fbpx

হস্তমৈথুন- ধর্ম এবং বিজ্ঞান

টপিক দেখেই অনেকেই কি অলরেডি ভ্র কুচকিয়ে ফেলেছেন? কি বলে এই নাস্তিকের বাচ্চা? আমাদের সমাজে কিছু ট্যাবু আছে যেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলতে সংকোচ বোধ করি। এগুলোকে আঘাত দিয়ে ভাঙ্গার জন্যেই আমার এই লেখা। আমাদের দেশে তিনটি বিষয় নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষ সচেতন না বা আলোচনা করতে চায় না —

  • ১)ধর্ম
  • ২)রাজনীতি
  • ৩)সেক্স

রাজনীতির ব্যাপারে তাও মফস্বলের মানুষ অনেক আড্ডাবাজী করে কিন্তু রাজনীতির ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ কিছুই জানে না । আর আমরা যতই শিক্ষিত হই ,ধর্মের ব্যাপারে সবাই সবকিছু ছেড়ে দেয় মাদ্রাসা পাস এক বইয়ের হুগুরদের কাছে। আর টকিং এবাউট সেক্স???

স্পিকটি নট।

তাই আমার আজকের বিষয় মাস্টারবেট । এটা কি ? এটা কি ধর্মে নিষিদ্ধ? এবং এ ব্যাপারে মনস্তত্ববিদ ও বিজ্ঞান কি বলে ? এবার আমি মূল আলোচনায় যাব। তবে এ ব্যাপারে পড়তে হলে অজু ছাড়া পড়তে হবে। নাহলে ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা আছে।

হস্তমৈথুন কি?

হস্তমৈথুন মানে যৌন পরিতোষের জন্য পুরষের লিঙ্গ বা নারী ভগান্কুর ঘর্ষণ(stimulation) করে যৌনানন্দ উপভোগ করা ।এটা সম্পর্কে প্রত্যেকেরই নিজস্ব উপলব্ধি বা অভিজ্ঞতা হয় এবং সবাই ভাবতে থাকে – হায়হায় ! এটা কি শুধু আমার সাথেই হচ্ছে? ছোটকাল থেকেই মানুষ ধর্মের বেড়াজালে থাকে বলে এ নিয়ে গভীর পাপবেধে আক্রান্ত হয় এবং ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকে । আসুন জেনে আসি কোন ধর্ম এ ব্যাপারে কি বলে ?

পৃথিবীর সমগ্র ধর্মগুলো হস্তমৈথুনকে একেক ধর্ম একেক ভাবে দেখে। বেশিরভাগ ধর্মই একে খারাপ চোখে দেখে এবং পাপ হিসেবে গণ্য করে । আবার কিছু কিছু আধুনিক ধর্ম একে বৈধতা দেয় এই বলে যে এতে মানুষ তার যৌনাকাঙ্খাকে আত্মসংযমে সাহায্য করে । মোদ্দা কথা হল , বেশীরভাগ ধর্ম এ নিয়ে কথা বলতে চায় না এবং এটাকে পাপকার্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ।

সনাতন ধর্ম কি বলে ?

সনাতন ধর্ম মতে , জীবনের চারটি উদ্দেশ্যর মধ্যে কাম কার্যকে একটি উদ্দশ্যে মনে করে। হিন্দু ধর্মের ব্রম্মাচার্য শাখা ছাড়া সকল শাখাই যৌনাকাঙ্খায় পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। প্রাচীন কামাসুত্রে (চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতাব্দী) হস্তমৈথুনকে নিষিদ্ধ করা হয়নি এবং সেখানে হস্তমৈথুন করার বিস্তারিত ব্যক্ষা আছে।(সচিত্র)।

ইহুদিধর্ম মতে হস্তমৈথুন কি নিষিদ্ধ?

তালমুদ ধর্মগ্রন্হ মতে হস্তমৈথুন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এটা অপ্রয়োজনীয় বীর্যপাত ঘটায় এবং মনকে কলুষিত করে।

বৌদ্ধধর্ম কি বলে ?

বৌদ্ধধর্মটি গৌতমবুদ্ধের একটি মতাদর্শ বা জীবনের চলার জন্য একটা বিধান । কিন্তু একে এখন ধর্ম হিসেবে চালানো হয়। এই পদ্ধতি বা মতাদর্শে দেখানো হয়েছে কিভাবে মানুষ তার দু:ক্ষ দুর করবে এবং সাংসারিক কাজকর্ম থেকে দুরে সরতে পারে। পালি র ভাষ্যমতে হস্তমৈথুনকে মানব জীবনের চলার পথে সমস্যা হিসেবে ভাবা হয়। সার কথা হচ্ছেএই মৈথুন আপনাকে আলোকিত (enlighten) হতে বাধা দেয়। তাই যারা সাধক( monk) তারা হস্তমৈথুন করেন না। পার্থিব কোন সুখের মধ্যে তারা নেই ।

খ্রীষ্টধর্ম কি বলে ?

বাইবেলে কোথাও নির্দিষ্ট করে বলা নেই যে হস্তমৈথুন একটি পাপ কাজ। তবে ক্যাথলিক চার্চে এটা শেখানো হয় যে হস্তমৈথুন আপনার নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। এবং একে বিকৃত ও গুরুতর পাপ হিসেবে ব্যক্ষা দেয়। যে কোন কিছু যা নৈতিক আদর্শচ্যুতি ঘটায় তা খ্রীষ্টধর্মে নিষিদ্ধ।

হস্তমৈথুন

ইসলামে কেন ইহা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?

ইসলামী স্কলাররা সাধারনত বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া হস্তমৈথুন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা দেয়। কুরানে ২৩ নম্বর সুরার ৫-৭ নম্বর আয়াতে বলা আছে-

“এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ সংযত রাখে তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না । অত:পর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে সীমালংঘনকারী হবে”

তারপরেও যদি কারও যৌনাকাঙ্খা অবদমিত করা কষ্টকর হয়ে পরে সেক্ষেত্রে হস্তমৈথুনঅনুমোদন দেয়া হয়েছে তবে সেক্ষেত্রে সেটা হবে ভীষণ দুর্ভিক্ষে মৃত শুকরের মাংস খাওয়ার মত এবং যখন অন্য কোন খাবার না মেলে ।

ধার্মিক ও নিধার্মিকদের মধ্যে হস্তমৈথুন নিয়ে প্রতিক্রিয়া

২০১১ সালে বিখ্যাত আমেরিকান মনস্তত্ববিদ ড্যারেল রে sex and god নামে একটি বই প্রকাশ করেন এবং সেই বইয়ের একটি টপিক মাস্টারবেশন নিয়ে একটি অনলাইন সার্ভে করেন যেখানে তিনি প্রায় ১৪০০০ ধার্মিক ও অধার্মিক ব্যক্তিদের হস্তমৈথুন নিয়ে প্রশ্ন করেন। তার প্রশ্নগুলো ছিল –

-আপনি কখন হস্তমৈথুন শুরু করেন ?

-আপনি ওরাল সেক্স কবে শুরু করেন?

-আপনি কবে থেকে সরাসরি সেক্স শুরু করেন?

এবং তুলনা করার পর আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা যায় ধার্মিক ও অধার্মিকদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই । ছেলেরা ৯৪% ও মেয়েরা ৭৫% ।

আরও অবাক করা তথ্য হল ধার্মিক ব্যাক্তিরা বেশি পর্ণগ্রাফি দেখে অধার্মিকদের চেয়ে। কারণ তাদের মনের অবদমিত কামনা বাসনা তারা পূরণ করতে পারেনা অন্যের সাথে সেক্স করে । তাই তারা নীলছবির দারস্থ হয়।

আপনি ধার্মিক হন আর না হন সার্ভে এটাই প্রমাণ করে যে এটি একটি প্রাকৃতিক ব্যাপার । এবং আপনারা আপনাদের ছোটকালের স্মৃতি মনে করলেই খেয়াল করবেন কখনো কখনো আপনার কাপড় বা বিছানার চাদর ভেজা । অনেকে এটাকে স্বপ্নদোষ বলত । এর যৌক্তিক কারণ হচ্ছে, আপনি নিজ থেকে না করলে সেটা প্রাকৃতিক ভাবে হয়ে যাবেই।

ড্যারেল রে ধার্মিক ও অধার্মিকদের মধ্যে শুধুমাত্র একটি পার্থক্য খুজে পান । তা হল – ধার্মিকদের মধ্যে

“গভীর পাপবোধ ও অনুশোচনা”

যেকোন কিছু যখন দমিয়ে রাখা হয় , তার প্রতি আকর্ষণ আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।সব ধর্মেই বিবাহ বহির্ভুত হস্তমৈথুন, সেক্স নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পর্ণগ্রাফি দেখা নিষিদ্ধ। কিন্তু তাই বলে কি ধার্মিক দেশগুলো থেকে এসব কমে গেছে? বরন্চ পাকিস্তান পর্ণ দেখায় হয়েছে প্রথম, আর বাংলাদেশে আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন।

বিজ্ঞান কি ব্যক্ষা দেয় হস্তমৈথুনের ?

সাইকোলজি আর বিজ্ঞান দেখিয়েছে যে হস্তমৈথুন একটি  প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বিশেষত তরুণদের মধ্যে।

হস্তমৈথুনের সুবিধাগুলো হল-

1)এটি আপনার মনকে প্রফুল্ল করে । আপনার পার্টনার ছাড়াই আপনি আপনার সারাদিনের ব্যস্ততা থেকে ,অবসাদ থেকে মুক্তি পান হস্তমৈথুন করেই ।সেক্সোলজিস্ট এভা ক্যাডেলের মতে

“Masturbation acts as a de-stressor and an antidepressant. It stimulates the release of pleasure endorphins from the brain, which flood the body and boost your mood-just like sex”

2)হস্তমৈথুনের পর ঘুম আসে খেয়াল করে দেখেছেন? এবং সেই ঘুম অনেক গভীর হয় ও উন্নতমানের (quality sleep) । কারণ যখন পুরুষের বীর্য বের হয়, তার সাথে কিছু ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল যেমন –

অক্সিটোসিন,ভাসপ্রেসিন,প্রোল্যাক্টিন নামক কিছু পদার্থ বীর্যের সাথে বের হয়ে যায়, যা আপনার মাঝে ক্লান্তি এনে দেয় এবং রিপোর্ট সাইন লাইন একটি নতুন জানালা খোলে । হস্তমৈথুন শরীরের উপর প্রাকৃতিক ঘুমের প্রভাব বৃদ্ধি করে প্রতিদিনের স্ট্রেসের সাথে লড়তে পারে ।

3)সর্দি ঠান্ডা থেকে মুক্ত করে হস্তমৈথুন???

ভাবতে অবাক লাগলেও কথা সত্য। Neuroimmunomodulation জার্নালে একটি পরীক্ষার রেজাল্ট পাবলিশ হয় যেখানে ১১ জন ভলান্টিয়ারকে হস্তমৈথুন করতে বলা হয় এবং শুরুর থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ত পরীক্ষার পর দেখা যায় বীর্যৎপাতের সময় কিলার (killer cells called leukocytes) বৃদ্ধি পায় যা ছেলেদের শরীরের ইম্যুয়ুন সিস্টেম বাড়াতে সাহায্য করে।

4)প্রস্টেট ক্যানসার থেকে প্রতিরোধ করে

পুরনো স্পার্ম শরীর থেকে অপসারন করার মাধ্যমে নতুন স্পার্মের সৃষ্টি হয় যা ৩৩% ক্যানসার প্রতিহত করে । ২০০৪ সালে হার্ভাড স্টাডি জানতে পারে যে যারা মাসে ২১ বার হস্তমৈথুন করে তাদের প্রস্টেট ক্যানসার হওয়ার সম্ৰাবনা কমে যায় তাদের তুলনায় যারা মাসে ৫-৭ বার হস্তমৈথুন করে । এখানে ক্যাডেলের কথা হুবুহু তুলে দিচ্ছি

“The exact link between masturbation and prostate cancer risk is unclear, but flushing the prostate of carcinogens that could cause problems is the objective.”

এছাড়াও

5)Improve heart health

6)Reduce risk of Erectile dysfunction

7)Helps you last longer

8)Makes you look younger

9)Prevents sexually transmitted diseases

10)Increase your lifespan

তথ্যসুত্র- 10 BENEFITS OF MASTURBATING

শেষমৈথুন:

যেকোন কিছুই অতিরিক্ত করাই খারাপ। আপনি যদি আপনার শরীরের চাহিদার চেয়ে বেশি পানি পান করেন , সেটাও আপনার শরীরের জন্য খারাপ। প্রতিদিন ২/৩ বার হস্তমৈথুন করাও তেমনি শরীরের জন্য ভাল নয়। আপনার মস্তিস্ক চাচ্ছে না কিন্তু আপনি জোর করে পর্ণ দেখে আপনার মস্তিস্ককে বাধ্য করছেন হস্তমৈথুন করার জন্য । সেটা কি ভাল হবে? যখনই একা থাকবেন , চেষ্টা করবেন নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ,এটা নিষিদ্ধ না ভেবে এটাকে প্রাকৃতিক ভাবুন। কাউকে ধর্ষণ করার চিন্তা ছাড়াই হস্তমৈথুন করা যেতেই পারে। মনের চিন্তা যে মনে দমিয়ে রাখতে পারে সেই প্রকৃত মানুষ নয়কি?

কোথায় যেন একটা প্ল্যাকার্ড দেখেছিলাম যেটা খুব ভাল লেগেছিল –

হস্তমৈথুন

For further information:

Masturbation
Masturbation
Masturbation Effects on Your Health: Side Effects and Benefits

লিখেছেনঃ Jalaluddin Rumee

One thought on “হস্তমৈথুন- ধর্ম এবং বিজ্ঞান

  • April 18, 2019 at 11:50 PM
    Permalink

    ভালোই লাগলো তবে খতির দিগ গুলি কেন লেকলেননা?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *