। পুরো গদ্যটি পড়ে যা বুঝলাম,
    “জ্ঞান যেখানে স্বীমাবদ্ধ
    যুক্তি সেখানে আড়ষ্ট
    মুক্তি সেখানে অসম্ভব”।

    (চাইনু মারমা)

    Reply
  • October 15, 2020 at 12:12 AM
    Permalink

    ত্রিপিটক,
    ত্রিপিটক বৌদ্ধ ধর্মীয় পালি গ্রন্থের নাম। বুদ্বের দর্শন এবং উপদেশের সংকলন। পালি তি-পিটক হতে বাংলায় ত্রিপিটক শব্দের প্রচলন। তিন পিটকের সমন্বিত সমাহারকে ত্রিপিটক বোঝানো হচ্ছে। এই তিনটি পিটক হলো বিনয় পিটক, সূত্র পিটক ও অভিধর্ম পিটক।

    ত্রিপিটক
    পিটক শব্দটি পালি এর অর্থ – ঝুড়ি, পাত্র, বাক্স ইত্যাদি, অর্থ যেখানে কোনো কিছু সংরক্ষন করা হয়।[১] এটি থেরবাদী বৌদ্ধদের মূল ধর্মীয় গ্রন্থ। খ্রীষ্ট পূর্ব ৩য় শতকে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে ত্রিপিটক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হিসাবে স্বীকৃত হয়। এই গ্রন্থের গ্রন্থনের কাজ শুরু হয়েছিল গৌতম বুদ্ধ এর পরিনির্বানের তিন মাস পর অর্থাৎ খ্রিষ্ট পূর্ব ৫৪৩ অব্ধে এবং সমাপ্তি ঘটে খ্রিষ্ট পূর্ব প্রায় ২৩৬ অব্ধে। প্রায় তিনশ বছরে তিনটি সঙ্ঘায়নের মধ্যে এর গ্রন্থায়নের কাজ শেষ হয়। আর এতে অংশগ্রহণকারী পন্ডিত অরহত ভিক্ষু ছিল ২২০০ জন।[২]

    ভাগ সম্পাদনা
    ত্রিপিটককে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:

    অভিধর্ম পিটক
    বিনয় পিটক
    সূত্র পিটক
    ত্রিপিটকে ধর্মস্কন্দের বিন্যাস সম্পাদনা
    ধর্মস্কন্দ্ব অর্থ – ধর্ম পরিচ্ছেদ বা বিষয় বিভাগ। অর্থাৎ ত্রিপিটকে বর্ণিত ক্ষুদ্র ও বৃহৎ প্রত্যেক বিষয়কে এক একটি স্কন্দ্ব বলা হয়। ত্রিপিটকে এরুপ চুরাশি হাজার (৮৪০০০) ধর্মস্কন্দ্ব রয়েছে। তার মধ্যে বিনয় পিটকে একুশ হাজার (২১০০০), সূত্র পিটকে একুশ হাজার (২১০০০) ও অভিধর্ম পিটকে বেয়াল্লিশ হাজার (৪২০০০)। এই চুরাশি হাজার বুদ্ধ বচন বা বুদ্ধ উল্লেখিত বিষয় বা শাস্ত্রবাক্য এই ত্রিপিটকে বিদ্যমান।

    ত্রিপিটকের ভাষা সম্পাদনা
    খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক হতে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতক অবধি পালি ভাষা এবং এই ভাষায় রচিত সাহিত্য সমুহ ক্রমবিকাশের পথে অগ্রসর হয়েছে । গৌতম বুদ্ধের ব্যবহৃত ভাষা হিসাবে এই ভাষার ইতিহাস সর্বাধিক গুরুত্ব লাভ করে। বুদ্ধ তার ধর্ম আদর্শ প্রচারের জন্য সমগ্র উত্তর ভারত পরিভ্রমন করেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মানুষদের সর্বজন বোধ্যতার তাগিদে পালি ভাষার প্রচলনের প্রসার ঘটে। ক্রমে বৌদ্ধ ভিক্ষু মন্ডলি ধর্মালোচনার মাধ্যম হিসাবে এই ভাষাতেই দক্ষতা অর্জন করেন। বুদ্ধ নিজে ও এই ভাষাতেই ধর্মদেশনা দিতেন। তাই পরবর্তিতে এই ভাষাতেই( পালিতে) মুল ত্রিপিটক গ্রন্থ রচিত ও সংরক্ষিত হয়।[৩]

    গ্রন্থন পূর্বক ত্রিপিটকের অবস্থা সম্পাদনা
    বুদ্ধের সময়কালে বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ ধ্যানে-জ্ঞ্যানে অত্যন্ত উচ্চ মার্গের চেতনা সম্পন্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে যে যেই বিষয়ে সাধনা করতেন সে সেই বিষয়ে অত্যধিক উন্নতি সাধন করতেন। এই সময়ে ভিক্ষুদের মধ্যে সুত্রধর, বিনয়ধর এবং মাতিকাধর নামে তিন ধারার সাধনাকারী ভিক্ষু ছিলেন।[৪] এই তিন শ্রেণীর ভিক্ষুগণ সকলেই ছিলেন স্মৃতিধর।

    স্মৃতিধর এই ভিক্ষুগণ শ্রুতি থেকে স্মৃতিতে বুদ্ধ বাণীকে সংরক্ষন করতেন। নিরন্তর অধ্যবসায়ে ভিক্ষুগণ তাদের শিষ্য পরম্পরায় এই রীতি সচল রাখতেন। বুদ্ধের শিষ্যদের মধ্যে প্রায় প্রত্যেকেরই এই শ্রুতি ও স্মৃতি ক্ষমতা ছিল। তাই ত্রিপিটক গ্রন্থনের পূর্বে সুত্রধরেরা সূত্র, বিনয়ধরেরা বিনয় এবং মাতিকা ধরেরা অভিধর্ম পিটক স্মৃতিতে রাখতেন।

    ত্রিপিটক সংকলনে সঙ্গায়নের ভূমিকা সম্পাদনা
    সঙ্গায়ন হচ্ছে ত্রিপিটকের মূল বিষয় সমূহ নিয়ে আলোচনা- পর্যালোচনা সভা। [৫] সঙ্গীতি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ধর্মসভা, সম্মেলন, পুনরায় শ্রবণ করা বা বিবেচনা করা, সমবেতভাবে উচ্চারণ, ঘোষণা ইত্যাদি।বিভিন্ন অর্থ পাওয়া গেলেও বৌদ্ধসাহিত্যে সঙ্গায়ন বা সঙ্গীতি শব্দটির অর্থ সভা বা সম্মেলন বোঝায়। [৬] বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর হতে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কিত প্রশ্ন মীমাংসা, প্রকৃত বুদ্ধবাণী নির্ধারণ, সংকলন, সংরক্ষণ, বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং প্রচার প্রসারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা বৌদ্ধধর্ম ইতিহাসে সঙ্গীতি নামে পরিচিত।

    সম্রাট অশোক এবং মোগ্গলিপুত্ত-তিষ্য তৃতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতি, পাটলিপুত্রে

    এসব সভায় শত শত প্রবীন জ্ঞানী এবং অর্হৎ ভিক্ষু উপস্থিত থাকতেন। আলোচ্য বিষয়ের গুরুত্বানুসারে এসব সভা কয়েকমাস ব্যাপী চলতো। [৭] থেরবাদী ঐতিহ্যানুসারে এই পর্যন্ত ছয়টি মহাসঙ্গীতির কথা জানা গেছে।

    ত্রিপিটক সংকলনে বৌদ্ধ ঐতিহাসিক গ্রন্থের সত্যতা সম্পাদনা
    বৌদ্ধ ঐতিহাসিক গ্রন্থ গুলোতে ত্রিপিটক সংকলনের উপযুক্ত তথ্য পাওয়া যায়। মহাবংস ও দীপবংস গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়-

    “পিটকত্রয় এবং তার অট্ঠকথা পূর্বে মহাজ্ঞানী(মহামতি) ভিক্ষুগণ কন্ঠে ধারণ করে নিয়ে এসেছিলেন(সিংহলে)। সেই সময় সত্ত্বগণের পরিহানি লক্ষ্য করে ভিক্ষুগণ সমবেত হয়ে ধর্মের চিরস্থায়িত্বের জন্য পুস্তক আকারে লিপিবদ্ধ করেন।”

    চূল্লবংস গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়- “পালিমত (ত্রিপিটক) এখানে (জম্বুদ্বীপ) আনা হয়েছে, অট্ঠকথা এখানে নেই; আচরিয়বাদ এবং অন্যান্য মতবাদও এখানে দেখা (পাওয়া) যায় না। সীহলট্ঠকথা শুদ্ধ, বুদ্ধ দেশিত এবং শারিপুত্র প্রমুখ আচার্য কর্তৃক ব্যাখ্যাকৃত, তিনটি সঙ্গীতিতে আবৃত্তি কৃত এবং মহিন্দ থের কর্তৃক সিংহলে প্রচারিত ও সিংহলী ভাষায় অনূদিত।”

    সদ্ধম্ম সংগহো গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়- ” হে বুদ্ধঘোষ! জম্বুদ্বীপে কেবল পালি পিটকত্রয়ই (ত্রিপিটক) আছে, তার অট্ঠকথা এবং আচরিয়বাদ নেই। শারিপুত্র প্রমুখ কৃত এবং সঙ্গীতিত্রয়ে সংকলিত সিংহলী অট্ঠকথা মহিন্দ থের কর্তৃক সিংহলী ভাষায় অনূদিত হয়ে সিংহলদ্বীপে সংরক্ষিত আছে।”

    গন্ধবংস গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়- “প্রথম মহাসঙ্গীতিতে ৫০০ ক্ষীণাসব (অর্হৎ) নাম, অর্থ, উদ্দেশ্য, পদ, ব্যাখ্যা এবং পরিশোধনসহ পঞ্চনিকায় সংগ্রহ করেছিল। দ্বিতীয় সঙ্গীতিতে ৭০০ ক্ষীণাসব (অর্হৎ) পুনরায় শব্দের অর্থাদি সংকলন করেছিলেন। তৃতীয় সঙ্গীতিতে ১০০০ ক্ষীণাসব (অর্হৎ) পুনরায় শব্দের অর্থাদি সংকলন করেছিলেন। মোট ২২০০ জন ভিক্ষুই ছিলেন পোরাণাচার্য বা প্রাচীন আচার্য। এরূপ মহাকচ্চায়নসহ ২২০০ জন ক্ষীণাসব (অর্হৎ) পোরাণাচার্য নামে কথিত। পোরাণাচার্যগণই অট্ঠকথাচার্য।”

    সাসনবংস গ্রন্থে নিমোক্ত তথ্য পাওয়া যায়- ” অতঃপর, বুদ্ধঘোষ থের’র সিংহলদ্বীপ গিয়ে ত্রিপিটক লিখন এবং অট্ঠকথা সংকলন করেন। এ বিষয়ে মনে সংশয় উৎপাদন অনুচিত। বুদ্ধঘোষ থের পিটকত্রয় লিখে পরে জম্বুদ্বীপে ফিরে এসেছিলেন।”

    এছাড়াও আরো অনেক বৌদ্ধ গ্রন্থে ত্রিপিটক সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

    ত্রিপিটকের অভ্যন্তরীণ গ্রন্থের পরিচয় সম্পাদনা
    ষষ্ঠ বৌদ্ধসংগীতি অনুসারে নিম্নে তা দেওয়া হলো-

    ১) বিনয় পিটক

    পারাজিকা
    পচিত্তিয়া
    চুলবগগ্
    মহাবগগ্
    পরিবার পাঠো
    ২) সূত্র পিটক

    দীর্ঘ নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত)
    মজ্ ঝিম নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত)
    সংযুক্ত নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত)
    অঙ্গুত্তর নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত)
    খুদ্দক নিকায় (19 টি সতন্ত্র গ্রন্থ আছে)
    খুদ্দক পাঠো
    ধম্মপদ
    উদান
    ইতিবুত্তক
    সুত্তনিপাত
    বিমানবত্থু
    পেতবত্থু
    থের গাথা
    থেরী গাথা
    জাতক (৫ খন্ড)
    মহানিদ্দেশ
    চুল্ল নিদ্দেশ
    পটিসম্ভিদামগ্গ
    অপদান
    বুদ্ধবংস
    চরিয়ানাপিটক
    মিলিন্দ প্রশ্ন
    নেত্তিপ্পকরণ
    পেটকোপদেশ[৮]
    ৩) অভিধর্ম পিটক

    ধম্মসঙ্গণি
    বিভঙ্গ
    ধাতুকথা
    পুগ্ গলপঞ্ঞত্তি
    কথাবত্থু
    যমক
    পটঠান[৯][১০]
    জনাব, আসিফ মহিউদ্দিন, আপনার কাছে বিশেষ অনুরোধ উপরোক্ত বিষয়াবলি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পড়ে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা করবেন?.।
    আপনার লেখা পড়ে মনে হলো আপনি বুদ্ধ এবং বৌদ্ধ কাকে বলে জানেন কিনা সন্ধিহান???
    [email protected]

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *